আগস্ট ২০, ২০১৭ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Home / slide / বৃত্তির ফল জালিয়াতি, জড়িতদের শাস্তির দাবি

বৃত্তির ফল জালিয়াতি, জড়িতদের শাস্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকৃত ফলাফল প্রকাশ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ‘সুশিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ অবস্থান কর্মসূচিতে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এতে সংগঠনের আহবায়ক ফারুক হোসেনসহ বক্তব্য রাখেন অভিভাবক আম্বিয়া খাতুন , মাসুদ রানা,  মিঠন আলী সরদার, সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত শিক্ষা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নামে শুধু বিভাগীয় মামলা করলেই হবে না, তাদের ফৌজদারী কার্যবিধি আওতায় তাদের নামে মামলা করে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তারা বলেন, শিক্ষক নামধারী কয়েকটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিজেদের ক্লাস বাদ দিয়ে থানা শিক্ষা কার্যালয়ের দালালি করেন। তাদের হুসিয়ারি দিয়ে বক্তারা বলেন, এই নোংরামি করে শিক্ষকের মর্যাদা নষ্ট করবেন না। শিক্ষকের নামটি কলঙ্কিত করবেন না।

অভিভাবক আম্বিয়া খাতুন বলেন, আমরা সংসারের সব কাজ ফেলে এখানে এসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। এটা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি প্রকৃত বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম প্রকাশ করার জন্য হুঁশিয়ারি দেন। শিক্ষার জায়গাটা আজ ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। তিনি এই ব্যবসায়ীদের তিনি কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

সুশিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ এর সদস্য মাসুদ রানা বলেন, আমি ক্ষমা চাই সেইসব শিক্ষার্থীদের কাছে যাদেরকে আমরা ন্যায্য ফলাফল থেকে বঞ্চিত করেছি। যাদেরকে আমরা খেলার মাঠ দিতে পারিনি, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ দিতে পারিনি । ফলাফলের নামে যাদের সঙ্গে আমরা প্রতারণা করেছি। এই কোমলমতি বাচ্চাদের কাছে আমাদের কোন জবাব নেই।

সুশিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ এর আহবায়ক ফারুক হোসেন বলেন, শিক্ষানগরী হিসেবে খ্যাত রাজশাহীতে এই রকম ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নম্বর টেম্পারিং করে যে বাচ্চাগুলোকে এই বৃত্তি পাইয়ে দেওয়া হেেয়ছে তারা পরবর্তীতে  মনে করবে এইভাবেই ফল জালিয়াতি করেই ভালো ফল করা সম্ভব। যারা ভালো ফলাফল করেও বৃত্তি পায়নি মেধার মূল্যায়ন আমরা দিতে পারলাম না।  তিনি বলেন, অবিলম্বেই সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।  এর সঙ্গে জড়িতদেরও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করার জন্য আহ্বান জানান। প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়ারও ঘোষণা দেন। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যুগে যুগে তদন্তের ফাঁকফোকর গলিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। এই সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। আশা করা যায় এ সরকারের আমলে অপরাধীরা পার পাবে না। তাদের সুষ্ঠু বিচার হবে। আর তা না করে তাহলে বলতে হবে তারা শুধু মুখেই শিক্ষার বুলি আওড়ায়। তারা জনগণের কাছে ধরা থাকবে।

অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ জুন ‘ রাজশাহীতে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তির ফল জালিয়াতি’ শিরোনামে পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর গত জুলাই মাসে রাজশাহীতে এসে এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সাইফুল ইসলাম তদন্ত করেন। তিনি গত ১৭ জুলাই মহাপরিচালকের কাছে এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

আ.লীগ নেতার হাতে খামার কর্মকর্তা লাঞ্ছিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোদাগাড়ী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়িহাটে অবস্থিত আঞ্চলিক দুগ্ধ ও গবাদি উন্নয়ন খামারের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *