Ad Space

তাৎক্ষণিক

ফুটপাতে শীতের প্রস্তুতি

নভেম্বর ২০, ২০১৬

রিমন রহমান : রাজশাহী অঞ্চলে শীত আসতে আর খুব বেশি দেরি নেই। গ্রামগুলোতে এখনই শীত অনুভূত হচ্ছে। ভোরে কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে গ্রামাঞ্চল। কিন্তু শহরে শীতের প্রভাব একটু কম। তবে শহরে প্রস্তুতি চলছে শীতের। শহরের ফুটপাতে পোশাকের দোকানগুলোতে শীতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

রাজশাহী মহানগরীর বেশকিছু এলাকায় এরই মধ্যে শীতের পোশাকের দোকান বসেছে। ভ্যানে পোশাক নিয়ে ভ্রাম্যমাণ দোকানেও চলছে বেচাবিক্রি। বিক্রেতারা বলছেন, শীত কম, তাই দামও কম। শীত বাড়লে বাড়বে পোশাকের দাম। তবে দাম কম হওয়ায় এখনই শীতের পোশাকের কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন অনেকেই।

rajshahi-winter-photo-8
রাজশাহী শহরের রেলওয়ে স্টেশন মার্কেট, রেলগেট, নিউমার্কেট, গণকপাড়া, ও সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় ফুটপাতে শীতের পোশাকের দোকান বসেছে। শনিবার বিকেলে এসব এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এরই মধ্যে প্রায় সব ধরনের শীতের পোশাক এসেছে দোকানগুলোতে। ক্রেতাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।

নগরীর রেলওয়ে স্টেশন মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী সুমন হোসেন (৪৫) বলছিলেন, শীত ও গরমে তিনি দুই ধরনেরই পোশাক বিক্রি করেন। গত সপ্তাহ থেকে শীতের পোশাক বিক্রি শুরু হয়েছে। এই মুহুর্তে ছেলেদের জ্যাকেট, মাফলার, সোয়েটারসহ প্রায় সব পোশাকের দাম অনেক কম। শীত বাড়লে এসব পোশাকের দাম দ্বিগুন হয়ে যাবে।

নগরীর রেলগেট এলাকার ব্যবসায়ী মিলন হোসেন (২৫) বলেন, শুধু শীতকালে ফুটপাতে শীতের পোশাকের ব্যবসা করেন তিনি। বিদেশ থেকে আমদানি করা পুরনো পোশাক থাকে তার দোকানে। এসব পোশাক বিক্রিতে লাভ বেশি। তাই এবারও গত চারদিন আগে থেকে নেমে পড়েছেন ব্যবসায়। এখন প্রতিদিন তিনি তিন হাজার টাকার পোশাক বিক্রি করছেন। শীত বাড়লে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার পোশাক তিনি বিক্রি করবেন।

গণকপাড়া মোড়ে শীতের পোশাক কিনতে এসে রাশিদা পারভিন (৩৫) বলেন, শীতের আগে আগেই ফুটপাতের এসব দোকানে ভালো ভালো পোশাক পাওয়া যায়। এখন ভিড় কম থাকে, দামও থাকে কম। তাই এখনই তিনি বাচ্চাদের শীতের পোশাকের কেনাকাটা সেরে ফেলছেন। তবে বড়দের পোশাকের চেয়ে ছোটদের পোশাকেরই দাম তার কাছে বেশি বলে মনে হচ্ছে।

rajshahi-winter-photo-9
এদিকে ফুটপাতে শীতের পোশাকের পাশাপাশি কম্বল ও লেপ-তোষকের কারিগরদের ব্যবসাও জমে উঠতে শুরু করেছে। গণকপাড়া মোড়ের কম্বলের দোকানী নূরুল ইসলাম (৫০) জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি দিতে ২০ থেকে ২৫টি কম্বল বিক্রি করছেন। এই মুহুর্তে দামও একটু কম ধরা হচ্ছে। তবে শীত জেঁকে বসলে দাম এমনিতেই বৃদ্ধি পাবে।

গণকপাড়া মোড়ের তুলার দোকানগুলোর সামনে রাস্তার ধারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে লেপ-তোষক বানানোর কর্মযজ্ঞ। তুলার দোকানীরা জানিয়েছেন, বছরে শীতের তিনটা মাস ছাড়া তাদের দোকান প্রায় বন্ধ হয়ে থাকে। গত কয়েকদিন থেকে তাদের ব্যবসা ফের চাঙা হয়ে উঠেছে। দোকানে কারিগর রেখে লেপ-তোষক বানানোর কাজ করতে হচ্ছে।
লেপ-তোষকের কারিগর আবদুল ওহাব বলেন, বছরের অন্য সময় তাদেরকেও ভিন্ন পেশায় ফিরে যেতে হয়। শুধু শীত এলেই তাদের ডাক পড়ে। এ সময় তারা দম ফেলার সময় পান না। অবশ্য এতে রোজগারও কম না। দু’জন মিলে একটি লেপ বানিয়ে দিলে মজুরি মেলে ৬০০ টাকা। আর তোষকে হাজার।

rajshahi-winter-photo-4

তিনি জানান, রাজশাহী শহরে যারা এখন লেপ-তোষক বানানোর কাজ করছেন, তাদের বেশিরভাগের বাড়ি অন্য জেলায়। তিনি এসেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থেকে। শীতে লেপ-তোষক বানান। আর অন্য সময় আমের ব্যবসা ও কৃষিকাজ করেন।

মুন্না শেখ (৪০) নামে আরেক কারিগর জানান, এখন এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় একটি লেপ বানানো যাচ্ছে। তোষকে খরচ পড়ছে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা। তবে কনকনে শীত শুরু হলে ক্রেতাদের খরচ গুণতে হবে দ্বিগুন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, গত এক সপ্তাহ থেকে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হচ্ছে ২৮ থেকে ২৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন প্রতিদিনই তাপমাত্রা কমবে। কনকনে শীত খুব কাছেই।