Ad Space

তাৎক্ষণিক

১৫০ কোটি টাকা লোকসান নিয়ে শুরু হচ্ছে আখমাড়াই মৌসুম

ডিসেম্বর ২, ২০১৬

সাহেব-বাজার ডেস্ক : ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকলে ২০১৫-১৬ আখমাড়াই মৌসুমে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা লোকসান হয়। শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মিলটির মোট লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। ধারাবাহিক এ লোকসানের পেছনে মিল কর্তৃপক্ষ ও অসাধু শ্রমিক নেতাদের দুর্নীতি রয়েছে বলে মনে করছেন মিল-সংশ্লিষ্টরা। আর এ লোকসানের বোঝা নিয়েই ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬-১৭ মাড়াই মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছে মিল কর্তৃপক্ষ। অথচ মিলে প্রায় সাড়ে ৩৬ কোটি টাকার ৬ হাজার ১২৪ টন চিনি অবিক্রীত পড়ে রয়েছে।

মোবারকগঞ্জ চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ আখ মাড়াই মৌসুমে মিল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এলাকার ৪ হাজার ৮৮৩ একর জমিতে আখ চাষে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হয়। ওই মৌসুমে মোট ৭০ হাজার ১৬১ টন আখ মাড়াই করে ৪ হাজার ১২৪ টন চিনি উৎপাদন করে মিলটি। ৫৯ দিনব্যাপী মাড়াই কার্যক্রমে প্রতি কেজি চিনি উৎপাদনে মিলের খরচ হয়েছে ১৪৮ টাকা ৪৫ পয়সা। এর বিপরীতে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি করা হয় মাত্র ৪৭ টাকা দরে। পরে দুই মাস আগে মিল কর্তৃপক্ষ চিনির দাম বাড়িয়ে ৬০ টাকায় উন্নীত করে। ফলে ব্যাপক লোকসানের মুখোমুখি হতে হয় মিলটিকে।

এ পরিস্থিতিতেই শুরু হচ্ছে ২০১৬-১৭ আখ মাড়াই মৌসুম। এ মৌসুমে ৪ হাজার ৯৪১ দশমিক ৫৪ একর জমি থেকে ৯০ হাজার ৪২৫ টন আখ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে মিলটির। ৭৫ দিনের মাড়াই কার্যক্রমে চিনি উৎপাদনের হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

মিলটির একাধিক শ্রমিক জানান, প্রতি বছর মিলটির লোকসান গোনার কথা নয়। এক শ্রেণীর কর্মকর্তা ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের দুর্নীতির কারণে এ লোকসান হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ কেনাকাটায় ব্যাপক আকারের দুর্নীতি রয়েছে। এদিকে অব্যাহত লোকসানের মধ্যে প্রায়ই চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক নিয়ে লোকসানের বোঝা বাড়াচ্ছে মিল কর্তৃপক্ষ। এতে উৎপাদনকাজও ব্যাহত হচ্ছে। অদক্ষ ও চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক নেয়ার ফলে মাড়াই শুরুর পর থেকেই মিলে বারবার ব্রেকডাউন হতে দেখা যায়।

মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, সরকার নির্ধারিত হার অনুযায়ী প্রতি কেজি চিনির বিক্রয়মূল্য এর উৎপাদন ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশ। চিনির দাম কম থাকায় সুগার মিলটির লোকসান হচ্ছে। আবার কৃষকও আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এক্ষেত্রে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে মিল কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক নেতারা কাজ করে যাচ্ছেন। তবে শুধু চিনি উৎপাদন দিয়ে মিলটিকে লাভজনক করা কঠিন। এজন্য চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি আর কী করা যায়, তা নিয়ে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নলডাঙ্গায় ১৯৬৫ সালে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১৮৯ দশমিক ৮১ একর জমিতে সরকার মোবারকগঞ্জ চিনিকলটি স্থাপন করে। এর মধ্যে ২০ দশমিক ৬২ একর জমিতে কারখানা, ৩৮ দশমিক ২২ একরে আবাসিক কলোনি, প্রায় ২৪ একরে পুকুর ও প্রায় ১০০ একর জমিতে পরীক্ষামূলক ইক্ষু খামার স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে ৬০ কর্মদিবস আখ মাড়াই চলে।

সে সময় ১০ হাজার টন আখ মাড়াই করে এক হাজার টন চিনি উৎপাদন হয়েছিল। লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় পরবর্তী ১৯৬৭-৬৮ মাড়াই মৌসুম থেকে মিলটিতে বাণিজ্যিকভিত্তিতে উৎপাদন শুরু হয়। আখ সরবরাহের জন্য ঝিনাইদহের ছয় উপজেলা ছাড়াও যশোরের দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত হয় মোচিক জোন। জোনের আওতায় মোট সাড়ে তিন লাখ একর চাষযোগ্য জমি রয়েছে। কিন্তু ক্রমেই এসব এলাকার কৃষকের মধ্যে আখ চাষে আগ্রহ কমছে।

বাংলাদেশ চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিয়ার রহমান জানান, মিলটিকে লাভজনক করতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। আখ চাষে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি চিনির দাম বাড়াতে সরকারের সঙ্গে আলোচনাও চলছে। এরই মধ্যে সরকার সুগার মিলগুলোকে লাভজনক করতে ৭৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

এবার ঠাকুরগাঁও ও নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে বায়ো ফার্টিলাইজার, রিফাইনারি সুগার ও ডিসটিলারি কার্যক্রম শুরু করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় সারা বছর চালু রাখার স্বার্থে শিগগিরই মোবারকগঞ্জ চিনিকলেও চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি মিনারেল ওয়াটার ও রিফাইনারি সুগারের কার্যক্রম শুরু হবে।