Ad Space

তাৎক্ষণিক

ট্রাম্প থেকে নাসিরনগর । শহীদ ইকবাল

নভেম্বর ১৫, ২০১৬

কদিন ধরে একাধারে দেখে চলছি সংখ্যালঘুর ওপর নির্মম অবিচার প্রথম নাসিরনগর পরে গোবিন্দগঞ্জ। এ নিয়ে প্রতিবাদ, লেখালেখি বেশ চলছে। তাই নতুন কিছু বলার অবকাশ কম। পুনরাবৃত্তি না করে কিছু অনুভূতির কথা শেয়ার করতে চাই।
সম্প্রতি মার্কিন মুল্লুকে একপ্রকার হৈচৈ পড়ে গেছে। ডোনাল্ড ট্র্যাম্প নাম্নী এক রিপাবলিকানের জয়ের ফলে। কাগজগুলো বেশ উত্তাপ ছড়াচ্ছে এ নিয়ে। একপ্রকার নতুন অভিজ্ঞতাই মনে হচ্ছে, এ নির্বাচনকে ঘিরে। আমাদের দেশেও ইলেকশান হয়, আগে দেখা গেছে ধানের ক্ষেতে ভোটবাক্স নিয়ে দৌড়াদৌড়ি চলছে। অমুক-র ক্যান্ডিডেট, তাই সে জিতবে। জিতেও গেছে। নব্বই ভাগ ভোট শাসকদল পায়। বিপরীতে আবার ভোট নিয়ে উৎসবও কম হয় না। সে সংস্কৃতিও বেশ আনন্দের।
যা হোক, আমেরিকাতে যা হচ্ছে তাতে ঠিক আমরা কম হীনমন্যতার আশায় উজ্জীবিত হচ্ছি বলেই মনে হয়। তবে ওদেশেও এসব হয়! ভোটে জিতলেও প্রতিবাদ ওঠে, রক্তারক্তি হয়। দ্বিধাবিভক্তি গড়ে ওঠে। তার আবার সহিংস রূপও আছে ইত্যাদি। তবে কী বিশ্ব এখন পরিবর্তিত? এককালের স্বপ্নধর (আমাদের চোখে) রাষ্ট্র রাশিয়া সেও ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছে। যে লোক ডিক্লেয়ার করে বর্ণবাদের পক্ষে, বাণিজ্যের ব্যাপারে যিনি অধিক কনজার্ভেটিভ, উদারতার বিপক্ষে যিনি উগ্র রক্ষণশীল সে কীভাবে রাশিয়ার সমর্থন পায়! এসব প্রশ্নের ভেতরেই এদেশে উগ্রপন্থার উত্থান বেশ তাৎপর্যপূর্ণভাবেই চোখে পড়ছে। এটি বাড়ছেও নানাভাবে।
বর্তমানে সরকারে যারা আছেন, তারা বুঝি এর ভয়াবহতা ঠিক বুঝতে পারছেন না। কারণ, তত্ত্ব ও আদর্শের পীঠ নানা রঙের হলেও শোষক ও শোষিত খুব দ্রুত কাতারবন্দী হয়ে যায়। রক্ষণশীল, বর্ণবাদ, উগ্রপন্থা, ক্ষমতালিপ্সু, ধর্মীয় ব্যবসা, শাসনতন্ত্র, শোষণযন্ত্র খুব দ্রুত একাট্টা হয়ে যায়। প্রসঙ্গত, একজন বর্ণবাদী বিচ্ছিন্নভাবে উদারপন্থা দলের টিকিটে এমপি-মন্ত্রী হতে পারে কিন্তু স্বভাবে সে উগ্রপন্থাই থেকে যায়। তার রুচি ও সংস্কৃতিও তো তার বাইরে নয়। কিছু চিরপরিচিত অভিজ্ঞতার কথা বলি।

রাজনীতি বা গণতন্ত্র কার্যত এখন নির্ধারিত দলীয় আদর্শ বা সরকারের প্রগতিশীল অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে না। একজন দলের প্রধান হয়তো দলের পরিচ্ছন্ন চিন্তার কথা বলবেন, শাস্তির জন্য সতর্ক করবেন কিন্তু ভেতরে তো অনেকেই আছেন যারা আগামীতে পুঁজির দাপটে নির্বাচনে নামবেন, মনোনয়ন পাবেন। তারা তো মনে মগজে দলীয় আদর্শ বোঝেন না। কারণ, মেহনতী মানুষের সঙ্গে তাদের পরিচয় নেই, ওঠাবসাও নেই। আর শুধু সরকারি দল নয়, সব দলেরই প্রায় একই অবস্থা।

বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নবনির্বাচিত সেক্রেটারি সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটে যে সতর্কমূলক বার্তা ঘোষণা করেছেন তা শুধু দুষ্টুবুদ্ধির লোকের বিরুদ্ধেই যে তা নয়। দলে অনেক রক্ষণশীল, লোভাতুর, ধর্মান্ধ ও প্রতাপশালী ব্যক্তিরও সমাহার আছে। এ ব্যক্তিরা সংখ্যালঘুদের সম্পদ-আবাস লুঠ করে, আগুন দেয়, ছিনতাই করে বিভিন্ন পদ্ধতিতে। কখনও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করে কখনোবা নিজের বাহিনীকে কাজে লাগায় কখনোবা নেপথ্যে থেকে বিভিন্ন দূরভিসন্ধিমূলক ফন্দী আঁটে। ধর্মীয় উগ্রতা দিয়ে সংখ্যাগুরু সরলমনা সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এ দৃষ্টি সম্প্রসারিতও হয়, সস্তা সমর্থন আদায়ে। সেখানে মানবতা বা সভ্যতার প্রশ্নটি বিকল। এটি কেন? ক্রমশ এর বিস্তার বা সম্প্রসারণেরই বা কারণ কী? বিশ্বব্যবস্থায় ‘ট্রাম্প শাসন’জারি হলে তার যে আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রভাববলয় তাতে এই ক্ষুদ্র প্রত্যন্ত অঞ্চলবাসী হিসেবে আমাদের অবদমনের রেখাপাত কতোদূর যাবে কিংবা এর যৌক্তিক বা বাস্তব আশঙ্কাইবা কতোটুকু?
উইনস্টন চার্চিল ‘ট্রিউম্ফ এন্ড ট্রাজেডি’গ্রন্থে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে উপলক্ষ করে বিশ শতকের প্রথমাংশের একটা সমাজ-রাজনীতির মনোজ্ঞ ইতিহাস রচনা করেছিলেন। সেখানে এরকম একটা কথা বলা আছে ‘It’s very difficult to understand that your key ally is just about to become your enemy and will ruthlessly exploit your naive trust. Tragedy indeed.’ সে নির্মম সত্য কথা। অনেককিছুই অবিশ্বাস্য কিন্তু সেটি যখন সত্য হয় তখন তা প্রকৃত ট্র্যাজেডি।
খুব কাছের মিত্রও চরম বিশ্বাসঘাতক হতে পারে, বিক্রি করতে পারে অন্যজনের সরল আস্থাকে। আমাদের বিশ্বব্যবস্থায় এই ঘাতকদের চোখ বাড়ছে কী? জীবনের মূল্যমান সেখানেও কতো বিব্রতকর? আমাদের উপমহাদেশে অতীতে শত শত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে। অসহায় মানুষ, নারী-শিশু জীবনহারা হয়েছে। শুধু তাই নয় এসব মৃত্যুর বিনিময়েও মানুষের মন যদি কলুষমুক্ত হতে পারত, তবুও প্রাণের মূল্য না হয় মিলত। কিন্তু তা হয়নি। ধর্মের ভিত্তিতে, বর্ণের ভিত্তিতে, শ্রেণির ভিত্তিতে, পেশার ভিত্তিতে মানুষ বিভক্ত হয়ে গেছে।
সেরূপ মনস্তত্ত্বও তৈরি হয়েছে। বিষাক্ত মনে সাম্প্রদায়িকতা তো ক্রমশ জেঁকে বসেছে। তার বিস্তৃতি এখন ক্ষমতার নামে, শাসনের নামে, ধর্মের নামে চলছে। বিষয়গুলো একই কিন্তু মাঝে মধ্যে খোলস পাল্টায়। এর প্রধান ভিত্তি হচ্ছে অর্থনীতি। নাসিরনগরে লুটপাট হয়েছে অনেক। সোনা লুণ্ঠন, অর্থ লুণ্ঠন পারলে ইজ্জত লুণ্ঠনও সেটি সংখ্যাগুরুদের জন্য সোজা। ঘটেছেও। এখন প্রশাসনে যারা আছে বোধ করি তারাও এমন মানসিকতার বাইরে নয়। সবাই তো এই ভূখণ্ডেরই সন্তান। সেখানে যে রাজনৈতিক কৃষ্টির ধারা প্রবহমান তাই সকলের মধ্যে বহমান।
যেটি বোঝার বিষয় তা হলো, জন্মসূত্রে মানুষ অনুদার, রক্ষণশীল, বিদ্বেষপ্রবণ, সহিংসাগ্রস্ত, পাশবও বটে; কিন্তু সে প্রবণতাগুলো রক্তমাংসের শরীর থেকে দূর করা এবং সাহসী ও কমিটেড হওয়ার জন্য প্রচুর মানসিক শক্তি ও জ্ঞানের দরকার। বস্তুত, আমাদের সমাজে সেটির অভাব। সে পথগুলোও সীমিত। এই সীমিত অবস্থাটা এদেশে সত্তরের দশকে কিংবা তার আগে আর্থ-সামাজিক কারণেই বোধ করি কম ছিল। তখন ভোগ-বাসনা, ব্যক্তিবাদ এতো বেশি প্রখর ছিল না। মানুষের মধ্যে প্রবৃত্তিগত বিষয়টা ছিল কিন্তু মূল্যবোধও অপসৃত ছিল না। বিকারের সুযোগও কম ছিল।
চার্চিল যেটা বলেছেন সেটা দর্শনসুলভ জ্ঞান। সেটি হয়তো চিরসত্য কিন্তু আচরণ ও ব্যবহারের মাত্রাগত তারতম্য আগের চেয়ে এখন বেশি মাত্রায় অধঃপতিত। এটির সমাজ বাস্তবতাও হয়তো আছে। কিন্তু প্রশ্ন আধুনিক ও উন্নত সমাজের পথ তৈরি হবে কী করে তাতে! এখন ট্রাম্প সাহেবের কথা সেকারণেই আসছে। মার্কিন মুল্লুকে কী হচ্ছে তা নিয়ে লাফালাফির কিছু নেই কিন্তু গ্লোবাল বিশ্বের যে ছায়াচিত্র আমরা দেখছি কিংবা নিও-কনজারভেটিভ যে প্রবণতা মার্কিন দার্শনিক ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা তার ‘এন্ড অব হিস্ট্রি এন্ড দ্য লাস্ট ম্যান’-এ বলছেন সেখানে বিশ্ব প্রগতির জানালাগুলো তো প্রায় অবরুদ্ধই হয়ে পড়েছে বলা যায়।
যদি বিভক্তিই ডেকে আনে তাহলে মানব সভ্যতা তো সম্মুখগামী থাকল না। এখন গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালদের পাড়া দুটি তো শ্রমজীবী বা কর্ম করে খাওয়া জনগোষ্ঠীর পাড়া। সেখানে সুগারমিলের ইক্ষু কাটাকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছে তাতে সকলে মিলে (পুলিশ ও স্থানীয় জনতা) সাঁওতালদের প্রতিপক্ষ হয়েছে। গুলি হয়েছে। প্রাণ গেছে। আহত হয়েছেন অনেকেই। বিষয়টির সহজ সুরাহা ছিল। কিন্তু ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষদের তুচ্ছ ভেবে তাদের অবজ্ঞা করে দমনের চেষ্টা করা হয়েছে। এটি কেন? জনতাও সাঁতালদের প্রতিপক্ষ হলো কেন? শোষক আর শোষিতের পর্যায় এখানে সংখ্যাগুরু আর সংখ্যালঘুর প্রতিপক্ষ কী? জনতা উস্কানী পেয়েছে বন্দুকধারী পুলিশের কাছে, গরিব-মানবেতর-সংখ্যালঘু সাঁওতালদের বিপক্ষে। সমীকরণটি একই।
গড়ে শোষক আর শোষিতের কিংবা অধিকারী আর অধিকার-বঞ্চিতদের ধারায় গুলিবর্ষণ চলে, মারপিট চলে। সবচেয়ে বিস্ময়কর, আধুনিক রাষ্ট্রও একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যায়, এটিই আশ্চর্য! এখানেই কী ফুকুয়ামার ‘এন্ড হিস্ট্রি’বা ‘লাস্ট ম্যান’র তত্ত্বটি পরিণাম পাচ্ছে! ‘What we may be witnessing is not just the end of the cold war, or the passing of a particular period of post-war history as such : that is the end point of mankind’s ideological evolution and the universalization of western liberal democracy as the final form of human government’এটাই কী সত্য পরিণতি!
বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি গড়ে উঠেছিল সমাজতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক স্বপ্নচেতনা থেকে। যার ভিত্তি মুক্তি তথা মানবমুক্তি। এই মানবমুক্তির অভিপ্রায়টি শুধু এ ভূখণ্ডেই নয়, বিশ্বব্যাপী মানবমুক্তির অভিমুখও বটে। চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব কিংবা সোভিযেট ইউনিয়নের সমাজতন্ত্রের রাষ্ট্রকাঠামো, কঙ্গোর প্যাট্রিস লুমুম্বা, ভারতের নেহেরুর রাষ্ট্রদর্শন ইত্যাদির বিস্তর অভিপ্রায় দেশে দেশে গড়ে উঠেছিল। কিন্তু তারপর অনেক সময়ের ইতিহাসের পরতে যুক্ত হয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন নতুন পাখা। নব-আবিষ্কারের এই জৌলুস সহজ ব্যবহারিক জীবনের যূথবদ্ধতা কেড়ে নিয়েছে। ভোগ বেড়েছে। উত্তাপ ও আনুষ্ঠানিকতা অস্থির পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কার্যত, এর ভেতর থেকেই নাগরিক জীবনের বিস্তৃতি ঘটে। গ্রাম ও গ্রামীণতার সহজ ও স্বাভাবিক ব্যবস্থা আর নেই। নাগরিক বিস্তৃতির মধ্যে বাইরের অহংকার গড়ে উঠেছে। বিষয়গুলো কালস্রোতে প্রবহমান উপাদানও বটে। ফলে নাগরিক প্রশস্তির ধারায় কী কনজারভেটিভ ইঙ্গিতটিই আমাদের সমাজে শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হবে। শুধু এ ভূখণ্ড নয়, পৃথিবীর দেশে দেশে কী এমন অশনি সংকেতই প্রতিশ্রুত হতে যাচ্ছে? নইলে ট্রাম্প যখন জিতে যান তখনও অনেকেই কেন তার বিপরীত অবস্থাটায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। কিংবা গোবিন্দগঞ্জের মাদারপুর ও জয়পুরে আবারও রাষ্ট্র অভয় দিয়ে সংখ্যালঘুদের স্বস্তিতে থাকার কথা বলে!
বাংলাদেশে বর্তমানে সামগ্রিক যে চিত্রটি তাকে বুঝি নাম দেওয়া যেতে পারে ‘ট্রাঞ্জিশন পর্ব’। এমনটা তো সত্য, এদেশে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এখনও দুর্বল। পেশীশক্তির প্রকোপ বেশ বাড়াবাড়ি পর্যায়ের। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগ এখনও পূর্ণ স্বাধীন নয়। আইনের শাসন বা আইন সবার জন্য সমান সেটি মুখের কথাই রয়ে গেছে। এসব কার্যকর হওয়ার জন্য যে কার্যকর মানসিকতা তা এখনও এদেশের মানুষ দ্ব্যর্থহীনভাবে লালন করতে সক্ষম নয়। দুর্নীতির রশি এখনও টেনে ধরা যায়নি। স্বাস্থ্য-চিকিৎসা সুলভ নয়। সেবার সংস্কৃতিও গড়ে ওঠেনি। ব্যবসা-বাণিজ্য, নিজের উন্নতি হলেও মানসিকভাবে এখনও আমরা পঙ্গু।
কথাগুলো ঢালাওভাবে বলা হলেও বাস্তবসত্য অনেকটা এরকমই। বিপরীতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সততা যেমন আছে তেমনি দ্রুত উপরে ওঠার আকাঙ্ক্ষাও কম নয়। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো এদেশের সাফল্যজনক অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য দূরাশা হয়ে উঠেছে। কাগজের মিল, পাটের মিল, সুগার মিল রাষ্ট্রায়ত্ত করে সাফল্য লাভের যে পকিল্পনা ছিল তা সম্ভব হয়নি। সরকার নজর দিতে সক্ষম হয়নি। বেকারত্ব বেড়েছে। প্রতিযোগিতার বাজার নয়, ব্যক্তিমুনাফা বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে অপব্যবহার করেই এসব রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে লালবাতি জ্বালানো হয়েছে।
এসব নিয়ে ভাববার বুঝি আর অবকাশ নেই। কারণ, ইতিমধ্যেই এ জায়গায় কায়েমী স্বার্থবাদী গ্রুপ দাঁড়িয়ে গেছে। তারা নিরস্ত্র নয়। রাষ্ট্রের বা সরকারের অংশ হিসেবেই তারা এখন ‘বিজনেস জায়ান্ট’। এসব বলার অর্থ হলো, দরিদ্র বেড়ে যাওয়া এবং একটা স্তর পর্যন্ত ভূঁইফোঁড় অধিক ধনী ও পুঁজিপতি শ্রেণি পয়দা হওয়া। এবং এরাই রাজনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস নিয়ন্ত্রণকর্তা। তাদের অঙ্গুলি নির্দেশে এদেশে অনেক কিছু হয়। এবং তা সবই লোক দেখানো, ভিমড়িমাত্র। এসব মৌলিক সমস্যা সমাধানে তেমন কাজে দেবে না।
আরও সবিস্তারে বলা যায়, দেশের বাইরেও এ চক্র পুঁজির-বৃত্ত তৈরি করেছে। এর সঙ্গে বর্তমানে গড়ে ওঠা নব্য-সাম্রাজ্যবাদী চক্রেরও যোগ আছে। ফলে সরকারের ভেতরে প্রগতির পক্ষশক্তি কাজ করলেও শেষপর্যন্ত হয়তো তারা সফল হয় না। তাই ট্রাম্প জিতে যায় কিংবা নাসিরনগর বা গোবিন্দগঞ্জের মতো ঘটনা ঘটতে থাকবে এবং বোধ করি তার পুনরাবৃত্তিও চলতে থাকবে (যদিও তা কেউ আশা করে না)। তাই এসব বিষয় নিয়ে যে অস্থিরতা তা এই মুহূর্তে বুঝি অবসান সম্ভব নয়।
কারণ, রাজনীতি বা গণতন্ত্র কার্যত এখন নির্ধারিত দলীয় আদর্শ বা সরকারের প্রগতিশীল অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে না। একজন দলের প্রধান হয়তো দলের পরিচ্ছন্ন চিন্তার কথা বলবেন, শাস্তির জন্য সতর্ক করবেন কিন্তু ভেতরে তো অনেকেই আছেন যারা আগামীতে পুঁজির দাপটে নির্বাচনে নামবেন, মনোনয়ন পাবেন। তারা তো মনে মগজে দলীয় আদর্শ বোঝেন না। কারণ, মেহনতী মানুষের সঙ্গে তাদের পরিচয় নেই, ওঠাবসাও নেই। আর শুধু সরকারি দল নয়, সব দলেরই প্রায় একই অবস্থা।
অবশ্য এ পরিস্থিতি নিশ্চয়ই চিরকালের নয়। পরিবর্তন আসবে। কিন্তু আমাদের এখনকার চলাটা বুঝি ট্রাম্পমার্কা নেতৃত্বের হাত ধরেই চলবে!
শহীদ ইকবাল : অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।