সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৭ ৭:২৭ পূর্বাহ্ণ

Home / slide / সৃজনে-মননে মানুষের সত্য অধিকারের গান
সৃজনে-মননে মানুষের সত্য অধিকারের গান
সৃজনে-মননে মানুষের সত্য অধিকারের গান

সৃজনে-মননে মানুষের সত্য অধিকারের গান

নুসরাত নুসিন : ৫ ডিসেম্বর, বিকেল ৩টা। হেলে পড়া সূর্যটার তেজ কমেনি তখনো। শীতের কুয়াশা পারের পদ্মাকে পাতলা চাদরে ছুঁয়ে রেখেছে। নদীর বুক চিরে হালকা হাওয়া উঁকি দিচ্ছে কখনও কখনও। হেলে পড়া সূর্যের তেজ, শীতের কুয়াশা আর হাওয়ার চলাচল তৈরি করেছে যেনো এক মিষ্টি বিকেলবেলা।
পদ্মাপারে মুন্নুজান স্কুলের পাশে রবীন্দ্র-নজরুল মঞ্চে দেশের গান বাজছে। ক্রান্তিকালের গান, মানবিক আবেদনের গান। বোঝা যাচ্ছে মানবিক অধিকারে থাবা বসিয়েছে কেউ। কোথাও বিপন্ন হচ্ছে মানুষ। গানগুলো কান ভেদ করে মস্তিষ্কে হানা দিচ্ছে, বোধ ও মননের দুয়ার খুলে মেলে দিচ্ছে সুন্দর আর অসুন্দরের ভেদাভেদ। এরপর মঞ্চে অনুশীলন নাট্যদলের শিহরণ জাগানিয়া পরিবেশনা অন্ধকারকে তাড়ানোর এক অভয় দিয়ে গেলো। জানা গেল, দেশদ্রোহ ও কপটতা, মিথ্যা ও অন্ধকার তোমার ঠাঁই শেষমেষ অন্ধকারেই।
ইলা মিত্র শিল্পী সংঘের উদ্যোগে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আয়োজনে চলছে কবিতা আবৃত্তি, ছবি আঁকা ও পোস্টার প্রদর্শন। ছবি আঁকায় অংশগ্রহণ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আঁকানো পোস্টারে সাম্প্রদায়িক চেতনার ভয়াবহতাকে তুলে ধরা হয়েছে। বিষবৃক্ষের মতো সমাজে অবস্থানকারী এসব চেতনার শেকড় সুদ্ধ উপড়ে ফেলার অদম্য অঙ্গীকার এক একটি পোস্টার। শিক্ষকরা একটি বড় আকারের ক্যানভাসে যূথবদ্ধ মননে এঁকে চলেছেন বিপন্নতা ও তার থেকে মুক্তির সোপান। বিষণ্ন মুখ, সাঁওতাল মেয়ের আশঙ্কা, নারীর অবনত শরীর, মানুষের নীরবতা, শান্তির পায়রা, কপালে বহুত্ববাদের তিলক। এসবই জানান দেয়, কোনটা মানুষের পক্ষে আর কোনটা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে মানুষ হিসেবে মানুষের অধিকারের দাবি একটাই। আর তা হলো সুন্দরভাবে, নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার অধিকার।
ক্ষণিক বিকেল গড়িয়ে নামলে কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক এলেন। তুলি ধরলেন, আঁকলেন সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষের করাল থাবা। চত্বরজুড়ে সাংস্কৃতিক, শিক্ষিত, সব ধরনের মানুষের মুক্ত চলাচল। আগত শিশুদের চোখে ও মুখে অজস্র কৌতূহল। তারা গান শুনছে, হেঁটে বেড়াচ্ছে, পোস্টার দেখছে। একটি শিশু পোস্টার দেখতে দেখতে অস্ফুট স্বরে পাশে বন্ধুকে বলছে– এই যে মন্দিরে বোমা মেরেছে কেউ। এই যে কালো গাছগুলো ওগুলো খারাপ মানুষ। যে মানুষগুলোর চোখ বাধা তারা কিছু দেখতে পায় না। তখন মনে হয়, এ আয়োজন নাড়া দিতে পেরেছে কিছু চোখ, কিছু মন আর কিছু মানুষের অন্ধ চেতনাকে।

sb-1

ইলা মিত্র শিল্পী সংঘের সভাপতি এস এম আবুবকর জানালেন, দেশে দেশে মানুষের বিপন্ন অবস্থা। মানুষের অধিকারের পক্ষে আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। এতে বিশেষ সহায়তা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক সুশান্ত অধিকারী। অনুষ্ঠান শেষে ফিরে আসতে আসতে শিশুটির কথা মনে পড়ছিলো, ওগুলো মানুষের রক্ত। এসব মুখোশÑ কালো গাছগুলো খারাপ মানুষ!

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

মৃত ব্যক্তির নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা!

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর নওপাড়া গ্রামের আবদুস সালাম মারা গেছেন তিন বছর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *