আগস্ট ২০, ২০১৭ ৭:১৮ অপরাহ্ণ
Home / slide / রাজশাহীকে জেতালেন মিরাজ

রাজশাহীকে জেতালেন মিরাজ

সাহেব-বাজার ডেস্ক : আগের ম্যাচগুলোতে মেহেদী হাসান মিরাজকে শুধু বোলার হিসেবেই দেখা যাচ্ছিল। এবার দলের বিপদে ব্যাট হাতে আলো ছড়ালেন। পরে জ্বলে উঠলেন বল হাতেও। অলরাউন্ডার মিরাজে রাজশাহী কিংস ১২৮ রান করেও রংপুর রাইডার্সকে হারাল ৪০ রানের বড় ব্যবধানে।
অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন মিরাজ। তবে মিরাজ যদি ম্যাচের নায়ক হন তাহলে পার্শ্বনায়ক ফরহাদ রেজা আর নাজমুল ইসলাম। ৪৩ রানেই ৭ উইকেট হারানোর পর অষ্টম উইকেটে মিরাজের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৮৫ রানের জুটিতে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছেন ফরফাদ। ৮ রানেই ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দিয়েছেন নাজমুল।

এবারের বিপিএলে দুবারের দেখায় রংপুরকে দুবারই হারাল রাজশাহী, জিতল টানা চতুর্থ ম্যাচ। নবম ম্যাচে পঞ্চম জয়ে রংপুরকে টপকে পয়েন্ট তালিকার চারে উঠে গেছে ড্যারেন সামির দল। সমান ম্যাচে চতুর্থ হারে পাঁচে নেমে গেছে রংপুর। যদিও দুদলেরই পয়েন্ট সমান ১০, তবে নেট রানরেটে এগিয়ে রাজশাহী।

সোমবার মিরপুরের দিনের একমাত্র ম্যাচে ১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় রংপুরের শুরুটাও ভালো হয়নি। পাওয়ার-প্লের ৬ ওভারে ২৯ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে তারা।

ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো মিরাজ বল হাতেও জ্বলে ওঠেন। ইনিংসের তৃতীয় ও মিরাজের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে এসে স্টাম্পড হয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার। পরের ওভারে আরেক ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদও মোহাম্মদ সামির শর্ট বলে স্লিপে ড্যারেন স্যামির ক্যাচ হয়ে ফেরেন।

মিরাজ নিজের পরের ওভারে এসে আবারও প্রথম বলেই তুলে নেন উইকেট। নাসির জামশেদকে নিজের দারুণ এক ডাইভিং ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন তরুণ অফ স্পিনার।

ষষ্ঠ ওভারে প্রথমবার আক্রমণে এসে লিয়াম ডসনকে এলবিডব্লিউ করেন বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম। রংপুরের স্কোর তখন ৬ ওভারে ৪ উইকেটে ২৯।

পঞ্চম উইকেট জুটিতে মোহাম্মদ মিঠুন ও শহীদ আফ্রিদি দলকে ৪৬ পর্যন্ত টেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু এ জুটি ভাঙার পর আবার পথ হারায় রংপুর। নাজমুলের বলে ক্রিজ ছেড়ে বাইরে এসে খেলতে গিয়ে উমর আকমলের হাতে স্টাম্পড আফ্রিদি। তিনে নেমে একপ্রান্ত আগলে রাখা মিঠুনও ফিরে যান পরের ওভারেই। সামিত প্যাটেলের বলে আকমলের ক্যাচ হওয়ার আগে মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে ইনিংস সর্বোচ্চ ২০ রান।

নাজমুল নিজের নির্ধারিত কোটার শেষ ওভারে এসে ফিরিয়ে দেন জিয়াউর রহমানকে। জিয়াউরও ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হয়ে ফেরেন। রংপুরের স্কোর তখন ৭ উইকেটে ৫৮। নাজমুলের বোলিং ফিগার ৪-১-৮-৩!

এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি রংপুর। পরের ব্যাটসম্যানরা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পারেন। বোলিংয়ে ফরহাদ রেজা ছাড়া রাজশাহীর বাকি পাঁচ বোলারই উইকেট পেয়েছেন। নাজমুল ৮ রানে ৩ উইকেট ও আবুল হাসান ১১ রানে পেয়েছেন ৩ উইকেট। মিরাজ ২টি এবং সামি ও প্যাটেল একটি করে।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজশাহীর অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। কিন্তু শুরুতেই ধাক্কা খায় রাজশাহী। ইনিংসে দ্বিতীয় ওভারেই রুবেল হোসেনের বলে উইকেটকিপার মোহাম্মদ শাহজাদকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জুনায়েদ সিদ্দিক।

দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে দলকে ২৫ পর্যন্ত টেনে নিয়েছিলেন মুমিনুল হক ও সাব্বির রহমান। কিন্তু এ জুটি ভাঙার পরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে রাজশাহীর ব্যাটিং লাইনআপ। ১ উইকেটে ২৫ থেকে রাজশাহীর স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৪৩!

মুমিনুলকে নিজের ফিরতি ক্যাচ বানিয়ে ২৩ রানের জুটি ভাঙেন স্পিনার আরাফাত সানী। এই ওভারের শেষ বলে শাহজাদের ক্যাচ হয়ে ফেরেন সামিত প্যাটেল। নিজের পরের ওভারে এসে আবুল হাসান রাজুকেও সাজঘরের পথ দেখান সানী।

এরপর আরেক স্পিনার শহীদ আফ্রিদি নিজের পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন উমর আকমল ও সাব্বিরকে। মাঝের ওভারে রাজশাহীকে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা দেন অবশ্য লিয়াম ডসন। ইংলিশ স্পিনারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন আগের দুই ম্যাচেই ঝড় তুলে রাজশাহীকে জেতানো স্যামি। ওপরের দিকের সাত ব্যাটসম্যানের মধ্যে সাব্বির (১৬) ছাড়া আর কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি! রাজশাহীর স্কোর ৭ উইকেটে ৪৩।

এরপরেই অষ্টম উইকেটে মিরাজ ও ফরহাদ রেজার ৮৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। বিপিএলে অষ্টম উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি। দুজনের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো পুঁজি পায় রাজশাহী। ৩২ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ফরহাদ। ৩৩ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন মিরাজ।

৪ ওভারে ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের সেরা বোলার সানী। ৪ ওভারে ১০ রানে ২ উইকেট নেন আফ্রিদি। রুবেল ও ডসনের ঝুলিতে জমা পড়ে একটি করে উইকেট।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

ভারতের উত্তর প্রদেশে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত ২৩

সাহেব-বাজার ডেস্ক : ভারতের উত্তর প্রদেশে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *