Ad Space

তাৎক্ষণিক

সারাদেশে আতঙ্কে লালন ভক্তরা

ডিসেম্বর ১৫, ২০১৬

সাহেব-বাজার ডেস্ক : মানবতার চর্চাকারী মহাত্মা লালন। তিনি সাঁইজি নামেই ছিলেন পরিচিতি। তার মতাদর্শে দীক্ষা নিয়েছেন সারা বিশ্বের মানবতাবাদী মানুষ। তার সংগীত, বাণীকে যারা আঁকড়ে ধরে বাঁচেন তারাও সমাজ, সংসার, সমাজ আর রাষ্ট্রের কোনো অনিষ্ঠ করেন না। কিন্তু তারপরও মাঝেমধ্যে তাদেরকে অযথা অত্যাচার, নিষ্পেষণের শিকার হতে হয় কিছু ধর্মান্ধ মানুষের হাতে। আর এমনই কিছু ধর্মান্ধগোষ্ঠির হাতে পড়লো নেত্রকোনায় লালনের কিছু অনুসারি। আর নেত্রকোনায় লালন বিরোধী অবস্থানের কারণে সারা বাংলার লালন ভক্তরা আছেন আতঙ্কে।

সম্প্রতি নেত্রকোনায় ‘হেফাজতে ঈমান’-নামের একটি সংগঠনের দাবীর মুখে লালন অনুসারীদের একটি নিয়মিত অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ওই সংগঠনটি লালন অনুসারিদের কাফের, মুরতাদ আখ্যা দিয়ে শহরে নগরে লিফলেটও বিতরণ করে। আর এমন ঘটনায় মারাত্মক ভয়ে আছে সেখানকার লালন অনুসারিরা।

সংবাদ মাধ্যম বিবিসি’র বরাত দিয়ে জানা যায়, নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বাসিন্দা আবদুল হালিমের বাড়িতে লালন ভক্তদের নিয়মিত আসর বসতো, যেখানে লালন গানের বাইরে তার মতাদর্শ নিয়ে আলোচনা হতো। কিন্তু কিছুদিন ধরেই সেই অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি করে আসছিল স্থানীয় হেফাজতে ঈমান নামের একটি সংগঠন। আর এবার তাদের দাবীর মুখে লালন অনুসারিদের কথা না ভেবে সেই অনুষ্ঠানটিই বন্ধ করে দেয় স্থানীয় পুলিশ। যদিও পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে তড়িৎ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

প্রতিবছর ৩০ নভেম্বর আবদুল হালিমের বাড়িতে লালন সাঁইজির গানের আসর বসে। তার ধর্ম দর্শন নিয়েও আলাপ হয় বিস্তর। কিন্তু এবছর একটি মহল কিছুদিন ধরেই এই আসর না করার জন্য বলে আসছিল। তারা ইউএনওর কাছে একটি আবেদনও করে। এরপর থানার কর্মকর্তারা লালন অনুসারিদের অনুষ্ঠান না করার জন্য বলে যায়। না হলে ঝগড়ঝাঁটি হতে পারে। এর কয়েকদিন পর লালনভক্তদের বিরুদ্ধে একটি লিফলেটও বিতরণ করে। লিফলেটে লালন ভক্তদের অনৈতিক, অ-ইসলামিক কাজে লিপ্ত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। এমনকি তাদের ‘জয় গুরু’ বলাও নাকি ইসলামিক অনুভূতিতে আঘাত করে। আর এইজন্য লিফলেটে সবার প্রতি লালন অনুসারি কাফেরদের দেশের মাটি থেকে উচ্ছেদ করতেও বলা হয়।

এমন ঘটনায় মর্মাহত সারা বাংলাদেশের লালন ভক্তরা। নেত্রকোনার এই ঘটনায় যেমন আতঙ্কে আছেন তারা, ঠিক সেভাবে নিজেদের উপর যেকোনো সময় আক্রমণ হতে পারে বলেও আশঙ্কায় আছেন তারা।

কারণ এর আগেও বাংলাদেশে বহুবার লালন ভক্তদের উপর অকথ্য নির্যাতনের নজির স্থাপন হয়েছে। মোটাদাগে মেহেরপুরে, চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ী, নাটোরের সাধুসঙ্গেও লালন ভক্তদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে মামলা হলেও হামলাকারীদের শাস্তির এখনো কোন দৃষ্টান্ত নেই। আর এইজন্য আরো বেশি ভয়ে আছেন সারা বাংলার লালন ভক্তরা। তাদের দাবী লালন অনুসারিদের উপর অতীতের সব হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং যারা এখন বাউলদের সরাসরি হুমকি দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ব্যবস্থা করুক। তা না হলে লালন, হাছন আর করিমের এই পবিত্র ভূমি থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে তাদের অনুসারিরা। অন্তত চর্চার মাধ্যমে এই প্রাকৃতজনদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। আর সেটা হবে গোটা জাতির জন্য লজ্জার।