Ad Space

তাৎক্ষণিক

খুলনা নিউজপ্রিন্টের জমিতে হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কাগজ কল

নভেম্বর ২৬, ২০১৬

সাহেব-বাজার ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের ৫০ একর জমির ওপর একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি কাগজ কল নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১০৬ কোটি টাকা।

খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল সূত্রে জানা গেছে, মিলের মোট জমির পরিমাণ ৮৭ দশমিক ৬১ একর। তবে মিলটির অবস্থান ৩৪ দশমিক ৪৩ একর জমির ওপর। বাকি ৫৩ একর জমিতে স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, কর্মকর্তাদের আবাসিক এলাকা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের কোয়ার্টার, খেলার মাঠ, বিনোদন কেন্দ্রসহ অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে। এই ৫৩ একর জমির মধ্যে ৫০ একর জমিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কাগজ কল নির্মাণ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, মিলের ৫০ একর জমি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। ৫০ একর জমি ও জমিতে বিদ্যমান গাছ ও স্থাপনার দাম ধরা হয়েছে ৮৬৪ কোটি ২৪ লাখ ১৩ হাজার ৬২০ টাকা। এর মধ্যে জমির দাম ৭৮১ কোটি ৮২ লাখ ২২ হাজার ৮৫২ টাকা ও বিদ্যমান স্থাপনার দাম রাখা হয়েছে ৮০ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ১০২ টাকা। আর জমিতে থাকা গাছপালার দাম ধরা হয়েছে ২ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার ৬৬৬ টাকা।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিউজপ্রিন্ট মিলের অব্যবহূত জায়গা বেছে নেয়া হয়েছে। নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি এখানে ৭৫০-৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে ভারত থেকে আমদানি করা এলএনজি গ্যাস (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস)। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৪ সালের জুলাইয়ে ভারত থেকে আমদানি করা এলএনজি গ্যাস দিয়ে খুলনায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ওই বছরের জুনে ভারতের গ্যাস কর্তৃপক্ষ লিমিটেডের (জিএআইএল) সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার একটি চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী, কলকাতার আড়ংঘাটা পাইপলাইন স্টেশন থেকে পেট্রাপোল হয়ে বেনাপোল দিয়ে যশোর পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। সেখান থেকে গ্যাস আনা হবে খুলনায়। এজন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ সম্পর্কে নর্থ-ওয়েস্টার্ন পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক শহিদুল মারছালিন জোয়াদ্দার জানান, ৪০০ মেগাওয়াট করে দুটি কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এছাড়া ৪৫-৪৮ হাজার টন উৎপাদনক্ষমতার নতুন আরেকটি কাগজ কল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে এ জমিতে। এতে সাদা নিউজপ্রিন্টসহ পাঁচ ধরনের কাগজ তৈরি করা যাবে। এজন্য প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫০ কোটি টাকা।

খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকলেও এটি চালুর উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থেকেছে প্রতিশ্রুতির মধ্যে। অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে মিলের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি। এ সম্পর্কে মিলের উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নুরুল্লা বাহার জানান, মিলের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী ৩৮ জন। নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীর পাশাপাশি ৩১ জন আনসার মিলের নিরাপত্তায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন মিল বন্ধ থাকায় মিলের মূল্যবান সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুনুর রসুল বলেন, বিসিআইসির পক্ষ থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য ৫০ একর জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটির বর্তমান বাজারদর যাচাইয়ের জন্য খুলনা জেলা প্রশাসককে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, মিলের ভেতরে ৫০ একর জমি বিক্রির জন্য বিসিআইসি একটি মূল্য নির্ধারণ করে প্রস্তাব করেছে। জমির বর্তমান বাজারদর নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এটি প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।