Ad Space

তাৎক্ষণিক

পরীক্ষার হলেও লিপুকে স্মরণ

নভেম্বর ২৪, ২০১৬

রাবি প্রতিবেদক : গত বছর (২০১৫ সাল) দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসেছিলেন লিপুর সঙ্গে। আজ (বৃহস্পতিবার) ছিলো তাদের তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রথম দিন। সময় হারিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে লিপু। সবাই থাকলেও লিপুকে সঙ্গে নিয়ে আর পরীক্ষা দেয়া হয়নি। এমনটি ভাবতেই পারছিলেন না লিপুর সহপাঠীরা। কিন্তু লিপুকে তারা ভুলে থাকতে পারেননি। পরীক্ষার হলেও স্মরণ করেছেন লিপুকে। পরীক্ষা শুরুর আগে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করেন লিপুর সহপাঠীরা।

প্রিয় সহপাঠীকে হারানোর বেদনাহত কন্ঠে বলছিলেন ফারুক খান, ২০১৪ সালের ১০ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে ক্লাস শুরু করেছিলাম। আমরা ছিলাম ২০১৩-১৪ সেশনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী। আজও সেদিনকার সেই ১২৩ নম্বর কক্ষেই শুরু হলো তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা। কক্ষের লাইট, সিলিং ফ্যান, দরজা, জানালা সবই আছে। কিন্তু কী যেন শূণ্যতা। ভাবতেই পারছি না আমাদের সহপাঠী লিপু আর আমাদের মাঝে নেই।

ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রুবেল বলেন, কোন ভাবেই আমরা লিপুকে ভুলতে পারছি না। তাই বুকে লিপুর ছবি নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছি। গত বছর ৩১ শে অক্টোবর, আমরা ২য় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসেছিলাম একইসঙ্গে। বছর ঘুরে আগামীকাল ২৪ শে নভেম্বর আমরা ৩য় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসেছি। পার্থক্য হলো, গত বছর আমি লিপুর পাশে বসে একই কক্ষে পরীক্ষা দিয়েছি। আর এবার লিপুকে ছাড়াই পরীক্ষা দিচ্ছি। আমরা লিখব খাতায়, মাথায় থাকবে পড়া আর বুকে থাকবে লিপু। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথমবার তাকে ছাড়া পরীক্ষায় বসতে যাচ্ছি, লিপু ভাল থাকে যেন ওপারে এই প্রার্থনা করি।

নিরবতা পালনের আগে বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে বলেন, আমরা লিপুর কথা ভুলতে পারছি না। লিপুর হত্যাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত শান্তি পাবো না। লিপুর সহপাঠীদের প্রতি আহ্বান, তোমরা বিচার না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাও। আমরা তোমাদের এই আন্দোলনের সঙ্গেই আছি।

উল্লেখ্য, গত ২০ অক্টোবর রাবির নওয়াব আবদুল লতিফ হলের ড্রেন থেকে মোতালেব হোসেন লিপুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথম থেকে পুলিশ এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আসছে। এ ঘটনায় লিপুর চাচা বশির উল্লাহ মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘটনার প্রেক্ষিতে লিপুর রুমমেটকে ধরে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছিলো মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অশোক চৌহান। সর্বশেষ রুমমেট মনিরুল ইসলাম এখন জামিনে আছেন। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা এখনো জানাতে সক্ষম হয়নি পুলিশ।