অক্টোবর ১৯, ২০১৭ ৮:১৪ অপরাহ্ণ

Home / বর্ণবাণ / দূরের গুজরাট আসছে কাছে

দূরের গুজরাট আসছে কাছে

শিবলী নোমান : ঢাকা থেকে আকাশে উড়ে দিল্লি যেতে লাগে আড়াই ঘণ্টা। আর দিল্লি থেকে বিমানে আহমেদাবাদ যেতে লাগে আরো দশ থেকে পনের মিনিট বেশি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর দিল্লি আর আগ্রায় আরো দিন কাটিয়ে ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট আগে থেকেই নির্ধারিত।

বিজনেস ক্লাসের ভেদরেখা যেখানে শেষ সেখানেই ইকোনমিক ক্লাসের শুরুর সারিতেই আমার আসন। বাঁপাশে প্রবীণ আর ডানপাশে একজন মাঝবয়সী আমার সহযাত্রী। গলায় ঝোলানো ডেলিগেশন কার্ড দেখে মাঝবয়সী সহযাত্রী উৎসাহী হয়ে ইংরেজিতে জানতে চাইলেন, আগমনের হেতু। যদ্দূর সম্ভব সংক্ষেপে জানালাম। জানতে চাইলেন, গুজরাটে আগে গিয়েছি কি না। যাইনি শুনে এবার তিনি সাগ্রহে গুজরাটের বিবরণ দিতে শুরু করলেন। কীভাবে একটা খাঁ খাঁ মরুভূমির মতো জায়গা পরিকল্পনায় সেজে উঠেছে। কীভাবে উন্নত হয়েছে, শিল্পকারখানা আসছে- এসব বলতে লাগলেন। পাশের প্রবীণও কিছুৰণ পরেই যোগ দিলেন। বুঝলাম, মোদির গুজরাটের মানুষজন স্বেচ্ছায় ওদের পর্যটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে উঠেছেন!

আকাশ থেকে রাতের গুজরাট বেশ আলো ঝলমলে। মাটিতে নেমে সেই আলোর রোশনাই আরো ভালোভাবে দেখা গেলো। থাকার বন্দোবস্ত হলিডে ইনে। দিল্লির পাঁচতারকা হোটেল অশোকের মতো বিশাল নয় এটি। তবে চমৎকার ছিমছাম। রিসিপসনে রুমের বন্দোবস্ত চলছিলো। হঠাৎ কানে এলো ওদের একজন বাংলায় কথা বলছেন। এগিয়ে গেলাম, জানলাম, তিনি বাঙালি। গুজরাটে চাকরির জন্য থাকেন। এমন অনেক বাঙালিই রয়েছেন গুজরাটে। পরদিন সকালে আরেকটু অবাক হলাম নাস্তার টেবিলে বাংলাদেশের এক ব্যবসায়ীকে পেয়ে। ভদ্রলোকের নাম সামসুজ্জোহা লোটাস। ঢাকায় কন্সট্রাকশন আর হাইড্রোসিলের ব্যবসা করেন। তিনিই জানালেন যে, গত প্রায় এক দশক ধরে গুজরাটের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ অনেক বেড়েছে। প্রতিদিনই এখানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা আসেন। গুজরাটের ব্যবসায়ীরাও ঢাকা-চট্টগ্রামে যান।

বাসে করে গন্তব্য টাটা ন্যানো কারখানা। দুপাশে বিস্তীর্ণ জায়গা। বিশাল বিশাল সব শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে। আমাদের বাসের গাইড সুরেশের বাবা জগদীশ ১৯৭১ সালে বিএসএফ জওয়ান হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সহায়তা করেছিলেন। তিনিই জানালেন, একসময় বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের মতো দুয়েকটি পরিবারেরই ধারণা ছিলো। কিন্তু এখন সেই চিত্র একেবারেই বদলে গেছে। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে শিক্ষর্থীরাও আসছেন। টাটার কারখানা থেকে ফেরার পর দুপুরের খাবার খেতে গিয়ে আহমেদাবাদের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে হলো। তরুণ এক সাংবাদিক নাভালসিন রাঠোরকে মনে ধরলো আমার।

গল্পে গল্পে তিনিই জানালেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের জন্য এখানে একটা আলাদা টেক্সটাইল পার্ক করে দিতে চেয়েছেন। সেই কাজও এগিয়ে যাচ্ছে। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম চেম্বারের সঙ্গে গুজরাট চেম্বারের অনেকগুলো সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে এরই মধ্যে। ফলে এখন চট্টগ্রামও গুরুত্ব পায় তাদের কাছে। রাজশাহীর গুরুত্ব পাবার কোনো কারণ আছে কি? প্রশ্নটা করেই ফেললাম। জবাবটা প্রত্যাশিতই ছিলো, চেম্বারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে কথা আর এগুলো না। জানি না, এই লেখাটা রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের নেতাদের চোখে পড়বে কি না। তবে ঢাকা থেকে আড়াই হাজার মাইল দূরত্বের আহমেদাবাদ তাদের জন্যও একটা নতুন ক্ষেত্র হতে পারে। একটা উদ্যোগ তারা নিতেই পারেন। এফবিসিসিআইয়ের মাথা আমাদের রাজশাহী চেম্বারের প্রতিনিধিত্বে হয়েছেন বলে কথা!

লেখক : রাজশাহী ব্যুরো প্রধান, যমুনা টেলিভিশন

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

এর শেষ কোথায়! রুপা আমাদের ক্ষমা করো

আমরা সকলে অন্য কোন দিনের মতই রাতে যখন নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিলাম হয়তো তখন রুপা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *