Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • এমপি এনামুল সংসদের প্যানেল স্পিকার নির্বাচিত, মোহাম্মদ আলীর অভিনন্দন– বিস্তারিত....
  • রাজশাহীর মুসা রাজাকার আটক– বিস্তারিত....
  • রাজশাহীতে নবজাতক চুরি : মাঠকর্মী রিমান্ডে, তদন্ত কমিটি গঠন– বিস্তারিত....
  • রাবি উপাচার্যের সঙ্গে জাপানী অধ্যাপকের সৌজন্য সাক্ষাৎ– বিস্তারিত....
  • চারঘাটে সিগারেট চুরির অভিযোগে গণধোলাই– বিস্তারিত....

অন্য ভূগোল । বিধান সাহা

ডিসেম্বর ২১, ২০১৬

এভাবে কাঁদতে নেই, প্রজাপতি! আকাশে অবাক করা রোদ। মেঘমালা। অশান্তির পূর্বাভাষ। ধরো, নদীমাতৃক পৃথিবীতে আমিই একমাত্র ঢেউ। শৈবালের নিকটে আমিই একমাত্র স্রোতস্বিনী ব্যথা। তুমি হাসো। পৃথিবীতে আজ এতো যে ক্লাসিক উৎসব, তুমি জানো, আমার সুর কোথা থেকে ওঠে আর কোথায় মিলায়? এই যে বটগাছ থেকে চলে যাওয়া নিরুদ্দেশের পথ, তুমি জানো কোন ধ্বনি আজ তাবৎ নীরবতাকে খানখান করে চলে যাচ্ছে? হাওয়ার কাছ থেকে মাতলামি শিখেছিলাম। তাই দিয়ে তোমার জন্য একটা পাতাবাহারের ঘর বানিয়ে দেবো। রাত গভীর হলে টুপটাপ শিশির পতনে তোমার সেই পাতাবাহারের ঘরটা ভিজে উঠবে। মনে করো শিশির হয়ে ঝরে পড়া জলটা আমি। তুমি জানো না, একদিন এক মাতাল রজনী আমাকে দিয়েছিলো ভোরের কুসুম। আমাকে দিয়েছিলো সপ্তব্যঞ্জন। আর আমি ফিরে আসতে আসতে জেনেছিলাম এ সবই অলৌকিক মিথ। আরও জেনেছিলাম, দক্ষিণ থেকে শুরু করা গল্প শেষ হয় না কোনকালে। দক্ষিণি গল্পের এ-ই হলো নির্মম ট্র্যাজেডি। মনে করো, পূজা শেষ হয়ে গেছে। বির্সজনের কাল সমাগত। আর আমি কাঁদছি। দেবী, রোজ রাতে আমার স্বপ্নে অন্তত এসো!

তোমার লেখার ভঙ্গি দেখেও আমি বুঝে নিতে পারি– শহরে শীত আসন্ন। আর পৃথিবীতে অস্ত যাচ্ছে সমূহ সন্ধ্যারাগ। তুমি জানো না, সমস্ত গল্পের শেষে যেখানে একটা শূন্যতা তৈরি হয়, সেখানে প্রতিটি মানুষ এক-একটা সাদা বক। আর, বিভিন্ন আশ্রয়ে সমস্ত জীবনভর মানুষ আসলে একটি জীবনই রচনা করে। তোমাকে বলা হয়নি, চলার পথ কখনও আলাদা হয় না, আলাদা হয় গন্তব্য। এই যে ঘরে ফেরা, চুপচাপ বসে থাকা, এসবের কোনো মানে নেই। মানে নেই, নির্ঘুম জেগে থাকার। তবু আমার জেগে থাকতে ভালো লাগে। মনে হয়, কেউ এসে পেছন থেকে ডাক দেবে। একদিন সব গল্প তুমি একটু একটু করে জানবে। জানবে, কেন আগুনকে প্রিয়তম বলে ডাকি। কেন মুগ্ধতার ভেতর এতো এতো মৃত্যু আর হারানো দিনের গান।

কেন তবে এই দূরত্ব রচনা শুধু? এই যে অলীক সম্মোহন একে তুমি এড়াবে কী করে? দূর তো শুধু দূর নয়, আরো বেশি করে কাছে থাকার ছদ্মবেশ। আজ তুমি চলে এসো। আসন্ন অন্ধকারে পথেই না হয় উড়িয়ে দেবো আমাদের আয়ু।

শোনো, আমি অগ্নিপুত্র। জন্মেই অজস্র মৃত্যু সাথে নিয়ে এসেছি। আর তোমার দিকে তাকিয়েই বুঝে গেছি মৃত্যু আসন্ন। একটা জোনাক পোকা শুধু আলো বিলিয়ে যাক নীরবে। আমার এক চিলতে বারান্দায় তুমিও আজ এসো। রাত আরেকটু গাঢ় হয়ে নামুক। চারপাশে অবিরল ডেকে যাক অসংখ্য ঝিঁঝি পোকা। আমি তোমার নাম জপ করতে করতে আজ অন্তত ঘুমিয়ে পড়তে চাই। কে বলেছিলো অথৈ অন্ধকারে পথে নামতে? অথচ কে না জানে, পথিকের পথই শেষতম ব্রত। তুমি জানো না, একবার এক ইরাবতী আমাকে বলেছিলো, মৃত্যুর মতো সুমহান আবিষ্টতা কেবল আমার হাসিতেই লেগে আছে। একজন বলেছিলো– জাদুকর। সেই থেকে আমিও জবাকুসুম। লাল রঙ দেখলেই পালাই পালাই। কালোর মুগ্ধতায় ভেসে যাই আজও। একজন বলেছিলো– কালো হলো সেই রঙ যার কোনো কলঙ্ক নেই। আমি তোমার জন্য পথে নেমেছি, প্রজাপতি। হরেক রঙের ডানা ঝাপটানো শেষে আমি জানি থেমে যেতে হবে। আমি জানি, মুগ্ধতার আরেক নাম মৃত্যু।

সবে সন্ধ্যা এখন। কেন তবে এই দূরত্ব রচনা শুধু? এই যে অলীক সম্মোহন একে তুমি এড়াবে কী করে? দূর তো শুধু দূর নয়, আরো বেশি করে কাছে থাকার ছদ্মবেশ। আজ তুমি চলে এসো। আসন্ন অন্ধকারে পথেই না হয় উড়িয়ে দেবো আমাদের আয়ু। পৃথিবী জানুক, একটা আলুথালু বয়স এসে আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে গেছে অজানা ভূগোলের দিকে।

আরো শোনো, পৃথিবী নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছে। এক আগুন থেকে বাঁচতে আমিও অজস্র আগুনের দিকে ছুটছি। তোমাকে বলা হয়নি, তোমার ছায়ার সাথে কথা হয় রোজ। আর উন্মাতাল এক ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যাই। আজ কোথায় সে লাল মোরগ? হারানো পায়েল? কোথায়ই-বা নীল চুড়ির অপেরা? বলা হয়নি, তুমি একটা জাদুর আয়না। যেখানে পৃথিবীর তাবৎ দুঃখি মুখ একই সাথে ফুটে ওঠে। আর তুমি হাসতে হাসতে হাওয়ায় মিলাও। মানুষ কখন আগুনকে ভয় পেয়ে আগুনেই ঝাঁপ দিতে চায় তুমি জানো? ধরো, আমি কেউ না। ধরো, আমার পায়ের নিচে মাটি নেই, মাথার উপরে আকাশ নেই, রঙিন মখমল নেই, হলুদ উচ্ছ্বাস নেই, তবু পৃথিবীতে একটা স্বপ্নস্রোত তো বয়ে চলেছেই অবিরাম। কেউ না কেউ আজও তো স্বপ্ন দেখে। হাসে, ভেসে যেতে চায়।

শহরে এক আগন্তুক বাঁশি বাজিয়ে চলেছে। আর বৃষ্টি হচ্ছে কোথাও। তুমি জানো না, তোমার ওড়ার ইচ্ছা থেকে জন্ম নেয়া হুহুপাখি আজ নাগরিক মিথ; আয়ুর ভেতর জেগে থাকা রক্ষাকবচ।

আমার বিষণ্নতার ভেতর—প্রজাপতি–তোমার পাপড়ি দিও মেলে…