অক্টোবর ১৮, ২০১৭ ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ

Home / slide / দরপত্র আহ্বানের আগেই সংস্কার কাজ শুরু!

দরপত্র আহ্বানের আগেই সংস্কার কাজ শুরু!

নিজস্ব প্রতিবেদক : দরপত্র আহ্বানের আগেই রাজশাহীর গোদাগাড়ী প্রধান ডাকঘরের সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। রাজশাহী মহানগরীর এক নারী সেখানে শ্রমিক নিয়ে গিয়ে ভবনের সংস্কার ও রঙ করছেন। দরপত্র আহ্বান ছাড়াই কে বা কারা এই সংস্কার কাজ করছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ ওই ডাকঘরের কর্মকর্তারাই।

তবে বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)  শ্রমিক ও মিস্ত্রিদের ডেকে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার পরিচয়দানকারী ব্যক্তি  বলছেন, দরপত্র আহ্বান করতে কয়েক মাস দেরি হবে। পরে অন্যকেউ সংস্কার কাজটি পেয়ে যেতে পারেন। তাই আগেভাগেই নিজের টাকা খরচ করে কাজটি করছেন তিনি।

গোদাগাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার আবদুল মতিন জানান, গত ১৫ নভেম্বর হঠাৎ করেই একজন নারী মিস্ত্রীসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে অফিসের সংস্কার  কাজ করতে চান। তিনি ওই নারীর পরিচয় জানতে চান। কিন্তু তিনি পরিচয় দেননি। এ সময় অফিস সংস্কারের টেন্ডার কাজের সিডিউল দেখতে চাইলে তাও তিনি দেখাতে পারেননি।

তবে ওই নারী তাকে বলেছেন, ‘আমি অফিসের রঙ, টাইলস্ ও এসি স্থাপনের কাজ করব। ঢাকা হেড অফিস থেকে কাজের অর্ডার হয়েছে।’ এ নিয়ে আবদুল মতিন রাজশাহীর ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারাও সংস্কারকাজের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে তাকে জানান।

এদিকে ওই দিন থেকেই এক ট্রলি বালু আর তিন বস্তা সিমেন্ট নিয়ে গিয়ে কাজ শুরু করেন ওই নারী। ডাকঘরে ছয়টি কক্ষ থাকলেও তারা মাত্র দুটি কক্ষের সংস্কার কাজ করবেন বলেও ওই নারী আবদুল মতিকে জানান।

যদিও পোস্ট অফিসের পুরো ভবনের বেশীর ভাগ কক্ষের ছাদের সিলিং উঠে গিয়ে রড দেখা যাচ্ছে। যে কোনো সময় এগুলো ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও রয়েছে। অফিসের ক্যাশ ঘরটিও রয়েছে জরাজীর্ণ অবস্থায়। যে কোনো সময় রড ও ফ্যান খুলে গিয়ে মাথার উপর পড়তে পারে। কিন্তু এসব ঝুঁকিপূর্ণ ঘরের সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে না।

সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক রমজান আলী ও আবদুল আজিজ জানান, তাদের রাজশাহী শহরের লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকার এক নারী এখানে কাজ করার কথা বলে নিয়ে এসেছেন। তারা ওই নারীর নাম-ঠিকানা জানেন না।  শুধু মোবাইলে কথা  হয়।

তাদের কাছ থেকে ওই নারীর মোবাইল নম্বর নিয়ে তাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘গোদাগাড়ী পোস্ট অফিসের যে কাজ হচ্ছে সেটা আমি দেখাশুনা করছি।’ এ সময় তার নাম জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

তবে শ্রমিকদের কাছে খবর পেয়ে ঠিকাদার মজিবুর হক মিলনের  সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ডাক বিভাগের হেড অফিসের ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন ও আমি সরেজমিনে গোদাগাড়ী ডাকঘর সংস্কারের জন্য দেখতে গিয়েছিলাম। ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল সাহেবের মৌখিক নির্দেশে আমি কাজ শুরু করেছি।’

টেন্ডারের আগেই কাজ করা অনিয়ম কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মিলন বলেন, ‘টেন্ডার হতে ৬ মাস দেরি হবে। টেন্ডারের পর অন্য ঠিকাদারও কাজটা পেয়ে যেতে পারেন। এ জন্য নিজের টাকা খরচ করে আগে ভাগেই আমি কাজটা করে রাখছি। পরে বিল তুলে নেব। এটি কোনো অনিয়ম নয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ীর ইউএনও জাহিদ নেওয়াজ বলেন, সংস্কারকাজের কোনো সিডিউল ও ওয়ার্কঅর্ডার দেখাতে না পারায় কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

রাজশাহীতে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর মহানগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের তিনদিন ব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *