Ad Space

তাৎক্ষণিক

রাবিতে ছাত্রী উত্যক্ত করায় ছাত্রলীগের দলীয় কর্মীকে পিটুনি

নভেম্বর ২৫, ২০১৬

রাবি প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক ছাত্রীকে উত্যক্তের করায় আলী আহসান নাহিদ নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর করেছে ছাত্রলীগ কর্মী তওশিক তাজ। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

উত্যক্তকারী ছাত্রলীগ কর্মী নাহিদ দর্শন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক উত্যক্ত্যের অভিযোগ ছিলো। একই বিভাগের এক ছাত্রীকে উত্যক্তের অভিযোগে গত ৪ সেপ্টেম্বর মুচলেকায় ছাড় পেয়েছিলেন নাহিদ।

মারধরকারী তাওশিক তাজও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। ২০১৪ সালের ১৯ আগষ্ট দিনাজপুর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়াতে আসা জুন্নুন ওয়ালিদ বাবু নামের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিলো তাজের বিরুদ্ধে। এঘটনায় তার বিরুদ্ধে নগরীর মতিহার থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছিলো।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার তাপসী রাবেয়া হলের ছাত্রীরা র‌্যাগ ডে পালনের জন্য শহীদ মিনারে উপস্থিত হন। এসময় হলের এক ছাত্রীকে উদ্দেশ্য করে নাহিদ বাজে মন্তব্য করে। মেয়েটি প্রতিবাদ করলে এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। ঘটনাস্থলে তাজ উপস্থিত হয়ে দেখেন মেয়েটি তার পূর্ব পরিচিত। তাই তিনি নাহিদকে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে বলেন। পরে নাহিদ তাজের সঙ্গেও বিতর্কে জড়ায়। এমতাবস্থায় তাজ নাহিদকে মারধর করে। মারধরের পর নাহিদকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে (রামেক) ৮ নং ওয়ার্ডে গুরুতর আহতাবস্থায় চিকিৎসাধীন ভর্তি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নাহিদের বরাত দিয়ে তার এক বড় ভাই বলেন, ‘নাহিদ তার সঙ্গে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে ফাজলামি করে কিছু একটা বলে। এসময় পাশে মেয়েটি ছিল। মেয়েটি ভাবে নাহিদ তাকে বলেছে। এই ভেবে তিনি নাহিদের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান। পরে তাজ এসে নাহিদকে মারধর করে। বাম চোখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাকে মেডিকেলে ভর্তি করানো হয়।

জানতে চাইলে তাজ বলেন, ‘হল থেকে বের হওয়ার সময় ছাত্রী উত্যক্তের ঘটনাটি চোখে পড়ে। আমি ঘটনার প্রতিবাদ করি ও মেয়েটির কাছে ক্ষমা চাইতে বলি। এতেই সে আমার উপর তেড়ে আসে। এসময় বড় ভাই হিসেবে আমি তাকে শুধু দুইটা চড় মেরেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লব বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. মুজিবুল হক আজাদ খান বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত সত্যতা জেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’