ডিসেম্বর ১১, ২০১৭ ৭:২৫ অপরাহ্ণ

Home / slide / নির্বাচনী আচরণবিধির তোয়াক্কা করছেন না রাজশাহীর এমপিরা

নির্বাচনী আচরণবিধির তোয়াক্কা করছেন না রাজশাহীর এমপিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচনী আচরণবিধির কিছুই তোয়াক্কা করছেন না রাজশাহীর সরকারদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য। জেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী, এমপিরা কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু তারা নির্বাচন কমিশনের এমন বিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভোটারদের ডেকে প্রকাশ্যে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাকে ভোট দিতে নির্দেশ দিচ্ছেন।

অবশ্য এক্ষেত্রে তারা কিছুটা কৌশল অবলম্বন করছেন। কখনও কর্মীসভা, কখনও বনভোজন আবার কখনও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কমপ্লেক্স পরিদর্শনের নামে এমপিরা ভোটারদের জড়ো করছেন। এরপর তারা তাদের ‘আসল কথা’ ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করছেন। তাই রাজশাহীজুড়ে যেন এখন ‘বনভোজনের’ মৌসুম চলছে এমপিদের।

গত ১৭ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার একটি পার্কে তানোর উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের ডেকে জেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুব জামান ভুলুকে ভোট দেয়ার নির্দেশ দেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। এ দিন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের এমপি আবদুল ওয়াদুদ দারাও পুঠিয়ার একটি কমিউনিটি সেন্টারে ভোটারদের ডেকে ভুলুকে ভোট দেয়ার নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় এই দুই এমপির বিরুদ্ধে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন নির্বাচনের অপর প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার। পরে নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার তাদের শোকজ করেন। এদিকে গত ১৫ ডিসেম্বর উপজেলার জাহানাবাদ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালান রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন। এরপর গত সোমবার কথিত পিকনিকের নামে আবারো ভোটারদের ডেকে ভুলুকে ভোট দেয়ার নির্দেশ দেন এমপি আয়েন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার তার বিরুদ্ধে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার।

কিন্তু মঙ্গলবারও এমপি আয়েন উদ্দিন পবার হরিপুর ইউপিতে উপজেলার সকল চেয়ারম্যান মেম্বারদের ডেকে ভুলুকে ভোট দেয়ার নির্দেশ দেন। গতকাল দুপুরে ‘ইউপি পরিদর্শন ও মতবিনিময়’ সভার নামে ওই নির্বাচনী সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের প্রার্থী ইপফাত আরা কামালও উপস্থিত ছিলেন।

mp-ayen

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি আয়েন উদ্দিন বলেন, ‘ওটা কোনো নির্বাচনী সভা ছিল না। ইউপি পরিদর্শন ছিল। সেখানে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন প্রধান অতিথি। আমি বিশেষ অতিথি। শুধু হরিপুর ইউপি পরিদর্শন থাকলেও আমাদের সম্মানে সেখানে বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা হাজির হয়েছিলেন। তাই নির্বাচনের বিষয়েও কিছু কথা হয়েছে।’

সেখানে চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুব জামান ভুলুর তালগাছ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন কী না- জানতে চাইলে এমপি আয়েন বলেন, ‘আমি তালগাছ-টালগাছ চিনি না। আমি সবাইকে নৌকার পক্ষে থাকার আহ্বান জানিয়েছি। সভার ছবি আমি আমার ফেসবুকেও আপলোড করেছি।’

এদিকে মঙ্গলবার গোদাগাড়ী মডেল থানা ভবন থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দক্ষিণে পদ্মা নদীর  চরে কথিত বনভোজনের নামে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ডেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুব জামান ভুলু ও সাধারণ সদস্য প্রার্থী রবিউল আলমের পক্ষে প্রচারণা চালান স্থানীয় এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। শুধু তাই নয়, ভোট দেয়ার জন্য তিনি ভোটারদের শপথও করান।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কথিত ওই ‘বনভোজনে’ হাজির হওয়ার জন্য তাদের এমপির পক্ষ থেকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। তাই এমপির ভয়ে তারা সবাই নৌকায় চড়ে পদ্মা পেরিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন। বসতবাড়িহীন ওই বালুচরে গিয়ে দারুণ বেকায়দায় পড়েন নারী জনপ্রতিনিধিরা। পরে এ নিয়ে তাদের ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা যায়। বনভোজনের নামে জনপ্রতিনিধিদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের ওই চরে হাজির করানো হলেও সেখানে কোনো রান্নাবান্না হয়নি। রান্না হয়েছে গোদাগাড়ীর হাটপাড়ায় ডাকবাংলোয়। সেখান থেকে খাবার নিয়ে গিয়ে ভোটারদের ভুরিভোজ করানো হয়।

এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর এমন প্রচারণার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আইন মেনে রাজশাহীর বাইরে গিয়ে বনভোজন করা হয়েছে। সেখানে ইলেকশনের বিষয়েও কথাবার্তা হয়েছে। ভোট হচ্ছে রাজশাহীতে, আমি রাজশাহীর বাইরে ভোটের বিষয়ে কথা বলতেই পারি। এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে না।’

তবে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক সুব্রত পাল বলেন, নির্বাচনে এমপিরা প্রচারণা চালাতে পারবেন না। নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এই আইন। কিন্তু তারা এমন নিয়ম মানছেন না। নানা কৌশলে তারা ভোটারদের ভোট দেয়ার জন্য বলছেন। এতে নিশ্চিতভাবেই আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে। এ ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করার রেওয়াজ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্তরায়। এ ধরনের প্রচারণা অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরি হবে।

মঙ্গলবার এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী ও আয়েন উদ্দিনের নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার শহীদুল হক প্রামানিক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

রাজশাহীতে ১৫টি সোনার বারসহ পাচারকারী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে ১৫টি সোনার বারসহ এক পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *