Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • ১২০০ শিক্ষার্থীকে আম্রপালির চারা দিলো আলোঘর– বিস্তারিত....
  • দেশ ও আমাদের এতিম দুই বোনের জন্য দোয়া করবেন: প্রধানমন্ত্রী– বিস্তারিত....
  • নাটোরে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্পের উদ্বোধন– বিস্তারিত....
  • রোববার রাজশাহী আসছেন এলজিইডি মন্ত্রী– বিস্তারিত....
  • মেহেরপুরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়ি ঘেরাও– বিস্তারিত....

একসাথে পথ চলতে চায় নয়াদিল্লি

ডিসেম্বর ২০, ২০১৬

শিবলী নোমান, ভারত থেকে ফিরে : নিরাপত্তা তল্লাশির পর সিঁড়িতে বিছানো লাল কার্পেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে নিজের অজান্তেই হা হয়ে গেলাম। এমন সুবিশাল করিডোর আর দরবার হল আমি আর আগে দেখি নি। শিউরে উঠলাম হঠাৎ। মনে হলো, ঠিক এই জায়গাটি সাৰী ভারতীয় উপমহাদেশের অনেক ঐতিহাসিক পথপরিক্রমার। আমার সামনে ওখানটাতে বসেই শেষ ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। দেশভাগের সেই সব তৎপরতার উৎস ছিলো তো এখানেই। সম্বিৎ ফিরলো যখন পেছন থেকে সহকর্মী চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সাদমান সাকিব বললো, চলেন আগাই।

অদ্ভূত এক করিডোর ধরে হাঁটছি। সার বেঁধে। তখনও ঘোরের মধ্যে, ভাবছিলাম, ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি ভবনে তাহলে দেখা মিলছে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির। দরবারে ঢুকে বাংলানিউজের আসিফ আজিজ আর ইটিভির রাকিব হাসানের পাশে বসে পড়লাম। দ্বিতীয় সারির শেষ মাথায়। একশ তরুণ-তরুণী আমরা। সঙ্গে ভারতের মন্ত্রণালয় আর রাষ্ট্রপতি ভবনের কর্মকর্তারা। কিছুক্ষণ পর এলেন ভারতের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী বিজয় গয়াল। একে একে সবার কাছে এসে পরিচিত হতে লাগলেন। আমার বেলায় পরিচয়ের পাশাপাশি রাজশাহীতে থাকি সেটাও বললাম। ভদ্রলোক মনে হয় একটু অবাক হলেন। এমন প্রতিনিধি দলে সচরাচর তারা ঢাকার সাংবাদিক দেখেই অভ্যস’। জানতে চাইলেন, ঢাকা থেকে রাজশাহীর দূরত্ব।

রাষ্ট্রপতি ভবনে ক্যামেরা বা মোবাইল ফোন কোনোটাই নিয়ে যাওয়া যায় না। কিন্তু হাত নিশপিশ করছিলো ঐতিহাসিক দরবার হলের স্মৃতিটা ধরে রাখতে। ইতিহাসের পাতাগুলো যেন আমার চোখের সামনে খুলতে লাগলো একের পর এক। ভাবনায় ছেদ পড়লো রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির আগমনে। সোজা এসে তিনি নমস্কার জানালেন। বসলেন নির্ধারিত আসনে। অনুষ্ঠান শুরু হলো। বাংলাদেশের নানা শ্রেণিপেশার ১০০ তরুণের প্রতিনিধি দলটিকে স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি স্বয়ং। বিজয় গয়াল বাঙালি নন। নির্বাচিত হয়েছেন দিল্লির চাঁদনিচক এলাকা থেকে। সেখানেই বাড়ি তার। তারপরেও বক্তৃতা শুরু করলেন ভাঙা বাংলায়। জিজ্ঞেস করলেন, কেমন আছেন? নিজেই আবার বললেন, ভালো? বিজেপির এই নেতা বললেন, ভারত মনে করে, বাংলাদেশের প্রগতি ও ভারতের প্রগতি একসূত্রে গাঁথা। দুটি রাষ্ট্র একসঙ্গে চলতে পারলে এ অঞ্চলের চেহারা বদলে যাবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছার কথা জানাতেও ভুললেন না। ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেন, বাংলাদেশকে ভারত কতোটা গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশের দুজন প্রতিনিধি ইংরেজি ও বাংলায় ঢাকার শুভেচ্ছা পৌঁছে দিলেন। রাষ্ট্রপতিতে শুভেচ্ছা স্মারক দিলেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রাজেশ উইকে ও তরুণ প্রতিনিধি দলের এক সদস্য।

এলো প্রতীক্ষিত ক্ষণ। কথা বলতে উঠলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। বাঙালি হলেও তিনি বাংলায় একটা শব্দও বলেন নি। বললেন ইংরেজিতে। প্রথমেই বলে নিলেন, এই রাষ্ট্রপতি ভবন যা ১৯৩১ সালে তৈরি হয়েছিলো ভাইসরয় ভবন হিসেবে, এর উত্তরাধিকার আমরাও বহন করি। প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির স্মৃতি রোমন করলেন কিছুক্ষণ। এরপর তিনি বললেন, এই অঞ্চলের মানুষ অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আগামী দিনে এ অঞ্চলের তরুণদের পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ইতিহাসের নানা পরতে বাঙালির সংগ্রামী দৃষ্টিভঙ্গি উদাহরণ টেনে প্রণব মুখার্জি জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধুতা আগামীতে আরো নতুন মাত্রা পাবে। প্রায় পনেরো মিনিটের বক্তৃতা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনে গেলাম। তিনি শেষ করলেন। আমরা উঠে হাঁটতে শুরু করলাম ডাইনিংয়ের দিকে।

খেতে খেতে আবার পেয়ে গেলাম বিজয় গয়ালকে। সাক্ষাৎকার নিতে চাইলাম। হেসে পরে দিতে সম্মত হলেন। একটু সহজ হয়ে নিচুস্বরে জিজ্ঞেস করলাম, একসাথে চলতে হলে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কটি ইস্যুর সুরাহা দরকার। সে হবে কীভাবে? যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রীর এবারের জবাবটা হিন্দিতে, যার অর্থ দাঁড়ায়, বাংলাদেশকে আমরা কী পরিমাণ গুরুত্ব দিই, আগামী কদিনে তুমি আরো বুঝতে পারবে। তারপর নাহয় এসব নিয়ে কথা বলা যাবে! মৃদু হেসে সরে এসে দাঁড়ালাম কিউয়ের শেষ মাথায়।
লেখক : রাজশাহী ব্যুরো প্রধান, যমুনা টেলিভিশন