নভেম্বর ১৯, ২০১৭ ৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ

Home / slide / পায়ের শক্তিতেই এগিয়ে চলেছে সাথী

পায়ের শক্তিতেই এগিয়ে চলেছে সাথী

নিজস্ব প্রতিবেদক : জন্ম থেকেই একটি হাত নেই। অপর হাতটিও অকেজো। তাতে কি হয়েছে। নিজের অফুরন্ত প্রাণ শক্তি নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে সুমাইয়া আকতার সাথী(১১)। পা দিয়ে লিখেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি পরীক্ষা দিচ্ছে সাথী। সে পবা উপজেলার মাঝিগ্রামের জাইদুল ইসলামের মেয়ে।

সাথী মাঝিগ্রাম ব্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। প্রতিবন্ধী হলেও লেখাপড়ায় সে অনেকের চেয়ে ভালো। সাথী শুধু লেখাপড়াতেই না সে ছবিও অঙ্কণ করতে পারে।

খুব ছোট থেকেই সাথী ছবি অঙ্কন করে। পা দিয়ে ছবি এঁকে ২০১২ সালে সে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাথীর বাবা থেকেও নেই। জন্মের পর তার হাত নেই দেখেই বিমুখ হয়ে তার মাকে ছেড়ে চলে গেছেন নিষ্ঠুর বাবা। তাই বাবার নাম বলতে বা জানাতে চায়না ছোট সাথী। মায়ের সঙ্গে নানার বাড়িতে থাকে সে। স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলে এখন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

সাথীর মা জামিরুন নেসা বললেন, তার জন্মের পর দুই হাত নেই দেখে তাকে আতুরঘরে রেখেই চলে গেছেন তার বাবা। পরে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর থেকে জামিরুন বাবার বাড়িতে থেকে প্রতিবন্ধী মেয়েকে মানুষ করার জন্য মুদি দোকান দিয়েছেন। সে দোকানের আয় দিয়েই চলছে মা ও মেয়ের জীবন।

জামিরুন জানান, তার মেয়ে সাথীর ছবি আঁকার খুব ঝোঁক। একটি হাত গোড়া থেকেই নেই। অন্যটি থাকলেও অস্বাভাবিক। হাতে কলম ধরতে পারে না। তাই পা দিয়েই কলম ও পেন্সিল দিয়ে ছবি আকে। তিনি তার মেয়েকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

সাথীর শিক্ষকদের কয়েকজন জানান, সাথী খুব মেধাবী। তাকে সবাই ভালোবাসে। একটু সুযোগ পেলে প্রতিবন্ধিতা দুর করে সে ভবিষ্যতে অনেক বড় হয়ে উঠতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

অবশেষে খুলছে রাজশাহী রেশম কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ ১৫ বছর বন্ধ থাকার অবশেষে খুলছে রাজশাহী রেশম কারখানা। রাজশাহী সদর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *