Ad Space

তাৎক্ষণিক

হাসপাতালের মাছ চুরি : পিটুনি খেলেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী

নভেম্বর ২২, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোদাগাড়ী : সরকারি হাসপাতালের পুকুর থেকে মাছ চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগের দুই নেতা-কর্মী পিটুনি খেয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা (প্রেমতলী) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

পিটুনির শিকার দুজন হলেন, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তুষার সরকার (২৮) ও স্থানীয় ছাত্রলীগকর্মী শুভ (২৪)। তাদের দুজনেরই বাড়ি পার্শ্ববর্তী কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামে। তুষারের বাবার নাম মৃত ওবায়দুল সরকার। আর শুভর বাবার নাম মৃত সাবিয়ার রহমান। হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারি ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

মাছ চুরি করতে নিয়ে যাওয়া তাদের একটি মোটরসাইকেল, একটি ভুটভুটি টেম্পু, একটি ট্রলি, একটি জাল, কিছু পোশাক এবং স্যান্ডেলও স্থানীয়রা জব্দ করেছেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেগুলো পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে। মোটরসাইকেলটি শুভর বলে জানা গেছে। আর বাকি সবকিছু ভাড়া করা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে একটি বড় পুকুর রয়েছে। ওই পুকুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাছ চাষ করেছে। সোমবার দিবাগত রাতে ছাত্রলীগ নেতা তুষার সরকারের নেতৃত্বে ৮-১০ কর্মী পুকুরটিতে জাল ফেলে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ সময় হাসপাতালের নৈশ্যপ্রহরী বাধা দিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে লাঞ্ছিত করেন।

এক পর্যায়ে তাদের চেঁচামেচিতে স্থানীয়রা এগিয়ে যান। তারা মাছ চুরির বিষয়টি বুঝতে পেরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় শুধু তুষার ও শুভ ছাড়া বাকি সবাই হাসপাতালের প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। আর তুষার সরকার ও শুভ সেখানে থাকা তাদের মোটরসাইকেল, টেম্পু, ট্রলি ও জাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে স্থানীয়রা বাধা দিলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাদের পিটুনি দিয়ে ছেড়ে দেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম মঙ্গলবার বিকেলে জানান, রাত ৩টার দিকে হাসপাতালের নৈশ্যপ্রহরী ফোন করে তাকে মাছ চুরির চেষ্টার বিষয়টি জানান। তিনি তখন আলামত হিসেবে সবকিছু জব্দ করে রাখার নির্দেশ দেন। পরে বিকেলে পুলিশ ডেকে সেগুলো তাদেরকে বুঝিয়ে দেন।

গোদাগাড়ীর প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) পার্থ প্রতীম জানান, রাতেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে কাউকে আটক করা যায়নি। বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জব্দ করা মোটরসাইকেল, টেম্পু, ট্রলি ও জাল পুলিশের জিম্মায় দিয়েছে। তবে বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় তারা কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি।

এদিকে মাছ চুরির চেষ্টার অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার সকালে ছাত্রলীগ নেতা তুষার সরকারের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে ফোন করা হয়। তবে তিনি তুষার সরকার নন বলে দাবি করেন। আর যোগাযোগের চেষ্টা করেও ছাত্রলীগকর্মী শুভর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরব আলী বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তুষার সরকার জেলার নেতা। তাই এ বিষয়টি তিনি ‘দেখছেন না’। আর ছাত্রলীগের কোথাও শুভর কোনো পদ নেই। তিনি নেতাদের সঙ্গে ঘুরে নিজেকেও ছাত্রলীগ নেতা বলে পরিচয় দেন।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরাজ সরকার স্বীকার করেন তুষার সরকার তার কমিটির সহ-সভাপতি। তবে তুষার মাছ চুরি করতে গিয়ে পিটুনি খেয়েছেন কী না তা তার জানা নেই। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান মেরাজ সরকার।