Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • রাজশাহীতে বিস্ফোরকসহ আটকদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা খুঁজছে পুলিশ– বিস্তারিত....
  • বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বৃষ্টি বাঁধা– বিস্তারিত....
  • ৩১১ রানে অলআউট শ্রীলঙ্কা, তাসকিনের হ্যাটট্রিক– বিস্তারিত....
  • দেড় কোটি টাকা নিয়ে উধাও জনতা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি– বিস্তারিত....
  • মোহনপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির মানববন্ধন– বিস্তারিত....

মোহনপুরে প্রচারণা চালালেন মোহাম্মদ আলী সরকার

ডিসেম্বর ১৪, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার জেলার মোহনপুর উপজেলায় প্রচারণা চালিয়েছেন। বুধবার দিনভর নিজস্ব কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তিনি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন।

বুধবার সকালে তিনি প্রথমেই মৌগাছি ইউপিতে গিয়ে মোহনপুর উপজেলায় তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। সকাল ১০টার দিকে মৌগাছি ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে চেয়ারম্যান আল-আমিন বিশ্বাসের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। পরে তিনি সকল ইউপি সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ সময় ইউপি সদস্য বদিউজ্জামান মোহাম্মদ আলী সরকারকে বলেন, ‘জেলা পরিষদ থেকে কোনো কাজ নিতে গেলে ‘৩০ পার্সেন্ট’ দেয়া লেগেছে। আমরা এর পরিবর্তন চাই। আপনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এসব অনিয়ম দূর করতে হবে।’ এ সময় মোহাম্মদ আলী সরকারও ঘোষণা দেন, তিনি নির্বাচিত হলে জেলা পরিষদে সেসব অনিয়ম থাকবে না।

এরপর মোহাম্মদ আলী সরকার ধুরইল ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সেখানকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দিনের কক্ষে ওই ইউপির সকল সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এ সময় ইউপি সদস্যরা মোহাম্মদ আলী সরকারকে বলেন, তদবির ছাড়া জেলা পরিষদ থেকে তারা কোনো প্রকল্প পাননি। তিনি নির্বাচিত হলে সব ইউপিকে তার বরাদ্দ সুষ্ঠুভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। মোহাম্মদ আলী সরকারও তা করবেন বলে তাদের আস্বস্ত করেন।

পরে মোহাম্মদ আলী সরকার বাকশিমইল ইউপিতে গিয়ে চেয়ারম্যান আল-মোমিন শাহ গাবরুসহ সকল সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত করে নিজের আনারস প্রতীকে ভোট চান। এরপর দুপুরে তিনি উপজেলার জাহানাবাদ ইউপিতে গিয়ে চেয়ারম্যান এমাজ উদ্দিন খানসহ সকল সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত করে নিজের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন।

এ সময় ওই ইউপির সদস্য আবদুল আজিজ মোহাম্মদ আলী সরকারকে বলেন, ‘এলাকার একটি মসজিদ সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পেতে আমি জেলা পরিষদে আবেদন করেছিলাম। আমাকে এক লাখ টাকা দিতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমার কাছ থেকে আগাম ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। দিতে পারিনি বলে মসজিদের জন্যও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। আপনি নির্বাচিত হলে আমরা জেলা পরিষদের এ অবস্থা দেখতে চাই না।’
এ সময় মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে যার যেটা বরাদ্দ তা যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেয়া হবে। জেলা পরিষদ থেকে আমার একটি টাকাও চাই না।’ বেলা ৩টার দিকে মোহাম্মদ আলী সরকার ঘাসিগ্রাম ইউপিতে গিয়ে সেখানকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে ইউপি চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম বাবলু তার পরিষদের সদস্যদের বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা মোহাম্মদ আলী সরকার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে জেলা পরিষদের চিত্র পাল্টে যাবে। সব কাজে স্বচ্ছতা থাকবে। তাই সবাইকে অনুরোধ করছি আনারস প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য।’

এ সময় ইউপি সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ আলী বলেন, ‘মোহাম্মদ আলী সরকার সারা জীবন দলকে দিয়ে গেলেন। বিনিময়ে তিনি কখনও কিছু চাননি। এবার একটু সম্মান পেতে তিনি নির্বাচন করছেন। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে তাকে নির্বাচিত করার দায়িত্ব আমাদের।’

এরপর মোহাম্মদ আলী সরকার মোহনপুরের কেশরহাট পৌরভবনে গিয়ে সেখানকার মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদসহ সকল কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিকেলে মোহাম্মদ আলী সরকার উপজেলার রায়ঘাটি ইউপিতে গিয়ে সেখানকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানসহ তার পরিষদের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এরপর তিনি উপজেলা পরিষদে গিয়ে উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানেসা বেগমের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। সন্ধ্যায় তিনি পবা উপজেলা পরিষদে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল হক তোতার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এ সময় তার কার্যালয়ে পবা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেরাও উপস্থিত ছিলেন। মোহাম্মদ আলী সরকার তাদের কাছে নিজের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ আলী সরকার ও পরিষদের সাবেক প্রশাসক মাহবুব জামান ভুলু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ২৮ ডিসেম্বর ১৫টি ভোটকেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনসহ জেলার সবগুলো পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা এই নির্বাচনের ভোটার। মোট ভোটার সংখ্যা এক হাজার ১৭১ জন। প্রার্থীদের প্রচারণায় এরই মধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচন।