Ad Space

তাৎক্ষণিক

নাটকীয় জয়ে ঢাকাকে হারালো রাজশাহী

নভেম্বর ২১, ২০১৬

সাহেব-বাজার ডেস্ক : বিপিএলে পয়েন্ট টেবিলে তলানির দিকে থাকা রাজশাহী কিংস চলতি আসরে সোমবারের আগে একটি ম্যাচেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছিল। ড্যারেন স্যামির দল মহামূল্যবান সেই জয়টি তুলে নিয়েছিল উড়তে থাকা ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে। সাকিব আল হাসানের দলের বিপক্ষে আবারো সেটির পুনরাবৃত্তি করল কিংসরা। ১৮৩ রানের লক্ষ্যের পেছনে ছুঁটে মুমিনুল হক ও সামিত প্যাটেলের শতরানের লড়াকু জুটিতে গড়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ঢাকাকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে রাজশাহী।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরুতে মেহেদি মারুফ ও কুমার সাঙ্গাকারার ৭১ রানের উদ্বোধনী জুটি, আর শেষদিকে সাকিব আল হাসান ও সেকুগে প্রসান্নার ঝড়ে নির্ধারিত ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান তোলে ঢাকা ডায়নামাইটস। সাঙ্গাকারা ৬৬, মেহেদি ৩৫ ও প্রসান্নার অপরাজিত ৩৪ রানে এই সংগ্রহ পায় দলটি। জবাবে মুমিনুল হক ৫৬ ও সামিত প্যাটেলের ৭৫ রানের দারুণ দুটি ইনিংসের পরও নাটকীয়তা ছড়ায় ম্যাচে। তাতে নির্ধারিত ওভারের এক বল বাকি থাকতে মেহেদি হাসান মিরাজের চারে জয়ে নোঙর ফেলে রাজশাহী কিংস।

এই জয়ে ৬ ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয়ে থাকল রাজশাহী। আর ৭ ম্যাচে তৃতীয় হারের মুখ দেখা ঢাকা ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়েই থাকল। রোববার ডায়নামাইটসদের টপকে শীর্ষস্থান দখল করেছে খুলনা টাইটান্স। ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল আপাতত শীর্ষেই থাকছে।

সোমবার মাঠে নামার আগেরদিন অধিনায়ক স্যামি জানিয়েছিলেন, ঢাকাকে একবার হারানোর আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করেই ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তুত তার দল। কিন্তু রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি কিংসদের। প্রথম ওভারে জুনায়েদ সিদ্দিকীকে (৪) হারিয়ে শুরু করা রাজশাহীকে আরেকটি ধাক্কা দিয়ে রানে থাকা সাব্বির রহমানও (৭) দ্রুত সাজঘরে হাঁটা দিলে বিপদের আভাস মিলেছিল।

তারপরে অবশ্য কেবল মুমিনুল-প্যাটেলের বীরত্ব গাঁথা। জয়ের ভিত গড়া শতরানের সেই জুটির পথে দুজনে ১০.৩ ওভার অবিচ্ছিন্ন ছিলেন। ব্যক্তিগত ৫৬ রানে মুমিনুলের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। টি-টুয়েন্টিতেও নিজের কার্যকারিতা প্রমাণের প্রতিজ্ঞা করা মুমিনুল ৮ চার ও ১ ছয়ে ৪২ রানে নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। চলতি আসরে এটি তার তৃতীয় ফিফটি।

মুমিনুলের ফেরার পর রানের চাকা সচল রাখা প্যাটেল থামেন ৭৫ রানে। ৫ চার ও ৬ ছয়ে ৩৯ বলে ইনিংস সাজিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। এরপরই অবশ্য পথ হারাতে শুরু করেছিল কিংসরা। উমর আকমল ১২ ও অধিনায়ক স্যামি ৯ রানে ব্যর্থ হয়ে ফিরলে চাপে পড়ে দলটি।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে ৯ রান দরকার ছিল রাজশাহীর। সেই ওভারটি করতে আসেন ঢাকার অলরাউন্ডার ডোয়াইন ব্র্যাভো। প্রথম বলে আবুল হাসানকে (৫) ফিরিয়ে ম্যাচের লাগাম ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন এই ক্যারিবিয়ান।

কিন্তু তৃতীয় বলে ফরহাদ রেজা দারুণ এক চারের মারে আবারো উত্তেজনা ফেরান। পরে চতুর্থ বলে এক রান নিয়ে মেহেদি হাসান মিরাজকে স্ট্রাইকে ঠেলে দেন ফরহাদ। আর পঞ্চম বলটি সীমানার বাইরে পাঠিয়ে রাজশাহী শিবিরকে উল্লাসে মাতাতে কোনো ভুল করেননি ইংল্যান্ডকে টেস্টে হারানোর নায়ক মিরাজ।

ঢাকার হয়ে ডোয়াইন ব্র্যাভো ৩টি, মোহাম্মদ শহিদ ২টি, সাকিব আল হাসান ও ম্যাট কোলস ১টি করে উইকেট নিয়ে রাজশাহীকে আটকাতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অল্পের জন্য টেবিলের শীর্ষস্থানে ফেরা জয়টি পাওয়া হলো না ডায়নামাইটসদের।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনীতে ৭১ রানের জুটি গড়তে ৮.৪ ওভার সময় নিয়েছেন মেহেদি-সাঙ্গাকারা। আবুল হাসানের বলে সাব্বিরের ক্যাচ হয়ে মেহেদির ফেরার মধ্য দিয়ে ভাঙে এই জুটি। চলতি বিপিএলে নিজেকে নতুন করে চেনাতে থাকা মেহেদি ৩ চার ও ২ ছয়ে ২৫ বলে ৩৫ রানের ঝলমলে একটি ইনিংস খেলেছেন।

তিনে প্রমোশন পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন অবশ্য এদিন ১৩ রানের বেশি এগোতে পারেননি। কিন্তু অল্প ব্যক্তিগত সংগ্রহের পথেই অভিজ্ঞ সাঙ্গার সঙ্গে ৪৮ রানের জুটি সঙ্গী হয়েছেন এই তরুণ অলরাউন্ডার।

মোসাদ্দেকের ফেরার পর দ্রুত সাজঘরে হাঁটা দেন সাঙ্গাকারাও। ৫ চার ও ৩ ছয়ে ৪৬ বলে ৬৬ রানের ইনিংস এসেছে এই লঙ্কান কিংবদন্তির ব্যাট থেকে। পরে ম্যাট কোলসকেও (৮) দ্রুত হারায় ঢাকা।

সেখান থেকে ঝড় তোলার শুরু প্রসান্না ও সাকিবের। দুজনে ৩.৫ ওভারে ৪৪ রান যোগ করে সংগ্রহটাকে বড় আকার দেন। শেষ পর্যন্ত প্রসান্না ২ চার ৩ ছয়ে ১৬ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন। আরেক অপরাজিত ঢাকার অধিনায়ক সাকিবের ব্যাট থেকে এসেছে ৩ চারে ১২ বলে ১৮ রানের ইনিংস।

রাজশাহীর হয়ে ফরহাদ রেজা ২টি, মোহাম্মদ সামি ও আবুল হাসান একটি করে উইকেট নিয়েছেন। ৪ ওভারে ৪৪ করে রান বিলিয়ে আবুল হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজ কিংসদের সবচেয়ে খরুচে বোলার।