সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭ ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ

Home / slide / আওয়ামী লীগ নেতার বাধায় রাবির নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ

আওয়ামী লীগ নেতার বাধায় রাবির নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ

রাবি প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) স্কুলের আয়া ও মালি নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার সকাল নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইআর) শুরু হওয়া নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা বন্ধ করে দেন তারা।

জানা যায়, বুধবার সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়া ও মালি নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলছিলো। এসময় নগরীর মতিহার থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ২০/২৫ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীর পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আনসার উদ্দিনকে পরীক্ষা বন্ধ করার জন্য বলে কক্ষের ভিতরে থাকা টেবিলের ওপর জোরে জোরে আঘাত করা শুরু করেন। বাধ্য হয়ে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেন ও অফিস কক্ষের সামনে অনিবার্য কারণ বশত পরীক্ষা বন্ধের নোটিশ টানিয়ে দেন।

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আনসার উদ্দীন বলেন, মতিহার থানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করতে বলেন। তাদের সঙ্গে তো আমরা ঝগড়া করতে পারি না। পরীক্ষা নেওয়া বন্ধ না করলে অন্যরকম পরিস্থিতির তৈরি হতো, তাই অমি বন্ধ করে দিয়েছি।’

মতিহার থানা আয়াওমী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বলেন, আমরা শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালনকের সঙ্গে দেখা করে কর্মচারি নিয়োগে বয়সের বিষয়ে কথা বলেছি। প্রশাসন কর্মচারি নিয়োগে সর্বোচ্চ বয়স সীমা ৩০ বছর নির্ধারণ করেছে। আমরা তাদেরকে শুধু বয়সের এই বাধ্যবাধতা তুলে নিয়ে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করার জন্য বলেছি। সেই সঙ্গে কর্মচারি নিয়োগে যে যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে তা তুলে নেয়ার জন্যও  অনুরোধ করেছি।

এবিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘কর্মচারি নিয়োগে আয়ার যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে মেট্রিক পাশ। আয়া পানি, চা আনা-নেওয়া করবে তার এতো যোগ্যতা লাগবে কেন? আবার কম্পিউটার চালানোর যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে। এ যোগ্যতা চাইলে তো আমাদের সংগঠনের কেউ চাকরি পাবে না। যাই হোক তারা এ দাবি তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। তাদের এ দাবির মুখে আজকের সকালে যে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিলো তা বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। পরে আমি গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এসেছি, যেনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘ইনস্টিটিউট তো নিজস্ব পক্রিয়াতে নিয়োগের বিষয়টি দেখে। সেখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এখন আইআর যদি লিখিতভাবে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তবে আমরা বিষয়টি দেখতে পারি।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী অঞ্চলে বিদ্যুতের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সামাজিক সংগঠন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *