Ad Space

তাৎক্ষণিক

যুদ্ধাপরাধী হান্নানসহ ৮ আসামির অভিযোগ আমলে

ডিসেম্বর ১১, ২০১৬

সাহেব-বাজার ডেস্ক : জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এমএ হান্নান ও তার ছেলেসহ আটজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলায় অভিযোগ আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রোববার (১১ ডিসেম্বর) এই মামলায় পরবর্তী আদেশের জন্য ১ ফেব্রুয়ারি দিন রেখেছেন।

আদালতে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন; আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান তরফদার। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা প্রসিকিউশনের ছয়টি অভিযোগই আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

এই মামলায় ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সাংসদ হান্নান ছাড়া আরও চার আসামি কারাগারে আছেন। এরা হলেন- তার ছেলে মো. রফিক সাজ্জাদ (৬২), ডা. খন্দকার গোলাম ছাব্বির আহমাদ (৬৯), মিজানুর রহমান মিন্টু (৬৩) ও মো. হরমুজ আলী (৭৩)। এছাড়া পলাতক রয়েছেন ময়মনসিংহের বাসিন্দা মো. ফখরুজ্জামান (৬১), মো. আব্দুস সাত্তার (৬১) ও খন্দকার গোলাম রব্বানী (৬৩)। তাদের বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে চারটি হত্যা ও গণহত্যার এবং বাকি দুটি অভিযোগ আটক ও নির্যাতনের ঘটনা।

২০১৫ সালের ১৯ মে ত্রিশালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন এ মামলা করেন। ময়মনসিংহের ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক পরে এজাহারটি গ্রহণ করে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে তদন্ত সংস্থা ওই বছরের ২৮ জুলাই তদন্ত শুরু করে। ১০ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে।

ওইদিনই হান্নানকে গুলশানে তার বাড়ি থেকে এবং ছেলে রফিক সাজ্জাদকে ওই এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ডা. খন্দকার গোলাম সাব্বির, মিজানুর রহমান মিন্টু ও হরমুজ আলীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

হান্নানসহ এই আট আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত শেষে এ বছরের ১১ জুলাই ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা ।

আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহ:

অভিযোগ ১: ১৯৭১ সালের ২৩ ও ২৪ এপ্রিল ময়মনসিংহের গোলকীবাড়ী বাইলেনের প্রখ্যাত ভাস্কর আব্দুর রশিদকে অপহরণ, নির্যাতনের পর জিপ গাড়ির পেছনে রশি দিয়ে বেঁধে টেনে হেঁচড়ে হত্যা ও লাশ গুম।

অভিযোগ ২: ১৯৭১ সালের ২ অগাস্ট ত্রিশাল থানার বৈলর হিন্দুপল্লী ও মুন্সিপাড়ায় অগ্নিসংযোগ, সেন্টুকে গুলি করে হত্যা ও দুজন হিন্দুকে গুলি করে আহত।

অভিযোগ ৩: ১৯৭১ সালের ৭ থেকে ৯ অগাস্টের মধ্যে বৈলরের আ. রহমান মেম্বারকে আটক, অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা ও লাশ গুম।

অভিযোগ ৪: ১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে খন্দকার আব্দুল আলী রতনকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা ও লাশ গুম।

অভিযোগ ৫: ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে মো. আবেদ হোসেন খানকে আটক, নির্যাতন ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর।

অভিযোগ ৬: ১৯৭১ সালের ৭ থেকে ১০ অগাস্টের মধ্যে কে এম খালিদ বাবুকে অপহরণ, আটক ও নির্যাতন।