Ad Space

তাৎক্ষণিক

আবেদন অনুমোদনের আগেই বিদ্যুৎ সংযোগ, নৈপথ্যে দালালদের দৈরাত্ব

ডিসেম্বর ১, ২০১৬

সাইফুল ইসলাম, গোদাগাড়ী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অবৈধভাবে শতাধিক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এসব গ্রাহকরা নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করলেও তা অনুমোদনের আগেই তাদের সংযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিদ্যুৎ অফিসের এক দালালের প্ররোচনায় বিদ্যুৎ বিক্রয় ও সরবরাহ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে এসব সংযোগ দিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর, পাহাড়পুর নামাজগ্রাম, বামনডাঙ্গা এলাকায় অনুমোদন না মিললেও ২৮টি সংযোগ দেয়া হয়েছে। বসানো হয়েছে ভুয়া মিটারও। এসব মিটারের কোনো তথ্য বিদ্যুৎ অফিসে নেই। অনুমোদনের আগে এসব মিটার বসানো হওয়ায় সেগুলো সঠিক কী না তারও কোনো তথ্য নেই বিদ্যুৎ অফিসের কাছে। শুধু দালালের প্ররোচনায় এসব গ্রাহককে সংযোগ দেয়া হয়েছে।

আবেদন অনুমোদনের আগেই ঘনশ্যামপুর এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন, এমন পাঁচজন গ্রাহক জানান, উপজেলা সদরের শ্রীমন্তপুর এলাকার এক দালালের মাধ্যমে গোদাগাড়ী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও সরবরাহ কেন্দ্রে তারা জনপ্রতি ৯ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। এরপর তাদের বাড়িতে সংযোগ দেয়া হয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরেই হৈচৈ শুরু হলে গত ২০ নভেম্বর সকালে পিডিবির কর্মকর্তারা গিয়ে তাদের বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কিন্তু দিনই বিকেলে ওই দালাল এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা এসে পুনরায় বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে যায়।

জানা গেছে, পাহাড়পুর নামাজগ্রামের মৃত আনসুর রহমানের ছেলে নজরুল ইসলাম, মোকসেদ আলীর ছেলে আবু সাঈদ, বামনডাঙ্গা গ্রামের মৃত সাবেদ আলীর ছেলে আনারুল ইসলাম, এন্তাজ আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান, আব্দুল মতিনের স্ত্রী নুরজাহান বেগম গোদাগাড়ী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও সরবরাহ কেন্দ্রে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করলেও তাদের সংযোগটি এখনো অনুমোদিত হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনের পর পিডিবির একজন প্রকৌশলী তাদের বাড়িতে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করবেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তাদের বাড়ির দূরত্ব ৩০ মিটারের কম কী না। ৩০ মিটারের কম হলে তার আবেদন গৃহিত হবে। এরপর তার নামে ব্যাংকে হিসাব খুলে মিটার ইস্যু করা হবে।

কিন্তু বিদ্যুৎ অফিসের দালাল ও কর্মচারীরা এই পাঁচজনের বাড়িতে ভুয়া মিটার লাগিয়ে অবৈধ সংযোগ দিয়েছেন। এসব গ্রাহকদের সবার বাড়ি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ৩০ মিটারের বেশি দূরত্বে। বিদ্যুৎ অফিসের একটি সূত্র জানায়, গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবেদন করা মাত্রই অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। পরে অনুমোদন হয়ে আসলে অনুমোদিত মিটার লাগিয়ে সংযোগ দেয়া হয়। এক্ষেত্রে সরেজমিন জরিপের কোনো বালাই নেই। গোদাগাড়ী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও সরবরাহ কেন্দ্রের কর্মচারীদের একটি চক্র ও দালালেরা এই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কাজটি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন গ্রাহকদের কাছ থেকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধভাবে বিদ্যুতের সংযোগ নিয়ে গোদাগাড়ীতে কয়েকটি গ্যারেজে অটোরিক্সা ও ইজিবাইক চার্জ দেয়া হচ্ছে। পিডিবি’র এই চক্রটিকে সহযোগিতা করছে স্থানীয় দুইজন দালাল। একজন দালালের বাড়ি পৌর এলাকায়, আরেক জনের বাড়ি উপজেলার কামারপাড়া গ্রামে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও সরবরাহ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ বলেন, অনুমোদন হওয়ার আগে সংযোগ দেয়া সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। এ বিষয়টি তার জানা নেই। ফাইলপত্র দেখে এসব অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানকারী ও গ্রাহকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করার পর পিডিবি থেকে যাচাই-বাছাই করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ৩০ মিটারের মধ্যে সংযোগ দেয়া যাবে। ৭৫০ টাকা জমা দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এরপর অনুমোদন দেয়া হলে অনুমোদিত মিটারসহ ওই গ্রাহককে সংযোগ দেয়ার নিয়ম রয়েছে। এসব নিয়ম বহির্ভূত সংযোগ অবৈধ বিবেচিত হবে।