Ad Space

তাৎক্ষণিক

বাঘায় পরিবহণ চাঁদা না দিলে মারধর, প্রতিবাদে মানববন্ধন

নভেম্বর ১৮, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায় চাঁদাবাজি বন্ধসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন এলাকার জনসাধারণ। ১০ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক ট্রলিচালকের হাত ভেঙ্গে দেওয়াসহ গত এক সপ্তাহে ১০-১৫ জন রিক্সাভ্যান চালককে মারধর করার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে উপজেলার তেথুলিয়া বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে গত জুন মাসে উপজেলা পরিষদের সামনে অনুরুপ একটি কর্মসুচি পালন করেন পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকার স্থানীয়রা।

মানববন্ধনে আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম টগর, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা জনাব আলী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলামসহ বক্তারা বলেন, সরকারী নির্দেশ অমান্য করে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায় বিট আদায়ের নামে ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি চলছে। ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে রাস্তায় নামলেই  চাঁদা দিতে হয় । আর কেউ চাঁদা দিতে না চাইলে তাদেরকে মারধর করা হয়। তারা আরো বলেন, যে সব ব্যক্তিদের পরিবহন নাই অথচ রাজনৈতিক দলের নেতা তারা নতুন ভাবে পরিবহন ইউনিয়নের নেতা হয়ে জোরপূর্বক চাঁদাবাজি শুরু করেছে। তাঁরা এ সকল চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সূত্র জানায়, সোমবার বাউসা ইউনিয়নের মিজানুর নামের এক ব্যক্তি টলি নিয়ে আখ আনতে যাওয়ার পথে, তার নিকট ২০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ সময় তাদের হাতে ১০ টাকা দেয় মিজানুর। বাঁকি ১০ টাকা দিতে না চাওয়ায়, আড়ানি পৌর এলাকার অংকন ও পীরগাছা গ্রামের শারুক নামের দুই ব্যক্তি আড়ানি কওমি মাদ্রাসার সন্নিকটে তাকে মারপিট করে একটি হাত ভেঙ্গে দেয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও মামলা রেকর্ড করা হয়নি। এমনি ভাবে গত এক সপ্তাহে আনোয়ার ইসলাম, মনিরুল, রানা, আরমার, আনছার, সিরাজ, কবির ও আশরাফ আলীসহ প্রায় ১৫-২০ জন চালককে মারধর করেছে চাঁদাবাজরা।

এর আগে গত জুন মাসে বাঘার পুরাতন বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে উপজেলার রিক্সা-ভ্যান শ্রমিকসহ স্থানীয়রা পৌর পার্কিং ফি’র নামে অতিরিক্ত টোল আদায় করায় একটি বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

এ বিষয়ে চাঁদা আদায়কারী নেতা বকতিয়ার রহমান ও সাহাবাজ আলী জানান, পরিবহন থেকে টোল আদায় সংক্রান্তে বাঘা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ২২ লক্ষ টাকায় ইজারা নেয়া হয়েছে। সেই ইজারার বলে আমরা বিভিন্ন পরিবহন থেকে টোল আদায় করে থাকি ।

তবে উপজেলা সিএনজি ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি ও বাঘা পৌর আ’লীগের সভাপতি আবদুল কুদ্দুস সরকার এ প্রতিবেদককে জানান, আমার কোন পরিবহন নাই । তার পরেও আমি ইউনিয়নের নেতা হয়েছি। তুমি এ সব বিষয়ে আমাকে কোন প্রশ্ন করবা না। কিংবা করলেও আমি তোমার প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নয়।

বাঘা পৌর মেয়র ও আ’লীগ নেতা আক্কাস আলী বলেন, মাজারে আসা দর্শনার্থী এবং রিক্সাভ্যান চালকদের নিকট থেকে টোল আদায়ের কোন অনুমতি নেই। তবে পৌরসভার মধ্যে কোন পরিবহন যদি মালামাল লোড-আনলোড করে সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত আদায় করার আমি ‘অনুমতি দিয়েছি’।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম জানান, পৌর পার্কিং এর নামে একমাত্র ট্রাক ব্যতিত কোন যানবাহন থেকে টোল আদায়ের বৈধতা নাই। আমি নিজে চোখে বাঘা বাজারে এ দৃশ্য দেখার পর চাঁদা উঠাতে বারণ করে ছিলাম। তারপরেও চলছে। তিনি এ বিষয়ে কারণ দর্শাণোর জন্য মেয়রকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানান।