নভেম্বর ১৮, ২০১৭ ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ

Home / slide / বাঘায় আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বিরাট ভুমিকা পালন করছে খেজুর গুড়

বাঘায় আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বিরাট ভুমিকা পালন করছে খেজুর গুড়

নুরুজ্জামান, বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় শুরু হয়েছে খেজুর গুড় ও রস সংগ্রহের উৎসব। এ উপজেলার প্রধান অর্থকারী  ফসল আমের পরেই খেজুরের গুড়ের স্থান। বর্তমান শীত মৌসুমকে ঘিরে প্রায় ১০ কোটি টাকার গুড় বিক্রির লক্ষ্য নিয়ে উৎপাদন শুরু করেছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। এখানকার গুড় রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চালান দেয়া শুরু হয়েছে। তাই কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরীর কাজে। অনেকেই বলছেন সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে এর উৎপাদন আরো বৃদ্ধি হবে।

বাঘায় খেজুরের গুড়ের উৎপাদনকে বাণিজ্যিক ও ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বাঘায় খেজুরের গুড়ের উৎপাদন এবং সুনাম এ অঞ্চলের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বিরাট ভুমিকা পালন করছে। সেই সাথে দারিদ্র ঘুচাতেও ব্যাপক সহায়তা করছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, এ উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হাজার কৃষি পরিবার রয়েছে। যাদের প্রত্যেকেরই কম-বেশি খেজুর গাছ রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার খেজুর বাগান রয়েছে। এ ছাড়া সড়কপথ, রেললাইনের ধার, পতিত জমি, জমির আইল ও বাড়ির আঙিনায় মিলে প্রায় দেড় লক্ষাধিক খেজুর গাছ রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, একজন ব্যক্তি প্রতিদিন ৫০-৫৫টি খেজুর গাছের রস আহরণ করতে পারে। এ রকম ৪-৫ হাজার ব্যক্তি রয়েছে যারা শীত মৌসুমে খেজুরের রস সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। এ অঞ্চলে যে সব ব্যাক্তি  খেজুর গাছ লাগায় তাদের আঞ্চলিক ভাষায় গাছি বলা হয়। মৌসুম ভিত্তিক এ পরিবারগুলো খেজুর গাছের ওপর নির্ভরশীল। একজন গাছি এক মৌসুমে অর্থ্যাৎ ১২০ দিনে ১টি গাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ কেজি গুড় পেয়ে থাকেন। খেজুর গাছ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না কিংবা এই গাছের জন্য বাড়তি কোনো খরচও করতে হয় না। ঝোপ-জঙ্গলে কোনো যত্ন ছাড়াই বড় হয়ে ওঠে খেজুর গাছ। শুধু মৌসুম এলেই নিয়মিত গাছ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেই রস দিয়ে তৈরী করা হয় সুস্বাদু গুড়।

উপজেলার আমোদপুর গ্রামের কৃষক সইমুদ্দিন জানান, তার প্রায় দেড় শতাধিক খেজুর গাছ রয়েছে। এই গাছ গুলো লাগানোর জন্য তিনি দু’জন গ্যাছি নিয়োগ করেছেন। যারা নিয়মিত গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরী করছেন। তিনি সপ্তায় দু’দিন বাঘার হাটে ব্যবসায়ীদের কাছে ৭০ থেকে ৭২ টাকা কেজি দরে গুড় বিক্রি করে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা আয় করছেন বলে জানান। অনুরুপ কথা বলেন, বারখাদিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক। তাদের মতে, রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশে বাঘা উপজেলার  আমের যে খ্যাতি রয়েছে অনুরুপ খ্যাতি রয়েছে এখানকার সু-মিষ্টি খেজুরের গুড়ের।

বাঘার গুড় ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক ও সেকেন্দার আলী জানান, বাঘা একটি কৃষি প্রধান এলাকা। এখানে বিভিন্ন ধরনের ফসলের মধ্যে খেজুর গাছ একটি মুল্যবান সম্পাদ। তাদের মতে, অত্র অঞ্চলের চরাঞ্চল থেকে শুরু করে সমতল এলাকায় যার তিন কাঠা জমি রয়েছে তারও দুটি খেজুর গাছ রয়েছে। তারা বলেন, এই খেজুর গাছের গুড় থেকে এ অঞ্চলের মানুষ প্রতি শীত মৌসুমে কমকরে হলেও ৯-১০ কোটি টাকা আয় করে থাকেন। বর্তমানে এ অঞ্চলের গুড় রাজধানী ঢাকা সহ- নারায়নগঞ্জ, ভৈরব, পটুয়াখালি এবং বরিশাল সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানী করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন জানান , শুধু সরকারিভাবেই নয়, আমরা কৃষকদের মাঝে খেজুর গাছ লাগানোর জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। এ ছাড়া আখের পাতা ও ধানের খড় সংগ্রহ করার পরামর্শ দিয়ে থাকি, যা গুড় তৈরিতে সহজ হয়। তিনি বলেন, বাঘার মানুষ খেজুর গাছ থেকে প্রতি শীত মৌসুমে প্রায় ১০ কোটি টাকা আয় করে থাকেন। তার মতে, যদি কৃষকরা নিজ নিজ পতিত জমিতে খেজুর গাছ লাগান তাহলে এ অঞ্চলের গুড় দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে ব্যাপক অর্থ উপার্জনে সহায়ক হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

একযুগ পর বাঘা পৌর নির্বাচন, ক্লিন ইমেজের প্রার্থী চায় আ’লীগ

নুরুজ্জামান, বাঘা : বাঘা পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে ইতিমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *