Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • ‘আপত্তিকর’ কাজে বাধা দেয়ায় প্রহরীকে মারধর– বিস্তারিত....
  • বামশক্তি কনসোলিটেড হয়ে দাঁড়াতে না পারলে ফিল ইন দ্য ব্লাংক করে ফেলবে ধর্মীয় শক্তি : আবুল বারকাত– বিস্তারিত....
  • মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে হলে ভ্যাটের বিকল্প নেই : ভূমিমন্ত্রী– বিস্তারিত....
  • নাটোরে নির্মাণের ৯ মাসেই ভেঙে পড়েছে কালভার্ট– বিস্তারিত....
  • নাটোরে ইয়াবাসহ চার যুবক আটক– বিস্তারিত....

রাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন : প্রার্থীদের ‘দৌঁড়ঝাপ’

নভেম্বর ১৮, ২০১৬

মর্তুজা নুর : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের ২৫তম সম্মেলনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে ‘দৌঁড়ঝাপ’ শুরু করেছেন পদ প্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর ক্যাম্পাসে এরই মধ্যে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তাঁরা। অনেক নেতাকর্মীকে সকাল বিকাল দিতে দেখা যাচ্ছে মোটরসাইকেল ‘মহড়া’ দিতে। কেউ কেউ ক্যাম্পাসে জনসংযোগও শুরু করেছেন ।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব অনেকটাই নির্ধারণ করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ। তাই পদ প্রত্যাশীরা যোগাযোগ শুরু করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে। আবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন অনেক নেতাকর্মী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সভাপতি পদের সম্ভাব্য তালিকায় আছেন রাবি ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লব। এছাড়া বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহানুর শাকিল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, সদস্য মিনারুল ইসলাম লড়বেন সভাপতি পদের জন্য। বর্তমান কমিটির আরেক সহসভাপতি মেহেদী হাসানও এবারের কাউন্সিলে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে লড়বেন বলে জানা গেছে।

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু বলেন, ‘আমি আশা করি সৎ ও যোগ্য নেতার হাতেই রাবি ছাত্রলীগের দায়িত্ব আসবে। এমন কাউকে দায়িত্ব দেয়া হবে না যার জন্য পরবর্তীতে সমালোচনা হয়।’

সম্মেলনের প্রত্যাশার কথা জানতে চাইলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া জানান, আসলে অনেকেই আছেন যারা হঠাৎ করেই ছাত্রলীগে এসে নেতা হওয়ার চেষ্টা করছেন। আমি চাই ত্যাগী ও সাহসী নেতাকেই রাবি ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করবেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

একই প্রত্যাশার কথা জানান আরেক পদ প্রত্যাশী নেতা ফয়সাল আহমেদ রুনু। তিনি বর্তমান কমিটির সহ সম্পাদক। তবে এবারে কোন পদেও জন্য লড়বেন তা এখনো ঠিক করেননি তিনি।

সাহানুর শাকিল বলেন, বর্তমান সরকার একটি রোডম্যাপকে সামনে রেখে দেশ পরিচালনা করছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাস্তবায়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যে ছাত্রলীগকে পরিচালনা করতে পারবে সে ধরনের নেতাই আসুক।

একই পদে লড়াই করার জন্য বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা মামুন অর রশিদ ও তন্ময়ানন্দ অভির নামও শোনা যাচ্ছে। তবে তারা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী সিরাজুম মুনীরকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত হয়েছেন।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্যও বসে নেই পদ প্রত্যাশীরা। ক্যাম্পাসে মহড়া, মহানগর আওয়ামী লীগ কিংবা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন অনেকেই।

ছাত্রলীগ সূত্র জানাচ্ছে, রাবির এবারের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ইতোমধ্যে অনেকেই আছেন দৌড় প্রতিযোগিতায়। এদের মধ্যে রাবি ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সদস্য সাকিবুল হাসান বাকী, ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক টগর এম. সালেহ, ক্রীড়া সম্পাদক লিংকন, সৈয়দ আমীর আলী হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি সজল, মতিহার হল শাখা সভাপতি শরীফ কাউয়ুমের নাম  শোনা যাচ্ছে।

পদ প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাকিবুল হাসান বাকী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে যারা কাজ করবে ও ত্যাগ স্বীকার করবে, সেই সঙ্গে রাবি শাখা ছাত্রলীগের মাধ্যমে যারা শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবে তারাই নেতৃত্বে আসবে বলে আমি মনে করি।’

তবে এবিষয়ে সাধারণ সম্পাদক আরেক পদ প্রত্যাশী টগর এম. সালেহ বলেন, যারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে তারাই নেতৃত্বে আসুক সেটাই আমার প্রত্যাশা।

গত ২০১৩ সালের ২০ জুলাই মিজানুর রহমান রানাকে সভাপতি ও এসএম তৌহিদ আল হোসেন তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে রাবি ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে বর্তমানে মেয়াদউত্তীর্ণ রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুটো পদই চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এদিনই খালিদ হাসান বিপ্লবকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়।

দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্তের ভারে রাবি ছাত্রলীগের দায়িত্ব থাকার পর গত ১৩ তারিখে এই সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৫০ এর অধিক নেতাকর্মী লড়বেন বলে মনে করছেন ছাত্রলীগের অনেকেই। তাদের সকলের নাম আগামী ২৫ তারিখের পর জানা যাবে বলে জানিয়েছে ছাত্রলীগ সূত্র।

আগামী ৭ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ মাঠে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।