নভেম্বর ২২, ২০১৭ ৩:২১ অপরাহ্ণ

Home / slide / দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন খাদিজা

দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন খাদিজা

সাহেব-বাজার ডেস্ক : পুরোপুরি সুস্থ হতে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন খাদিজা বেগম নার্গিস। তিনি বলেন, ‘সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের দোয়ায় সুস্থ আছি, ভালো আছি। দোয়া করবেন যেন ভালো থাকি, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারি।’ তিনি এ সময় সাংবাদিক ও চিকিৎসকদেরও ধন্যবাদ জানান। শনিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় স্কয়ার হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন খাদিজা। ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের হামলায় আহত খাদিজা বেগম নার্গিস এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

শনিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় খাদিজার চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানানোর জন্য স্কয়ার হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্কয়ার হাসপাতালের মেডিক্যাল সার্ভিসেস ডিরেক্টর ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এরপর কথা বলেন খাদিজা। এর আগে খাদিজাকে ১১২৯ নম্বর কেবিন থেকে হুইলচেয়ারে করে আনা হয় নিচতলায় সংবাদ সম্মেলনস্থলে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে কথা বলার সময় ডান হাত দিয়ে মাইক্রোফোন ধরে কথা বলেন তিনি। তার পাশে ছিলেন তার বাবা মাসুক মিয়া ও নিউরোসার্জন ডা. রেজাউস সাত্তারসহ হাসপাতালের অনেকে। সংবাদ সম্মেলন শেষে আবার হুইলচেয়ারে করে কেবিনে নিয়ে যাওয়া হয় খাদিজাকে।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা নাজিম উদ্দিন জানান, খাদিজা এখন নিজে খেতে পারে। যেকোনো লেখা পড়তে পারে। ধরে ধরে হাঁটতে পারে। মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেহেতু তার general and neurological condition এখন ভালো, তাই তাকে ডিসচার্জ করে দেওয়া এবং ভালো কোথাও রিহ্যাব ফিজিওথেরাপি দেওয়া দরকার।

তিনি বলেন, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে যে খাদিজা অমানবিকতার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছিল, সেই খাদিজা আজ বাংলাদেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আর এটা সম্ভব হয়েছে স্কয়ার হাসপাতালের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং আপনাদের দোয়ায়।

তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবনমানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থারও। বাংলাদেশের বিশেষায়িত হাসপাতালে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব। এ ব্যাপারে জনগণের আস্থা ও জনসচেতনতার জন্য মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী খাদিজার চিকিৎসার ব্যাপারে স্কয়ার হাসপাতালের ওপর যে আস্থা দেখিয়েছেন, তার জন্য আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানান মির্জা নাজিম।

গত সোমবার (৩ অক্টোবর) সিলেট মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগমের (১৯) ওপর নির্মম হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম।

মির্জা নাজিম বলেন, সিলেটে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) মুমূর্ষু অবস্থায় স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় খাদিজাকে। তখন ইমার্জেন্সিতে খাদিজার GCS (জ্ঞানের লেভেল) ছিল মাত্র ৫। সম্পূর্ণ অচেতন অবস্থায় এবং বাঁচার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে দিয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। সেখানে সিটি স্ক্যান করে দেখা যায় যে skull bone বিক্ষিপ্তভাবে থ্যাঁতলানো এবং ব্রেনের অন্যান্য অংশ গুরুতরভাবে আক্রান্ত এবং মিডলাইন থেকে সরে গেছে।

তিনি বলেন, কালক্ষেপণ না করে সেদিনই অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে নিউরোসার্জারি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. এ এম রেজাউস সাত্তারের নেতৃত্বে অত্যন্ত বিপজ্জনক যেনেও অপারেশন করা হয় মস্তিষ্কে। তারপরই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ধীরগতিতে তার উন্নতি দেখা যায়।

গত সোমবার (১৭ অক্টোবর) অর্থোপেডিক বিভাগের ডা. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তার ডান হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়। বুধবার (১৯ অক্টোবর) এইচডিইউতে স্থানান্তর করা হয় তাকে।

এরপর সোমবার (৭ নভেম্বর) অর্থোপেডিক এবং নিউরোসার্জারি বিভাগ একসঙ্গে মস্তিষ্কের হাড় পুনঃস্থাপন ও হাতের অপারেশন করে। মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) সার্বিক অবস্থার উন্নতি হলে কেবিনে স্থানান্তর করা হয় খাদিজাকে। একজন মানুষের GCS থাকে ১৫ এখন খাদিজারও GCS ১৫। কিন্তু তার বাঁ দিকে অবশ।

স্কয়ার হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী সোমবার (২৮ নভেম্বর) স্কয়ার থেকে সাভারে সিআরপিতে পাঠানো হতে পারে খাদিজাকে।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

মেহনতী মানুষের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টিকে বিকশিত করতে হবে: বাদশা

দিনাজপুর প্রতিনিধি : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেছেন, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *