Ad Space

তাৎক্ষণিক

কুমিল্লার বিপক্ষে তৃতীয় জয় তুলে নিল চিটাগং

নভেম্বর ২১, ২০১৬

সাহেব-বাজার ডেস্ক : টানা পাঁচ ম্যাচ হারার পর রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে দারুণ জয় দিয়ে বিপিএলের চতুর্থ আসরে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তবে পরের ম্যাচেই বাস্তবের জমিনে নেমে এলো মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। সোমবার চিটাগং ভাইকিংসের কাছে ৬ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কার মুখে পড়েছে কুমিল্লা।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। সেটির পেছনে ছুটতে নেমে টপ ও মিডল-অর্ডারদের দৃঢ়তায় ৪ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে চিটাগং ভাইকিংস।

এই জয়ের ফলে শেষ চারের সম্ভাবনা টিকে রইলো চিটাগং ভাইকিংসের। অন্যদিকে তামিমদের কাছে হেরে শেষ চারের স্বপ্ন অনেকটাই মলিন হয়ে গেল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের।

চিটাগং ভাইকিংসের টপ ও মিডল-অর্ডাররা সবাই রান পেয়েছেন। এনামুল হক বিজয় ৪০, তামিম ইকবাল ৩০, ডোয়াইন স্মিথ ২১ রানের ইনিংস খেলে জয়ের ভিত গড়ে দেন। শেষ দিকে মোহাম্মদ নবী ২৪ বলে ৪৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। শোয়েব মালিক ২৫ বলে ৩৮ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে রায়ান টেন ডোয়েচকাট সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন। একটি করে উইকেট নেন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সোহেল তানভির।
এই জয়ের ফলে সাত ম্যাচ থেকে তিন জয় ও চার হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে বরিশালকে টপকে টেবিলের চার নম্বরে ওঠে এসেছে চিটাগং ভাইকিংস। এক ম্যাচ কম খেলা বরিশালের পয়েন্টও ৬। অন্যদিকে সপ্তম ম্যাচে ষষ্ঠ হারে শেষ চারের স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের।

জয়ের জন্য ১৮৪ রানের বড় লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে চিটাগং ভাইকিংস। হাবিবুর রহমানের করা প্রথম ওভার থেকে ১৮ রান নেন স্মিথ ও তামিম। এরমধ্যে স্মিথ তিনটি চার হাঁকান। এরপর সোহেল তানভিরের করা দ্বিতীয় ওভারে দুটি চার মেরে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের স্বাগতিক দর্শকদের আনন্দে ভাসান স্মিথ।

প্রথম দুই ওভারে ২৭ রান করার পর তৃতীয় ওভারেই হোঁচট খায় চিটাগং। মাশরাফির করা তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে স্মিথ লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফিরলে ধাক্কা খায় তামিমের দল। তবে এরপর বিজয় ও তামিমের ব্যাটে দেখে-শুনে এগুচ্ছিল বন্দরনগরীর দলটি। কিন্তু রায়ান টেন ডোয়েচকাটের করা দশম ওভারের শেষ বলে তামিম বোল্ড হয়ে ফিরে গেলে ম্যাচে ফিরে আসে কুমিল্লা।

তামিম ফিরে গেলেও চিটাগংকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন বিজয়। ডোয়েচকাটের করা ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে ডিপ মিড-উইকেট দিয়ে দারুণ এক ছক্কা হাঁকিয়ে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের স্বাগতিক দর্শকদের আনন্দে ভাসান বিজয়। তবে পরের বলে তিনি বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় কুমিল্লা।

বিজয়কে হারানোর পর শোয়েব ও মোহাম্মদ নবী কিছুটা ধীরে আগানোর কৌশল অবলম্বন করেন। এই জুটি প্রথম ১৪ বলে ১৪ রান তোলে। তবে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের করা ১৫তম ওভারে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন শোয়েব ও নবী। ওভারের প্রথম তিনটি বলে টানা চার হাঁকিয়ে কুমিল্লার মনোবল কিছুটা ভেঙে দেন শোয়েব। ওই ওভার থেকে ১৪ রান নেন এই দুজন।

জয়ের জন্য ৭ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ৫ ওভারে ৫৩ রান দরকার ছিল চিটাগং ভাইকিংসের। মাশরাফির করা ১৬তম ওভার থেকে ১১ রান নিয়ে জয়ের সমীকরণ ২৪ বলে ৪২ রানে নামিয়ে আনেন শোয়েব ও নবী।

তানভিরের করা ১৭তম ওভার থেকে ১২ রান নিয়ে চিটাগং শিবিরকে স্বস্তিতে রাখেন শোয়েব ও নবী। ম্যাচেও ফিরে আসে রোমাঞ্চ। মোহাম্মদ শরীফের করা ১৮তম ওভার থেকে ১৩ রান নিয়ে চিটাগংয়ের জয়ের সমীকরণ সহজ করে তোলেন নবী ও মালিক। ফলে জয়ের জন্য শেষ ১২ বলে ১৭ রান দরকার পড়ে তামিমদের।
১৯তম ওভারের প্রথম বলে দুর্দান্ত এক বলে মালিককে বোল্ড করে কুমিল্লাকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন তানভির। পরের তিন বলে তিনি মাত্র এক রান দিলে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে মাশরাফির দলকে। তবে এরপরই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়।

পঞ্চম বলে দুর্দান্ত এক ছক্কা হাঁকিয়ে চিটাগংকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন নবী। পরের বলে ‘নো’ কল করেন আম্পায়ার। ওভারের শেষ বলে এক রান নিয়ে জয়ের সমীকরণ ৬ বলে ৮ রান করে ফেলেন নবী।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টানটান উত্তেজনা। জিততে ১ ওভারে চিটাগংয়ের চাই ৮ রান। বোলিংয়ে সাইফুদ্দিন। প্রথম বলেই চার মেরে চিটাগংয়ের উৎসবের মঞ্চ তৈরি করে দেন নবী। পরের বল বোলারের মাথার ওপর দিয়ে সীমানা-ছাড়া করে চিটাগংকে রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন এই আফগান অলরাউন্ডার।

প্রসঙ্গত, নিজেদের পরের ম্যাচে মঙ্গলবার বরিশাল বুলসের মুখোমুখি হবে চিটাগং ভাইকিংস। অন্যদিকে ঢাকায় ফিরে নিজেদের সপ্তম ম্যাচে আগামী শনিবার ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে লড়বে মাশরাফির কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।