Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • ‘আপত্তিকর’ কাজে বাধা দেয়ায় প্রহরীকে মারধর– বিস্তারিত....
  • বামশক্তি কনসোলিটেড হয়ে দাঁড়াতে না পারলে ফিল ইন দ্য ব্লাংক করে ফেলবে ধর্মীয় শক্তি : আবুল বারকাত– বিস্তারিত....
  • মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে হলে ভ্যাটের বিকল্প নেই : ভূমিমন্ত্রী– বিস্তারিত....
  • নাটোরে নির্মাণের ৯ মাসেই ভেঙে পড়েছে কালভার্ট– বিস্তারিত....
  • নাটোরে ইয়াবাসহ চার যুবক আটক– বিস্তারিত....

বাবার পরিচয় পেল নবজাতক

নভেম্বর ২৯, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : সবেমাত্র জন্ম নিয়েছে শিশুটি। কিন্তু শিশুটির প্রতি মায়ের কোনো অনুভূতিই নেই। কারণ, প্রেমের ফাঁদে পড়ে বিয়ের আগেই যে মা হয়েছেন তিনি। তাই লোকলজ্জার ভয়ে বুকের ধনকে হাসপাতালের বিছানায় ফেলে পালাচ্ছিলেন তিনি। তবে খবর পেয়ে তাকে আটকায় পুলিশ।

এরপর একটি বেসরকারি সংস্থার হস্তক্ষেপে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়েও হয় তার। কয়েক ঘন্টা আগেও যে সন্তানকে তিনি ফেলে পালাচ্ছিলেন, সেই সন্তানই আবার তার কাছে হয়ে ওঠে পরম আদরের। কারণ, বাবার পরিচয় পেল সে। কাজী অফিসে বিয়ের কাজ শেষ করে হাসপাতালে ফিরে যখন তিনি তার সন্তানকে ফিরে পেলেন, তখন প্রথমেই বলে উঠলেন, ‘ওরে আমার সোনা’। তারপর আর কিছু না বলেই কেঁদে উঠলেন ওই নারী।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে সোমবার রাত ৮টার দিকে ওই ছেলে সন্তানের জন্ম দেন নগরীর রায়পাড়া এলাকার এক নারী (২৫)। কিন্তু সকালে বাচ্চা রেখেই মায়ের সঙ্গে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তখন খবর পেয়ে হাসপাতাল পুলিশ বক্সের সদস্যরা তাদের আটক করে ওয়ার্ডে রেখে আসেন।

খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান নবদিগন্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রাজিয়া সুলতানা। তার হস্তক্ষেপে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর মিঠুর মোড় এলাকার একটি কাজী অফিসে কথিত প্রেমিকের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে দেয়া হয়। দেনমোহর ৫০ হাজার টাকা।

বিয়ের পর ওই নারীর মা (৫০) জানালেন, তার মেয়ে রাজশাহী কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করে আর মাস্টার্সে ভর্তি হননি। এখন তিনি একটি কিন্ডার গান্ডেনে শিক্ষকতা করেন। দু’বছর আগে তাদের বাড়ির সামনের এক লেদ মালিকের (২৮) সঙ্গে তার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই লেদ মালিকের বাড়ি পবা উপজেলার বালিয়া এলাকায়। প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই যুবক তার মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিন্তু বিষয়টি কারও কাছে কোনোদিন প্রকাশ করেননি তার মেয়ে। এমনকি গর্ভধারণের পরও না।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে সন্তানের জন্ম দেয়ার পর তার মেয়ে সবকিছু খুলে বলেন। তার মেয়ে তাকে জানিয়েছেন, তার প্রেমিক বিবাহিত এবং তার একটি সন্তানও আছে। গর্ভধারণের পর ওই যুবক তার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন। সন্তান জন্ম দেয়ার পর যোগাযোগ করা হলেও তিনি তাকে বিয়ে করতে চাননি। এ কারণে তারা লোকলজ্জার ভয়ে সন্তান রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ তাদের ধরে ওয়ার্ডে রেখে আসেন।

নবদিগন্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রাজিয়া সুলতানা জানান, বিষয়টি জেনে তিনি ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাকে অভয় দিলে তিনি হাসপাতালে আসেন। এরপর তিনি মেয়েটিকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেন। পুলিশও তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। তখন তিনি বিয়ে করতে রাজি হন। এরপরই তাদের কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ে দেয়া হয়। পরে ওই নারীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘নবজাতক তার পিতৃপরিচয় পেল, এটিই বড় কথা। এখন তাদের সংসার সুখের হোক, এই কামনায় করি।’