Ad Space

তাৎক্ষণিক

জনগণের খাদেম হোন: প্রধানমন্ত্রী

ডিসেম্বর ১৫, ২০১৬

সাহেব-বাজার ডেস্ক : সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের কর্মচারীদের জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করতে হবে। জাতীয় স্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। অতীতের আমলাতান্ত্রিক মনোভাব পরিবর্তন করে নিজেদের জনগণের খাদেম বলে বিবেচনা করতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন একাডেমিতে ৯৮তম ও ৯৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সফলভাবে কোর্স শেষকারী ১৯১ কর্মকর্তার হাতে সনদ তুলে দেন শেখ হাসিনা। পরে তিনি একাডেমির পাঠাগারে স্থাপন করা মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নতুন একটা উৎপাত শুরু হয়েছে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ। যে করেই হোক বাংলাদেশকে এই জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্ত রাখতেই হবে। তার জন্য আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি- সমগ্র জনগণেকে সম্পৃক্ত করা, সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা এবং তার একটা ভাল ফল আমরা পাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আজ ধর্মের নামে উন্মাদনা সৃষ্টি করে মানুষ হত্যা করে একদিকে যেমন ইসলাম ধর্মের অবমাননা করা হচ্ছে, হেয় করা হচ্ছে; অপরদিকে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। কাজেই এখান থেকে মানুষকে কীভাবে দূরে রাখা যায় আমরা অভিভাবক, শিক্ষক, ইমাম সকলকে সম্পৃক্ত করেই আন্দোলন হিসেবে এটাকে গড়ে তুলছি। এ ব্যাপারে সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে এবং ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে বাংলাদেশে কখনো সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের কাজে গতি আনতে ও জনগণকে দেওয়া সেবার মান বাড়াতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের কাজ তথা জনগণের সেবা পাওয়া সহজতর করতে সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ভাবনী শক্তি থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এগিয়ে চলতে হবে। গতানুগতিক ধ্যান-ধারণা থেকে সরে আসতে হবে। বিশ্ব যত এগিয়ে যাচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা কীভাবে এগিয়ে যেতে পারি, এ ধরনের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা সকলের মাঝে থাকতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি ‘জনগণের সেবক’ হিসেবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওই সময় ‘অতিদ্রুত’ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চাকা আবার সচল হতে শুরু করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গ্রাম। গ্রামের অর্থনীতিকে আমাদের আরও শক্তিশালী, আরও উন্নত করতে হবে। গ্রামের দারিদ্র্য বিমোচন করতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও অবকাঠামো উন্নয়ন আমরা করে যাচ্ছি।

অন‌্যদের মধ‌্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। নবীন কর্মকর্তাদের মধ‌্যে রেক্টর অ্যাওয়ার্ড বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।