Ad Space

তাৎক্ষণিক

রাজশাহীতে জঙ্গিবিরোধী কনসার্ট বন্ধ করল পুলিশ, ক্ষুব্ধ দর্শকরা

নভেম্বর ১৯, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জঙ্গিবিরোধী কনসার্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠান স্থল থেকে শেষ মুহূর্তে কয়েক হাজার দর্শক  ফিরে এসেছেন। শুক্রবার বিকেল তিনটার পর থেকে এ কনসার্ট শুরু হবার কথা ছিলো। এর ফলে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়রা বলছেন, কনসার্টে স্থানীয় সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী উপস্থিত থাকতে না পারার কারণে নিরাপত্তার ‘অজুহাত’ দিয়ে তা বন্ধ করা হয়েছে। এতে আয়োজকরা আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোদাগাড়ীর মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রি কলেজে শুক্রবার বিকেল তিনটার পর থেকে জঙ্গিবিরোধী কনসার্টে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ইমরান খান, চিত্রা ও রেশমার অংশ নেয়ার কথা ছিলো। কনসার্টের আয়োজক প্রাণ আরএফএল গ্রুপ। কনসার্টের প্রস্তুতি হিসেবে গত এক সপ্তাহ থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়।

প্রাণ আরএফএল গ্রুপের রাজশাহীতে দায়িত্বরত এরিয়া ম্যানেজার মশিউর রহমান জানান, কনসার্টের প্রস্তুতি হিসেবে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করা হয়। কনসার্টের জন্য অনুমতিও মেলে। এরপর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কনসার্ট স্থল মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ মাঠ পুরোটাই টিন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়। তৈরি করা হয় সব ধরনেুর সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত আধুনিক স্টেজ। পুরো উপজেলাজুড়ে চালানো হয় প্রচারণা।

তিনি জানান, পুরো প্রস্তুতির জন্য আমাদের কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হয়। ঢাকা থেকে রাজশাহীও চলেও আসেন আমন্ত্রিত শিল্পীরা। তাদেরকে রাজশাহী নগরীর একটি বিলাসবহুল হোটেলে রাখা হয়। সম্মানী হিসেবেও দেয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কনসার্ট শুরুর মাত্র আধাঘণ্টা আগে শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় পুলিশ নিরাপত্তার ‘অজুহাত’ তুলে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এর ফলে প্রাণ আরএফল গ্রুপ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়েছে।

এদিকে কসসার্টে শুক্রবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শকরা আসতে থাকেন। রাজশাহীর পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ কনসার্ট উপভোগ করার জন্য সমবেত হন। কিন্তু কনসার্ট শুরুর আগের মুহূর্তে যখন তা স্থগিত করা হয়, তখন দর্শকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

গোদাগাড়ী থেকে ৪০ কিলোমিটার দূর থেকে যাওয়া রাজশাহীর পুঠিয়া সদরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ৫০ জন মানুষ কনসার্ট উপভোগ করার জন্য এসেছি। এজন্য বাসভাড়া দিতে হয়েছে আট হাজার টাকা। খাবারসহ আনুষঙ্গিক খরচ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কনসার্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা মর্মামত হয়েছি।

মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আযম তৌহিদ বলেন, কনসার্ট বন্ধ করার ফলে সাধারণ দর্শক ক্ষুব্ধ হয়েছেন। নির্মল আনন্দ উপভোগ করার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষ এসেছেন। কিন্তু তারা আশাহত হয়ে ফিরে গেছেন।

কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বদরুজ্জামান রবু মিয়া বলেন, কনসার্ট কী কারণে বন্ধ হয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে সাংসদ অনুপস্থিত থাকার কারণে নিরাপত্তার ‘অজুহাত’ দিয়ে কনসার্ট বন্ধ করার অভিযোগ সঠিক না। কারণ, শুক্রবার সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
কনসার্ট বন্ধ হবার কারণ সম্পর্কে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, কনসার্টের পক্ষে-বিপক্ষে দুটি গ্রুপ অবস্থান নেয়। এ কারণে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় এনে কনসার্ট বন্ধ করে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে রাজশাহীর এসপি মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া বলেন, প্রাণ আরএফল গ্রুপের আবেদনের প্রেক্ষিতে কনসার্টের অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু কেন তা বন্ধ করা হয়েছে, তা আমার জানা নেই। স্থানীয় পুলিশ কনসার্টটি কেন বন্ধ করলো সে বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।