আগস্ট ২৩, ২০১৭ ৩:৫৮ অপরাহ্ণ

Home / slide / গৃহহীন সাঁওতালদের ঘর দেবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গৃহহীন সাঁওতালদের ঘর দেবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাহেব-বাজার ডেস্ক : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনি কলের জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর খোলা আকাশের নিচে দিন পার করা সাঁওতাল পরিবারগুলোর জন্য  সরকারিভাবে ঘর বানিয়ে দেওয়ার নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণায়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোনো সাঁওতাল পরিবার যদি ‘হোমলেস’ থাকে, তাহলে তিনি আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিবেন। নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্ট এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।”

উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতাল পল্লীর বাসিন্দারা তাদের ‘বাপ-দাদার জমিতে’ থাকার অধিকার চান। খাবারের অভাবে এক বেলা খেয়ে দিন কাটাতে হলেও সরকারি সহায়তা নিতে রাজি নন তারা।

দেড় শতাধিক পরিবার গত দশ দিন ধরে মাদারপুর চার্চের খোলা প্রাঙ্গণ ও চার্চের পরিত্যক্ত স্কুলভবনে বসবাস করছে। পল্লীর ছয়শ পরিবারেই দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট।

অর্থ-যোগানের ব্যবস্থা না থাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারছেন না তারা। কাজের সুযোগও নেই। অধিকাংশ পরিবারের লোকজনই শুধু রাতে খেয়ে দিন পার করছেন।
তাদের জন্য সরকার কোথায় আশ্রয়ন প্রকল্প করবে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগই সে ঘোষণা দেবে।

তবে সাঁওতালদের দাবি অনুযায়ী চিনিকলের জমিতে তাদের থাকতে দেওয়া সম্ভব নয় বলে দুদিন আগে জানিয়ে দিয়েছেন শিল্পসচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।
মিলের জমির বাইরে ১০ একর খাসজমিতে ভূমিহীন সাঁওতালদের পুনর্বাসনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাতে সাড়া মিলছে না জানিয়ে সোমবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “এখনও তারা বলছে, মিলের জমিতে তাদের জায়গা দিতে হবে। এটা সরকার দিতে পারে না।”

সাঁওতাল ও বাঙালিদের ১৮টি গ্রামের ১ হাজার ৮৪০ দশমিক ৩০ একর জমি ১৯৬২ সালে অধিগ্রহণ করে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ আখ চাষের জন্য সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার গড়ে তুলেছিল। সেই জমি ইজারা দিয়ে ধান ও তামাক চাষ করে অধিগ্রহণের চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলে তার দখল ফিরে পেতে আন্দোলনে নামে সাঁওতালরা।

এরপর সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মে বিরোধপূর্ণ চিনিকলের জন্য অধিগ্রহণ করা ওই জমিতে কয়েকশ ঘর তুলে সাঁওতালরা বসবাস শুরু করেন। গত ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি উদ্ধার করতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের সময় সাঁওতালদের বাড়িঘরে লুটপাট হয়।

পুলিশের ভাষ্য, তারা সংঘর্ষ থামাতে গুলি চালায়। ওই ঘটনায় নিহত হন তিন সাঁওতাল, আহত হন অনেকে।

শিল্প সচিবের মত শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুও মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “এটা সাঁওতালদের জায়গা ছিল না। ভূমিদস্যুরা সাঁওতালদেরকে ব্যবহার করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সাঁওতালদের দিয়ে দখল করিয়ে পরে নিজেদের দখলে নেওয়া।”

বিজয় দিবস সামনে রেখে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালও সাঁওতাল পল্লীর ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
আমুর বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, “গতকাল মাননীয় শিল্পমন্ত্রী বলেছেন, এটা সুগার মিলের জায়গা, এই জায়গায় পর্যায়ক্রমে আখ চাষ করা হত। সেখানে কিছু আদিবাসী এসে ঘর তুলেছিল, তারা আবার চলেও গিয়েছেন। কালকে পর্যন্ত জানি সেখানে কেউ নাই।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহজ সুরে পরিস্থিতির বিবরণ দিলেও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উপর গুলির ঘটনার পর থেকে সমালোচনা চলছে দেশজুড়ে। ঢাকাসহ দেশে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালিত হচ্ছে।
এদিকে ওই জমি এখন কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দুই গজ পর পর সিমেন্টের পিলার দিয়ে তাতে বাঁধা হচ্ছে কাঁটাতার। গত ৯ দিনে এক কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে।

চিনিকল কর্তৃপক্ষের ডেপুটি ম্যানেজার রতন কুমার হালদার বলেন, “নিজেদের জমি রক্ষা করতে হলে বেড়া দিতে হবে। তা না হলে দখল হয়ে যায়।”

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

আইয়ুব খানেরই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি, আপনি তো কোন ছার: কৃষিমন্ত্রী

সাহেব-বাজার ডেস্ক : বাংলাদেশের রাজনীতিতে নানা ষড়যন্ত্র ও খেলা চলছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *