Ad Space

তাৎক্ষণিক

মাছ চুরির অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

নভেম্বর ২৬, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি হাসপাতালের পুকুর থেকে মাছ চুরির অভিযোগে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তুষার সরকারকে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁঠালবাড়িয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তুষার সরকার ওই গ্রামের মৃত ওবায়দুল সরকারের ছেলে।

রাজশাহী জেলা জজ আদালতের পরিদর্শক খুরশিদা বানু কনা জানান, শনিবার বিকেলে তুষার সরকারকে রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ হাজির করে পুলিশ। এ সময় তুষারের আইনজীবী আবদুল ওহাব জেমস তার জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য্য করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোদাগাড়ীর প্রেমতলী পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) পার্থ প্রতীম জানান, গত সোমবার গভীর রাতে উপজেলা (প্রেমতলী) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুরে একদল দুর্বৃত্ত মাছ চুরি করতে যায়। এ সময় স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া দিলে সবাই প্রাচীর টপকে পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে একটি মাছ ধরা বড় জাল, একটি ট্রলি, একটি টেম্পু, কিছু পোশাক ও স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম মঙ্গলবার অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, চোরেরা ২০ কেজি মাছ চুরি করেছে এবং আরও মাছ চুরির চেষ্টা করছিল। পরবর্তীতে মামলার তদন্তে নেমে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, মাছ চুরির সঙ্গে তুষার সরকার সরাসরি জড়িত। এ কারণে তাকে আটক করে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

তিনি আরও জানান, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দ করা জাল, টেম্পু, ট্রলি ও মোটরসাইকেল পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেলটি স্থানীয় ছাত্রলীগকর্মী শুভর (২৫) বলে জানা গেছে। তাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

গত মঙ্গলবার স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, মাছ চুরির সময় স্থানীয়রা ধাওয়া দিলে সবাই পালিয়ে যায়। তবে তুষার সরকার ও শুভ না পালিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গেই বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তারা মোটরসাইকেল, জাল, ট্রলি ও টেম্পু নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এ সময় স্থানীয়রা তাদের গণধোলাই দেন। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ওই দিন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরব আলী বলেছিলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তুষার সরকার জেলার নেতা। তাই এ বিষয়টি তিনি ‘দেখছেন না’। আর ছাত্রলীগের কোথাও শুভর কোনো পদ নেই। তিনি নেতাদের সঙ্গে ঘুরে নিজেকেও ছাত্রলীগ নেতা বলে পরিচয় দেন। তিনি বিবাহিত।

ওই দিন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরাজ সরকার বলেন, তুষার সরকার তার কমিটির সহ-সভাপতি। তবে মাছ চুরি করতে গিয়ে তিনি পিটুনি খেয়েছেন কী না তা তার জানা নেই। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।