Ad Space

তাৎক্ষণিক

শিশু সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে ভূমিহীন পরিবার!

নভেম্বর ২২, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা : এলাকার এক প্রভাবশালী কর্তৃক বসতবাড়ি উচ্ছেদের পর ৫ মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে  খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছে ভুমিহীন এক পরিবার। উদ্বাস্তু হয়ে পড়া এই পরিবারটি শীতে এবং কুয়াশার ভিতর অতিকষ্টে বাঘা-ঈশ্বরদী সড়ক সংলগ্ন লালপুর-বাঘা উপজেলার শেষ সীমানা বেরিলাবাড়ি গ্রামের একটি বট গাছের তলায় রাত কাটিয়েছে। উচ্ছেদ করার আগে পুনর্বাসনের বিকল্প কোন ব্যবস্থা না করায়, এখন কোথায় যাবে, এনিয়ে অনেকটা অসহায় অবস্থাতেই দিন কাটছে তাদের। মঙ্গলবার বিকালে খবর পাওয়ার পর ওই এলাকায় গিয়ে এ চিত্র চোখে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৬ বছর আগে উপজেলার বড়ছয়ঘটি গ্রামের খাঁপাড়া থেকে বাড়ি ভেঙ্গে নিয়ে, বাঘা-ঈশ্বরদী সড়ক সংলগ্ন লালপুর-বাঘা সীমান্ত  এলাকার শেষ প্রান্ত বেরিলাবাড়ি গ্রামে ঘরবাড়ি তুলে বসবাস করে আসছেন কাবিল উদ্দিন ও তার স্ত্রী সালেহা।

সালেহা জানান, পাশের গ্রাম বাদলি বাড়ি এলাকার মকবুল, আনছার সরকার, তৎকালিন চেয়ারম্যান মক্কেল আলীসহ বেশ কিছু লোকজন ভুমিহীন হিসাবে তাদের সহযোগিতাও করেছেন। ওই গ্রামের সান্টু হোসেন জানান, বাদলিবাড়ি গ্রামের সম্পদশালী সাধু প্রামানিক প্রায় ১৩ বছর আগে জৈনক কেবলার নিকট থেকে ৯ কাঠা জমি ক্রয় করেন। খরিদসুত্রে মালিক কেবলা বেরিলাবাড়ির ইয়াদ আলীর শরিকানদের কাছ থেকে উক্ত জমিটি কেনার পর সাধুর কাছে বিক্রি করে দেন। সাধুর কেনা এই জমিটি রাস্তা সংলগ্ন উত্তরে  ভুমিহীন পরিবারের নির্মানাধীণ বাড়ির পেছনে রয়েছে।

তাদের দেওয়া তথ্য মতে, রাস্তার উত্তরে বিক্রিত এই সম্পত্তি ছাড়াও রাস্তার দক্ষিনেও কেবলার জমি রয়েছে। দক্ষিন সীমানার এ জমির উপর দিয়ে পিচঢালা পাঁকা রাস্তা করা হয়েছে।  নকশা মোতাবেক রাস্তার প্রকৃত জমি উত্তরে পড়ে ছিল। সেখানেই  ভুমিহীন পরিবারটি ঘর তুলে বসবাস করছিলেন।

এদিকে ইয়াদ আলীর শরিকানদের নিকট থেকে কেবলার  খরিদকৃত ৯ কাঠা জমি সাধুর নিকট হস্তান্তর করার পর, সাধুর কেনা জমির দক্ষিনে ও রাস্তার উত্তরে  ভুমিহীনদের যে বাড়ি রয়েছে, সেই জমিটি দখল উচ্ছেদের  জন্য ১৩ বছর আগে নাটোর আদালতে মামলা করেন সাধু।

এ বিষয়ে সাধুর সাথে কথা  বললে তিনি মুখ খুলতে চাননি। তিনি জানিয়েছেন আদালত কর্তৃক রায় পাওয়ার পর গত সোমবার আদালতের লোকজন এসে তার জমির দখল বুঝে দিয়েছেন।

লালপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ জানান, নকশা কোন দিক দিয়ে রয়েছে কিংবা কার জমির উপর দিয়ে রাস্তা গেছে এ সব বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। সাধুর অভিযোগের বিত্তিতে উচ্ছেদ নোটিশ আসায় তার কেনা জমির সামনে থেকে একটি পরিবারে সরনো হযেছে।

তবে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, যে পরিবারটিকে প্রভাব শালীর অভিযোগের ভিত্তিতে উচ্ছেদ করা হয়েছে তারা অসহায় এবং ভুমিহীন। এই পরিবারটিকে এ ভাবে উচ্ছেদের আগে তাদের নুন্যতম সময় দেয়া অথবা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। তা হলে ৫ মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে বট তলায় রাত কাটাতে হতো না।