নভেম্বর ২৪, ২০১৭ ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ

Home / slide / গোদাগাড়ীতে অসহায় পরিবারের বাড়ি দখলের অভিযোগ

গোদাগাড়ীতে অসহায় পরিবারের বাড়ি দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অসহায় একটি পরিবারের বাড়ি দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ কাজে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য (মেম্বার) দখলদারদের সহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগি গিয়াস উদ্দিনের (৫৫) অভিযোগ, এ জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরও পুলিশ বাড়ি উদ্ধারে কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না। গিয়াস উদ্দিনের বাড়ি উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের এনায়েতুল্লাপুর গ্রামে। গিয়াস উদ্দিনের পুরো পরিবার গাজীপুরে থাকার কারণে তার এ বাড়িটিই দখল করে নিয়েছে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল।

গিয়াস উদ্দিন জানান, কয়েক বছর আগে তিনি শ্রমিকের কাজ নিয়ে দুবাই গিয়েছিলেন। তার দুই ছেলে গাজীপুরে একটি কোম্পানীতে চাকরি করেন। তিনি বিদেশ যাওয়ার পর তার স্ত্রী গাজীপুরে ছেলেদের কাছে চলে যান। তিনি নিজেও বিদেশ থেকে ফেরার পর স্ত্রী-সন্তানদের সাথে গাজীপুরে থাকেন। এনায়েতুল্লাপুরের বাড়িটি ফাঁকা পড়ে থাকে।

গত ১৩ নভেম্বর গ্রামের মৃত নকিমুদ্দিনের ছেলে কাজিমুদ্দিন (৩৫) বাড়িটির তালা ভেঙ্গে দখল করে নেন। খবর পেয়ে তিনি গাজীপুর থেকে গ্রামে ফিরে দেখেন, তার বাড়িতে কাজিমুদ্দিনের পরিবারের বসবাস। এর কারণ জানতে চাইলে কাজিমুদ্দিন তাকে জানান, তিনি তার কাছে প্রায় তিন লাখ টাকা পাবেন। এ জন্য বাড়িটি দখল করেছেন। এরপর গিয়াস উদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

গিয়াস উদ্দিনের দাবি, কাজিমুদ্দিন টাকা নেয়ার একটি জাল স্ট্যাম্প তৈরি করেছেন। কিন্তু স্ট্যাম্পে যে সময়ের স্বাক্ষর রয়েছে, তিনি সে সময় বিদেশে ছিলেন। কাজিমুদ্দিন জোর করেই তার বাড়ি দখল করেছেন। আর এতে তাকে সহায়তা করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম টুলু ও ইউপি সদস্য কামাল সরকার। এ জন্য থানায় অভিযোগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কাজিমুদ্দিন দাবি করেন, বাড়ি বিক্রির নামে গিয়াস উদ্দিন তার কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও বাড়িটি রেজিস্ট্রি করে দেননি। তিনি তার নামে ইউনিয়ন পরিষদে মামলা করেছিলেন। সেখান থেকে নোটিশ পাঠানো হলেও গিয়াস উদ্দিন হাজির হননি। এ জন্য তিনি তার বাড়ি দখল করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

টাকা পেলেও কারও বাড়ি দখল করার নিয়ম আছে কী না জানতে চাইলে কাজিমুদ্দিন বলেন, ‘নিয়ম নেই। কিন্তু পালিয়ে বেড়ানোর কারণে বাড়ি দখল করা হয়েছে। বিষয়টি চেয়ারম্যান-মেম্বার সবাই জানেন। টাকা দিলে আমি বাড়িটি ফিরিয়ে দেব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, টাকা পেলেও কেউ কারও বাড়ি দখল করতে পারেন না। থানায় অভিযোগ হওয়ার পর বিষয়টি দেখার জন্য কাঁকনহাট পুলিশ ফাঁড়িকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না এমন অভিযোগ সঠিক নয়। বরং অভিযোগকারীই থানায় যোগাযোগ করছেন না।

তবে গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিনের (৪৫) অভিযোগ, থানায় অভিযোগ করার পর বিষয়টি নিয়ে তিনি বার বার কাঁকনহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি। বরং তার সঙ্গে দুর্ব্যাবহার করা হয়েছে। বাড়িটি ফিরে না পেলে পরিবার নিয়ে তাদের রাস্তায় দাঁড়াতে হবে। তিনি দাবি করেন, কাজিমুদ্দিনের স্ট্যাম্প ভূয়া। তার স্বামীর স্বাক্ষরের সঙ্গে স্ট্যাম্পের স্বাক্ষরের কোনো মিল নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাঁকনহাট পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক বলেন, তিনি এখানে মাত্র তিনদিন আগে যোগ দিয়েছেন। তাই অভিযোগের বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি এখন খোঁজখবর নিয়ে বাড়ি উদ্ধারে ব্যবস্থা নেবেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল সরকার বলেন, বাড়ি দখলের ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তবে কাজিমুদ্দিন তার কাছে টাকা পাবেন বলেও তিনি শুনেছেন। এর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

এ নিয়ে কথা বলতে বুধবার বিকেলে রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম টুলুর মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন না ধরায় এ ব্যাপারে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

শিবগঞ্জে শিশু কল্যাণ বোর্ড সভা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : শিশু আইন ২০১৩ বাস্তবায়নে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *