Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী, বিদায় তামিমদের– বিস্তারিত....
  • নাটোরে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও সাংবাদিক নান্টুর মায়ের ইন্তেকাল– বিস্তারিত....
  • রাজশাহীতে ছাত্রমৈত্রীর প্রতিষ্ঠাবাষির্কী পালিত– বিস্তারিত....
  • রাজশাহীর সংবাদপত্রগুলোতে নিয়োগপত্রের দাবিতে আরইউজে’র স্মারকলিপি– বিস্তারিত....
  • নছিমনের ধাক্কায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত– বিস্তারিত....

বাঘায় নবান্ন উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত

নভেম্বর ১৫, ২০১৬

নুরুজ্জামান,বাঘা : বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, ধান কর্তন, লোক সংগীত, নৃত্য, লাঠি খেলা , বাউল গান, কবিতা, সাপ ও বানর খেলা এবং অর্ধ শতাধিক স্টলে অসংখ্য পিঠা-পুলি আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বাঘায় অনুষ্ঠিত হয়েছে আবহমান বাংলার এতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব ও মেলা। মঙ্গলবার দিন ব্যাপী বাঘা উপজেলা পরিষদের সামনে এই উৎবস পালিত হয়।

সকাল ১০ টায় নবান্ন উৎসব উপলক্ষে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেলা চত্বরে মিলিত হয়। প্রতি বছর তুলনায় এই বছরের উৎসবটির আয়োজন ও লোকজনের উপস্থিতি ছিল ব্যাতিক্রম ধর্মী ও চোখে পড়ার মতো।

মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং স্থানীয় মহিলা ক্লাব হরেক রকমের পিঠা তৈরী করে মেলাকে শোভাবর্ধন করে তুলে। মেলায় পাওয়া গেছে- সোনালী ফসলে ভরে উঠা নতুন ধানের খই-মুড়ি, ভাপা পিঠা, পাটি সাপটা, কুলি পিঠা, নোকশী পিঠা, সেমাই পিঠা, দুধ পুলি, চন্দ্র পুলি, ক্ষির পুলি, পাকান পিঠা, নার্কেল পুলি, চিতাই পিঠা, পান পিঠা, বিস্কুট পিঠা, বকুল পিঠা, কাজল লতা, পদ্ম দিঘী, সাগর দিঘী, গোলাপ পিঠা, প্যারা পিঠা, লবঙ্গ এবং খেজুর রসের সু-মিস্ট পায়েস-সহ শতাধিক পিঠা।

অগ্রহায়ণের প্রথম সকালে নবান্ন উৎসবে মেতে ওঠে বাঘাবাসী। তাছাড়াও নানা শিল্পীদের কণ্ঠে আনন্দে মেতে উঠেছিল উপজেলা চত্বর। আবহমান কাল থেকে নবান্নের এ শুভক্ষণে উৎসব-আনন্দে পূজা-পার্বণে মেতে ওঠে বাঙালি। শিল্পায়ন ও নগরায়ণের কশাঘাতে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার আনন্দময় সরল জীবন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তরুণ প্রজন্মের ওপর পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রবল প্রভাব। তবু নাগরিক জীবনে নবান্নের শুভক্ষণের শুভ ছায়া ছড়িয়ে দিতে অগ্রহায়ণের প্রথম দিনে আয়োজন করা হয় এই নবান্ন উৎসবের।

এই উৎসবের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের দেশের অতিথী ঋতু শীতকাল। এই সময়ে প্রকৃতি আমাদের জীবন ধারার মাঝে ব্যাপক পরিবর্তন এনে দেয়। শীতে শহরের লোকজনের কাছে পরিচিত-কাকের ডাক, গাড়ির হর্ণ আর চায়ের কাপ। প্রক্ষন্তরে গ্রামের শীত মানে-কুয়াশার জালে ছিন্ন ভিন্ন করে রোদের স্পর্শ পা ভিজিয়ে দেয় দুবলা ঘাস। এ দিক থেকে গ্রামে যে নবান্ন উৎসব করা হয়, সেটাই মূলত প্রধান ও আসল নবান্ন উৎসব। যেখানে আমরা নতুন ধানকে স্পর্শ করতে পারি। খেতে পারি নানা রকম মুখরোচক পিঠা। সে হিসেবে শহুরে জীবনে যে নবান্ন উৎসব করা হয়, সেটা তো প্রতিকী। আমরা যাতে আমাদের উৎসকে ভুলে না যাই সে জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।

এরপর বিকালে উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে হেমন্তের মিষ্টি রোদ যখন চারদিক নিজের আলোর রোশনাই ছড়িয়ে দিচ্ছিল, ঠিক সেই সময় উপজেলা চত্বরের সামনে বিশাল আমগাছের নিচ থেকে ভেসে আসে “যা দিয়েছ তুমি আমায় কি দিব তার প্রতিদান মনমজাইলে ওরে বাউল গান’-সহ বাঁশির সুর , বাংলার লোক ঐতিয্য জারি-সারি গান এবং নাটকের রোমাঞ্চকর দৃশ্য।

নবান্নের এই উৎসবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান শফি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক বাবুল ইসলাম, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা রুমি আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাইদ, সিরাজুল ইসলাম মন্টু, কবির হোসেন, বাঘা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান প্রমুখ।

সব শেষে বিচারকদের রায়ে ৩০ টি নবান্ন স্টলের মধ্যে উপজেলা লেডিস ক্লাব প্রথম, শিক্ষা অফিস দ্বিতীয় এবং বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্র তৃতীয় নির্বাচিত হয়। এ ছাড়াও সকল স্টলকে শান্তনা পুরষ্কার দেয়া সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপরে অংশ নেয়া ব্যাক্তি ও শিল্পীদের পুরষ্কৃত করা হয়।