Ad Space

তাৎক্ষণিক

রোপা আমনের বাম্পার ফলন, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের দাবি

নভেম্বর ১৭, ২০১৬

নাজমুল হাসান, নাটোর : আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবছর নাটোরে রোপা আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে ১৮ থেকে ২২ মণ। বর্তমান ধানের বাজার মূল্য মণপ্রতি ৭০০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকা । তবে বাজার মূল্য কিছুটা বাড়িয়ে সরকারি উদ্যেগে সরাসরি কৃষক পর্যায়ে ধান কিনে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলা, চলনবিল, হালতিবিলসহ সাতটি উপজেলাতেই ব্যাপকভাবে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। চলতি বছর রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ হাজার ৮’শত হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ হাজার ৮৯০ হেক্টর বেশি জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।

ইতিমধ্যে বিনা-৭, বিরিধান-৬২, ৩৯, ৪৯, ৫৬, মিনিকেট ও জিরা জাতীয় ধান কাটা শুরু হয়েছে। এখানকার কৃষান কৃষানীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে। বিঘা প্রতি ধান চাষে কৃষকদের খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। এবছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধানের ফলনও হয়েছে ভাল।

নাটোর সদর উপজেলার লালমনিপুর গ্রামের কৃষক আক্কাস আলী জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে সেচের বাড়তি খরচ হয়নি। তাছাড়া পোকা মাকড়ের আক্রমন না থাকায় বিঘা প্রতি ২০ মণ করে ফলন পেয়েছেন তিনি।

ভবানীপুরের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, মধ্যস্বত্বভোগিদের হাতে ধান বিক্রয় করে তারা অনেক কম মূল্য পান। সরকারি ভাবে যদি সরাসরি তাদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ধান কেনা হতো তাহলে তারা লাভবান হতো। তাই দাম বাড়িয়ে সরাসরি কৃষক পর্যায়ে ধান কেনার জন্য সরকারের প্রতি দাবী তার।

এদিকে ধানের বাম্পার ফলনে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকের। সেই সাথে নারীরাও ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে সহযোগিতা করছেন। দত্তপাড়ার ইউনূস আলী জানান, প্রতিদিন তিনশ টাকা রোজে ধান কাটার কাজ করছেন। এতো তার সংসারে স্বচ্ছ্বলতা এসেছে।

লালমনিপুরের চায়না বেগমেরও ধানের জমিতে কাজ পেয়ে কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে নারী পুরুষের মজুরী বৈষম্যে ক্ষোভ জানান তিনি। সমান পরিশ্রম করেও তার মজুরী ২২০ টাকা।

গত বছরের তুলনায় বেশী জমিতে ধানের আবাদ ও সেই সাথে বাম্পার ফলন হয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুঞ্জুরুল হুদা জানান, এবছর বিদ্যুৎ, সার পেতে কৃষকদের কোন প্রকার বেগ পেতে হয়নি।

আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলনও আশানুরুপ হয়েছে। ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করে সরকার সরাসরি কৃষক পর্যায় থেকে ধান ক্রয় করলে কৃষকরা লাভবান হবেন।