Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • ‘আপত্তিকর’ কাজে বাধা দেয়ায় প্রহরীকে মারধর– বিস্তারিত....
  • বামশক্তি কনসোলিটেড হয়ে দাঁড়াতে না পারলে ফিল ইন দ্য ব্লাংক করে ফেলবে ধর্মীয় শক্তি : আবুল বারকাত– বিস্তারিত....
  • মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে হলে ভ্যাটের বিকল্প নেই : ভূমিমন্ত্রী– বিস্তারিত....
  • নাটোরে নির্মাণের ৯ মাসেই ভেঙে পড়েছে কালভার্ট– বিস্তারিত....
  • নাটোরে ইয়াবাসহ চার যুবক আটক– বিস্তারিত....

রাবিতে সক্রিয় উগ্রপন্থি সংগঠন হিযবুত তাহরীর

নভেম্বর ২৯, ২০১৬

মর্তুজা নুর : সরকারের কালোতালিকাভুক্ত উগ্রপন্থি সংগঠন হিযবুত তাহরীরদের কার্যক্রম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এখনো চলছে। বেশ কয়েক দিন থেকে সংগঠনটির কার্যক্রম আবারো শুরু হয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় স্বঘোষিত আবদুল্লাহ লেখা ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভিত্তি কি হবে: তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নাকি ইসলাম?’ ধর্মনিরপেক্ষবাদের বিরোধীতা করে শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে জঙ্গি তৎপরতার উসকানিমূলক বই, পত্রিকা সিডি ও লিফলেট বিক্রি এবং বিলি করছে এই সংগঠনের কর্মীরা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, কালোতালিকাভুক্ত হওয়ার পর অনেক দিন ধরে নিষ্ক্রিয় ছিলো সংগঠনটি। কিন্তু নিষিদ্ধ ওই সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও সেসব এলকার মানুষ ধর্মভীরু ওই সব এলাকায় মাঝে মধ্যেই  প্রচারণার নতুন কৌশল হিসেবে দলীয় পত্রিকাসহ বিভিন্ন নামে সভা-সেমিনারের আয়োজন করে হিযবুত তাহরীর। এরই অংশ হিসেবে রাবিতেও কয়েক দিন থেকে বেশ জোরে সোরেই তাদের প্রচারণা শুরু করেছে সংগঠনটি।

গোয়েন্দা সূত্রে আরো জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের মেসগুলোতে অবস্থান নিয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীরের কর্মীরা। তাদের অধিকাংশই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের সংগঠন সম্পর্কে জানানো ও সংগঠনের সদস্য করার জন্য তৎপর হয়ে ওঠেছে হিজবুত তাহরীরের কর্মীরা।

এদিকে, গত সোমবার ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভিত্তি কি হবে: তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নাকি ইসলাম?’ শিরোনামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চেম্বারে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহ্রীর প্রচারপত্র বিলি  করে। সংগঠনটির মিডিয়া অফিসের সাথে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর (০১৭৯৮৩৬৭৬৪০) ও ইমেইল নম্বর (যঃসবফরধ.নফ@ড়ঁঃষড়ড়শ.পড়স) দেয়া ছিলো। পত্রটিতে ধর্মনিরপেক্ষবাদের বিরোধীতা করে বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের উদাহরণও দেয়া ছিলো বলে জানা গেছে।

তাছাড়া পত্রে আইএস’র কর্মকাণ্ডকে ইসলামবিরোধী উল্লেখ করে গুলশান হামলার সমালোচনা করেছে সংগঠনটি। এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিয়ে ইসলামী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অপতৎপরতার মাধ্যমে মুসলিমদের আতঙ্কিত করাকে নজিরবিহিন বলে উল্লেখ করেছে তারা। পত্রের শেষে কুফর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে প্রত্যাখান করে বর্তমান সরকারকে অপসারণ করে ইসলামের ভিত্তিতে খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয় বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ১৮ নভেম্বর রাজশাহী মহানগরীর সোনাদিঘি মোড় এলাকায় হিজবুত তাহরীর লিফলেট বিতরণের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মামুন ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী তুহিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জানা যায়, ওই দিন জুম্মার নামাজের পর সোনাদিঘি মোড়ে কয়েকজন যুবক দেশ বিদেশে শিশু নারী নির্যাতনের প্রতিবাদের কথা বলে হিজবুত তাহরীর লিফলেট বিতরণ করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী (হুজি), জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি) ও শাহাদাত-ই-আল হিকমা নামের চারটি জঙ্গি সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়। এর পরও দেশে জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় ২০০৯ সালের প্রথমদিকে দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা হিযবুত তাওহীদ ও হিযবুত তাহরিরসহ আরো আটটি সংগঠনকে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে কালোতালিকাভুক্ত করে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পেশ করে। হিযবুত তাওহীদ ছাড়াও তালিকাভুক্ত অন্য জঙ্গি সংগঠনগুলো হচ্ছে উলামা আঞ্জুমান আল বাইয়্যিনাত, ইসলামিক ডেমোক্রোটিক পার্টি (আইডিপি), ইসলামী সমাজ, তৌহিদ ট্রাস্ট, তা-আমির উদ-দ্বীন বাংলাদেশ (যে দলটিকে হিজবে আবু ওমর নামেও ডাকা হয়) এবং আল্লাহর দল।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরই জঙ্গিদের ব্যাপারে ব্যাপকভাবে খোঁজ নেওয়া শুরু হয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়। জেলা ও থানা পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর পাশাপাশি হিযবুত তাহরীরসহ আরো আটটি সংগঠন জঙ্গিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে মদত দিচ্ছে। এর পরই মন্ত্রণালয় থেকে এসব সংগঠনকে কালোতালিকাভুক্ত করা হয়। এসব সংগঠনের সঙ্গে কারা জড়িত, অর্থের জোগানদাতা কারা তা খুঁজে বের করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজবুত তাহরীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, আমরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করেছে। তারা এই সংগঠনের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।