Ad Space

তাৎক্ষণিক

রাজশাহী কলেজে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের সংঘর্ষ

নভেম্বর ২৮, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী কলেজে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় পুরো ক্যাম্পাসেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান রাজীবের নেতৃত্বে শিবিরকর্মী সন্দেহে এক ছাত্রকে পিটিয়েছেন নেতাকর্মীরা। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে কলেজের তিন শিক্ষকও তাদের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলীয় টেন্ট থেকে হঠাৎ মিছিল বের করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে তারা শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে সমাবেশ করার চেষ্টা করে। এসময় কলেজ হোস্টেল থেকে ছাত্রলীগের একটি মিছিল এসে  সেখানে পৌঁছলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে সংঘর্ষ  বেঁধে যায়।

এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করে। দৌড়ে পালানোর সময় কলা ভবনের সামনে থেকে শিবিরকর্মী সন্দেহে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহকে ধরে ফেলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে তারা বেয়ালিয়া মডেল থানার ওসি শাহাদত হোসেন খানের সামনে দিয়ে আব্দুল্লাহকে বেদম মারতে মারতে টেনে হেঁচড়ে বিজ্ঞান ভবনের দিকে নিয়ে যায়।

এসময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল। পরে তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আনিসুজ্জমান ও আবু নোমান এবং অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান। কিন্তু বেপরোয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদেরকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

এ সময় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে ছাত্রলীগ নেতারা বাধা দেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আবদুল্লাহকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পরে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার কলেজ ক্যাম্পাসে হাজির হন। তার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একটি মিছিল বের হয়ে নগরীর সাহেব বাজারের দিকে চলে যায়।

এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসে আসেন মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার পশ্চিম একেএম নাহিদুল ইসলাম। এরপরই কলেজে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ বলেন, শহীদ জিয়াবুল হক দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগের পূর্বনির্ধারিত শোকর‌্যালি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এসময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একত্রিত হয়ে মিছিল করে এবং উস্কানিমূলক শ্লোগান দেয়। এনিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি শাহাদত হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেছেন, ছাত্রদল মিছিল বের করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি। পরে এনিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে উত্তেজনা হয়। তবে কোনো মারামারি হয় নি।

এদিকে কলেজের অধ্যক্ষ মহা. হবিবুর রহমান জানিয়েছেন, মিছিলের আগে ছাত্রলীগ বা ছাত্রদল কেউ অনুমতি নেয় নি। দু’দলই অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে। তবে দু’দলেরই বহিরাগতরা এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে।