Ad Space

তাৎক্ষণিক

দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

নভেম্বর ৩০, ২০১৬

সাহেব-বাজার ডেস্ক : হাঙ্গেরিতে চার দিনের সরকারি সফর ও বিশ্ব পানি সম্মেলনে যোগদান শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) রাত ১০টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইট বিজি-১০৪০ ‘আকাশ প্রদীপ’ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এরআগে হাঙ্গেরির স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে এবং বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে দেশটির রাজধানী বুদাপেস্ট থেকে দেশের পথে রওয়ানা হন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান লন্ডন থেকে সেখানে আসা ছোট বোন শেখ রেহানা। আরও ছিলেন হাঙ্গেরিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আবু জাফর। এছাড়া সে দেশের সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্ট্যাটিক গার্ড প্রদর্শন করা হয়।

চার দিনের বুদাপেস্ট সফরটি দুই দেশের সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে এমনটাই মনে করছেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা। এই সময়ে শেখ হাসিনা বিশ্ব পানি সম্মেলনে যোগ দিয়ে বিশ্ব নেতাদের সামনে পানিকে এখনকার সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসাবে চিহ্নিত করে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আর জোর দিয়েছেন বিশ্ব পানি তহবিল গঠনের ওপর। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এসডিজি-২০৩০’র এজেন্ডায় পানির গুরুত্বও উপস্থাপন করেছেন শেখ হাসিনা।

দ্বি-পাক্ষিক সফরে তিনি দেখা করেছেন হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট ইয়ানোস আদের ও প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওবরানের সঙ্গে। অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ হাঙ্গেরি বিজনেস ফোরামের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সমাপনীতে। শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় প্রেসিডেন্ট আদের বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন, পানি ব্যবস্থাপনাসহ যেসব খাতে হাঙ্গেরির দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে সেগুলোতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

ওবরানের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে বুদাপেস্টের সহস্র বছরের ইতিহাস ধারণ করে শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবহনকারী পার্লামেন্ট স্কয়ারে শেখ হাসিনাকে সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে বরণ করা হয়, লাল-গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয় তাকে। পরে দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক ও আনুষ্ঠানিক দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক হয়। দুই দেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীর সর্বপ্রথম এই বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্কে নানা দিক আলোচিত হয়। পরে বৈঠকে সম্মত তিনটি বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি খাতে উন্নয়ন এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক পরামর্শসেবা বিষয়ে এ তিনটি চুক্তি সই হয় দুই নেতার উপস্থিতিতে।

এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে যোগ দেন বাংলাদেশ-হাঙ্গেরি বিজনেস ফোরামের সমাপনী অনুষ্ঠানে। সেখানেও তারা প্রত্যক্ষ করেন দু’দেশের চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। দু’দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়াতেই এই সমঝোতা স্মারক।

এছাড়া শেখ হাসিনা তার এই সফরে হাঙ্গেরির স্বাধীনতা অর্জনে প্রাণ দিয়েছে যেসব সৈনিক এবং হাজার বছরের ইতিহাসে দেশটিকে গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন যেই সাত নেতা, তাদের স্মৃতিতে নির্মিত সৌধ ‘হিরোস স্কয়ারে’ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

শেখ হাসিনার বুদাপেস্ট আগমনে ইউরোপ থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হন তার হোটেলে। সবশেষ মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) রাতে হোটেলের হলরুমে নেতা-কর্মীদের জন্য উদ্বুদ্ধকরণ ও উৎসাহব্যাঞ্জক বক্তৃতা করেন তিনি।