Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • নাটোরে তিন দিনব্যপী জেলা আঞ্চলিক ইজতেমা শুরু– বিস্তারিত....
  • চারঘাটে জেএমবি সদস্য মজনুর আটক– বিস্তারিত....
  • বাসচালক জামিরের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ– বিস্তারিত....
  • নাটোরে আফতাব ফিড কোম্পানির কারখানায় অগ্নিকাণ্ড– বিস্তারিত....
  • নিউইয়র্কে ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর মৃত্যু– বিস্তারিত....

ব্যবস্থাপত্রে নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে শাস্তি

ডিসেম্বর ৭, ২০১৬

সাহেব-বাজার ডেস্ক : ব্যবস্থাপত্রে নিম্নমানের নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি প্রদানে আইন সংশোধনের প্রস্তাব রেখে ‘জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ তৈরি করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এটি এখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। নতুন ওষুধনীতিতে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে।

২০০৫ সালের ওষুধনীতিতে নকল, ভেজাল, নিম্নমানের ওষুধ প্রস্তুত, বিক্রয় ও বিতরণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এ কাজের জন্য দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বলা হয়েছিল। কারা ‘দোষী’ বলে বিবেচিত হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি এতে। ফলে এ অপরাধে অভিযুক্ত খুচরা দোকানি ছাড়া আর কাউকে শাস্তি দেয়া সম্ভব হয়নি।

তবে নতুন ওষুধনীতিতে দোষী কারা, তা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘নিম্নমান, নকল, ভেজাল ও নিবন্ধনহীন ওষুধ এবং ফুড সাপ্লিমেন্টের নামে ওষুধজাতীয় পণ্যের অননুমোদিত উৎপাদক ও বিক্রেতা এবং ব্যবস্থাপত্র প্রদানকারী চিকিৎসক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনে সংস্কার করতে হবে।’

এছাড়া এ ধরনের ওষুধ উৎপাদন, বিপণন ও মজুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর তাদের লাইসেন্স বাতিল করতে পারবে বলেও নতুন ওষুধনীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, নিম্নমান, নকল, ভেজাল, চোরাচালানকৃত খাদ্য ও ওষুধ ব্যবহারে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন সংস্কার করা হবে।

আগের ওষুধনীতিতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে ওষুধ বিক্রি করা হলে শাস্তি বিধানের বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। নতুন ওষুধনীতিতে বলা আছে, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে ওষুধ বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর অন্তত একবার ওষুধের মূল্য হালনাগাদ করা হবে।

জনগণের অবগতির জন্য সব ওষুধের খুচরা মূল্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। পরিবেশ দূষণ কমানোর লক্ষ্যে আবাসিক এলাকায় স্থাপিত ওষুধ কারখানা পাঁচ বছরের মধ্যে শিল্প এলাকা বা অনাবাসিক এলাকায় সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে নতুন ওষুধনীতিতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, ১৯৮২ ও ২০০৫ সালের ওষুধনীতিতে শুধু অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের কথাই বলা ছিল। কিন্তু বর্তমান ওষুধনীতিটি আয়ুর্বেদিক, ইউনানি ও হারবাল ওষুধের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এছাড়া এসব ওষুধের কোনো অত্যাবশ্যকীয় তালিকা ছিল না, যা নতুন নীতিতে সংযোজন করা হয়েছে। এটি দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

২০০৫ সালের ওষুধনীতিতে বলা আছে, ওষুধ প্রস্তুতকারীরা তাদের সব ওষুধ জেনেরিক নাম বা ব্র্যান্ড নামে উৎপাদন, বিতরণ ও বিক্রি করতে পারবে। তবে নতুন ওষুধনীতিতে বলা হয়েছে, ওষুধের পরিচয় সবার কাছে সহজ করার লক্ষ্যে বাণিজ্যিক নামের পাশাপাশি স্পষ্টভাবে জেনেরিক নাম উল্লেখ করতে হবে। সরকারি সব পর্যায়ে জেনেরিক নামে ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হবে।

রোগীকে ওষুধের যথার্থ ব্যবহারবিধি ও সংরক্ষণের বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য ওষুধ বিক্রি অথবা পরিবেশন কার্যক্রম পেশাজীবী ফার্মাসিস্টদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে কমিউনিটি ফার্মেসি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নতুন নীতিতে আরো বলা আছে, বর্তমানে দেশে বিভিন্ন পদ্ধতির ওষুধ উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, বিক্রয়, বিতরণ, সংরক্ষণ, আমদানি-রফতানি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির ক্ষেত্রে বেশকিছু নীতি, আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অপ্রতুল ও সঙ্গতিহীন হয়ে পড়েছে। পরিবর্তিত পেক্ষাপটে বিদ্যমান এসব আইন ও বিধিমালাকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে প্রয়োজনমতো সংশোধন করা আবশ্যক।

এতে আরো বলা হয়, ওষুধের প্রচলিত আইনগুলোকে আরো যুগোপযোগী করতে ওষুধ আইন, ১৯৪০ ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২ সমন্বয়ে বাংলায় যুগোপযোগী হালনাগাদকৃত একটি আইন এবং উল্লিখিত আইনগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ড্রাগ রুলগুলো যথাশিগগির প্রণয়ন করা হবে। এছাড়া খাদ্যে নকল-ভেজাল প্রতিরোধে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অপ্রতুল আইনের বিষয়টি বিবেচনা করে খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের জন্য প্রয়োজনীয় আইন তৈরি করা হবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য, ওষুধ শিল্প ও দেশের স্বার্থ বিবেচনায় যুগোপযোগী একটি নীতি তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অসংখ্যবার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।-সুত্র: বণিক বার্তা