Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • মশার প্রকোপে অতিষ্ঠ রাবি শিক্ষার্থীরা– বিস্তারিত....
  • শিশু মেঘলা ও মালিহার হত্যাকান্ডের বিচারের দাবীতে মানবন্ধন– বিস্তারিত....
  • উপজেলা চেয়ারম্যানদের মূল্যায়নের অঙ্গীকার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের– বিস্তারিত....
  • নাটোরে হয়রানীমূলক মামলা থেকে কলেজ ছাত্র জামিনে মুক্ত– বিস্তারিত....
  • রাজশাহী জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হলেন যারা– বিস্তারিত....

রামেকে ইন্টার্নদের ‘মাস্তানির’ প্রতিবাদে বিক্ষোভ

নভেম্বর ২০, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ‘মাস্তানির’ প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে এই কর্মসূচি পালন করে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই চলে। এতে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও রামেক হাসপাতালে ইন্টার্নদের হাতে লাঞ্ছিত ব্যক্তি ও বিভিন্ন সুধি সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে তারা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দেন।

আর বক্তারা বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত এক বছর যাবৎ চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বেপরোয়া ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগির স্বজনদের পিটিয়ে আহত করে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে। যেখানে মানুষ সুস্থ্য হতে যায়, সেখানেই তাদের পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দেয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তারা বলেন, হাসপাতালে কোনো রোগি গেলে তার চিকিৎসা হচ্ছে না। বিনা চিকিৎসায় রোগির মৃত্যু হচ্ছে। তাই মৃত রোগির স্বজনরা বিক্ষোভ করতেই পারেন। কারণ, চিকিৎসা পাওয়া তাদের অধিকার। কিন্তু বিক্ষোভ করলেই ইন্টার্নরা তাদের ওপর হামলে পড়ছে। একদিকে পড়ে থাকছে স্বজনের লাশ, অন্যদিকে তাদের তুলে দেয়া হচ্ছে পুলিশের হাতে। পুলিশও বিনা কারণে তাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে পারে না।

বক্তারা আরও বলেন, রামেক হাসপাতালের ইন্টার্নরা ভুল চিকিৎসায় রোগিদের হত্যা করছে। এর প্রতিবাদ করলে রামেক ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম অপুর নেতৃত্বে বার বার রোগির স্বজনদের ওপর হামলা হচ্ছে। এদের নেতৃত্বে দিচ্ছেন ডা. মহিবুল ইসলাম ও রইস উদ্দিন। তারা চিকিৎসক নয়, তারা সন্ত্রাসী। তারা মাদকসেবী। কোনো মাদকসেবীর সুস্থ্য মানসিকতা থাকে না। তাদের দিয়ে চিকিৎসাও হয় না। অবিলম্বে এদের হাসপাতাল থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।

তারা বলেন, চিকিৎসকরা তাদের ক্লিনিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত করতে রোগিদের ওপর কয়েকদিন পর পরই এ ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছেন। তারা বাইরের জেলা থেকে রাজশাহীতে এসে বাড়ি করছেন, গাড়ি করছেন। অথচ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দিচ্ছেন না। আগামিতে এমন ঘটনা ঘটলে রাজশাহীর মানুষ তা মেনে নেবেন না। এর প্রতিবাদে আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে হাসপাতাল ঘেরাও হবে। হাসপাতাল অভিমুখে লাঠি মিছিল হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সবগুলো স্বজন লাঞ্ছনার ঘটনা তদন্ত করে দোষিদের দ্রুত প্রত্যাহার করার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান তারা।

গত ১৩ নভেম্বর হাসপাতালের আট নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের অবহেলায় ধুকে ধুকে বিনা চিকিৎসায় মারা যান রাজশাহীর পবা উপজেলার মদনহাট এলাকার মহসিন আলী (৭৫)। ওই দিন তার স্বজনরা হাসপাতালে বিক্ষোভ করলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মহসিনের দুই ছেলেকে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ওই দিন মহসিন আলীর স্ত্রী রাহিমা বিবিকেও (৬৫) পিটিয়ে আহত করা হয়েছিল।

মানববন্ধনে হাতের ক্ষতস্থান দেখিয়ে বৃদ্ধা রাহিমা বলেন, সেদিন একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের হাতে পিস্তল ছিল। ছেলেরা বিক্ষোভ করলে ওই ইন্টার্ন গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেন। তখন ছেলেরা বলেন, ‘মারেন, বাপরে মারলেন, আমরাকেও মারেন।’ এরপরই তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। ৮-১০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক তার দুই ছেলেকে চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকিযে মারপিট করেন। এতে মাথা ফেটে যায় তাদের। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। তাদের বাবার লাশ পড়ে থাকে মর্গে।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, রাজশাহী জেলা জজ আদালতের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু, রাজশাহী মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামানিক দেবু, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সেলিনা বেগম প্রমূখ।