Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • ‘আপত্তিকর’ কাজে বাধা দেয়ায় প্রহরীকে মারধর– বিস্তারিত....
  • বামশক্তি কনসোলিটেড হয়ে দাঁড়াতে না পারলে ফিল ইন দ্য ব্লাংক করে ফেলবে ধর্মীয় শক্তি : আবুল বারকাত– বিস্তারিত....
  • মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে হলে ভ্যাটের বিকল্প নেই : ভূমিমন্ত্রী– বিস্তারিত....
  • নাটোরে নির্মাণের ৯ মাসেই ভেঙে পড়েছে কালভার্ট– বিস্তারিত....
  • নাটোরে ইয়াবাসহ চার যুবক আটক– বিস্তারিত....

চিকিৎসকের সঙ্গে যোগসূত্র নব্য জেএমবির

নভেম্বর ১৪, ২০১৬

সাহেব-বাজার ডেস্ক : নব্য জেএমবির সঙ্গে চার চিকিৎসক ও একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র পাওয়া গেছে। গোয়েন্দাদের দাবি, তারা এরই মধ্যে জেএমবির বাইয়্যাত নিয়েছেন। কেউ কেউ পরিবারসহ উগ্রপন্থি সংগঠনে হিজরতও করেছেন। তাদের মধ্যে জেএমবিতে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফয়সাল তৌহিদুজ্জামান। তার সাংগঠনিক নাম ফুয়াদ মাহমুদ। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করেছেন। ফয়সাল দেশের অন্যতম প্রধান একটি মোবাইল অপারেটরের স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মসূচিতে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজধানীর উত্তরায় বসবাস করতেন। অন্যান্য জঙ্গির মতো কিছুদিন ধরে তিনিও রহস্যজনকভাবে ‘নিখোঁজ’ আছেন। নব্য জেএমবির সঙ্গে ফয়সালের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসার পর গোয়েন্দারা তাকে ধরতে মরিয়া। এ ছাড়া নব্য জেএমবির দু’জন চিকিৎসক এরই মধ্যে সিরিয়ায় গেছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দারা বলছেন, নব্য জেএমবিতে যুক্ত হওয়া এই চিকিৎসকরা সংগঠনে অর্থ সরবরাহের পাশাপাশি অপারেশনে আহত সদস্যদের চিকিৎসা ও সুস্থতার বিষয়টি দেখভাল করতেন। ‘নীরব হত্যার’ কৌশলের বিষয়ে জেএমবির সদস্যদের জন্য একটি কর্মপন্থা তৈরি করেন তাদের কেউ কেউ।

দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, যে চার চিকিৎসক ও এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর সঙ্গে জেএমবির যোগসূত্র পাওয়া গেছে তারা হলেন- রংপুরের প্রাইম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আশিকুল আকবর আবেশ, লক্ষ্মীপুরের ডা. ইকবাল মাহমুদ, রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা একজন চিকিৎসক, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা ডা. ফয়সাল তৌহিদুজ্জামান ও শিশু চিকিৎসক ডা. রোকন উদ্দিন। তাদের মধ্যে ডা. রোকনের সপরিবারে সিরিয়ায় যাওয়ার পর বিষয়টি ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও অন্য চিকিৎসকের বিষয়টি এতদিন অন্ধকারে ছিল। জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলার তদন্ত করতে গিয়ে চিকিৎসকদের জঙ্গি কানেকশনের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। খবর সমকাল অনলাইন:

দায়িত্বশীল একটি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ডা. ফয়সালের সঙ্গে নব্য জেএমবির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। রাজধানীর রূপনগরে অভিযানে নিহত মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামের সঙ্গেও এ চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠতা ছিল। জাহিদুল, ডা. ফয়সালসহ ৪-৫ জন একসঙ্গে বাইয়্যাত নিয়েছিলেন। ফয়সালকে গ্রেফতারে এরই মধ্যে একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। তার ব্যাপারে পুলিশের ‘হ্যালো সিটি’ অ্যাপসে তথ্য দিয়েছেন অনেকে। এর আগে জঙ্গি মারজানের ব্যাপারেও হ্যালো সিটিতে তথ্য এসেছিল। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো- গুলশানে হামলায় জড়িতদের বগুড়া ও গাইবান্ধায় প্রশিক্ষণের পর রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘আনোয়ারা গার্ডেন’ নামের একটি বাসায় এনে ‘ইনডোর ট্রেনিং’ দেওয়া হয়েছিল। আনোয়ারা গার্ডেনের বাসায় গুলশান হামলায় জড়িতদের সঙ্গে ইনডোর ট্রেনিং নিয়েছিলেন ডা. ফয়সাল। জেএমবির কোনো সদস্য অপারেশনে গিয়ে আহত হলে তার চিকিৎসার দেখভাল করার দায়িত্ব এই ডা. ফয়সালকে দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, আনোয়ারা গার্ডেনে পুলিশের অভিযানের পর অনেক ওষুধ ও অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম পাওয়া যায়। জেএমবির আস্তানায় এসব আলামত দেখে গোয়েন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্মিত হন। এতসব চিকিৎসা সরঞ্জাম দেখে তাদের প্রাথমিক ধারণা হয়, জেএমবির সঙ্গে কোনো চিকিৎসক যুক্ত হয়েছেন। পরে নিবিড় গোয়েন্দা অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে- আনোয়ারা গার্ডেনের আস্তানায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল ডা. ফয়সালের। শুধু তাই নয়; জেএমবির সঙ্গে আরও অনেক চিকিৎসকের সংশ্লিষ্টতার তথ্য মেলে।

জঙ্গিদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছেন এমন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, দেশের বাইরে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন জঙ্গি পালিয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরেই তামিমের সঙ্গে পরিচয় হয় ডা. ফয়সালের। বিদেশ থেকে যারা জঙ্গিদের নানাভাবে সহায়তা করছে তাদের ব্যাপারে অনেক তথ্য এরই মধ্যে পাওয়া গেছে। আরেক চিকিৎসক ডা. ইকবাল মাহমুদ জঙ্গিদের আর্থিকভাবে সহায়তা করেছেন বলে তথ্য রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। ডা. ইকবাল মাহমুদ ২৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এ ছাড়া রংপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আশিকুল আকবর আবেশকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চলতি বছরের জুলাইয়ে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি কারাবন্দি।

দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, নব্য জেএমবির সামরিক কমান্ডার তামিম চৌধুরী ২০১৩ সালে কানাডা থেকে দেশে ফেরার পর সংগঠনকে নতুনভাবে গোছানোর কাজ শুরু করেন। ওই সময়ে একটি গ্রুপে মেজর জাহিদুলসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষিত তরুণ ও যুবক একসঙ্গে নব্য জেএমবির বাইয়্যাত নেন। তারা বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একই গ্রুপে বাইয়্যাত ও প্রশিক্ষণ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন শিক্ষকও রয়েছেন। তাকেও খোঁজা হচ্ছে। নব্য জেএমবিতে যুক্ত উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ পরিবারের সদস্যসহ নব্য জেএমবিতে হিজরত করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জেএমবি নেতা তামিম, মেজর জাহিদুল পুলিশের অভিযানে নিহত হওয়ার পর ডা. ফয়সাল জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়ার মতো সাংগঠনিক দক্ষতা এরই মধ্যে অর্জন করেছেন। ডা. ফয়সালের সঙ্গে নব্য জেএমবির দুর্র্ধষ ক্যাডার নিহত জোনায়েদ ও নাদালেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। জোনায়েদ ও নাদাল দু’জনের বাড়ি নোয়াখালী। এ ছাড়া সম্প্রতি গাজীপুরে অভিযানে নিহত জঙ্গিদের মধ্যে চারজন এবং জেএমবি নেতা ও সাবেক ব্যাংকার তানভীর কাদেরীর ছেলে আফিফ কাদেরীর সঙ্গে ডা. ফয়সালের যোগাযোগ ছিল। এমনকি চলতি বছর মিরপুর থেকে নিখোঁজ হওয়া এ-লেভেল পাস করা দুই খালাত ভাই আহমেদ রাফিদ আল হাসান ও আয়াদ হাসান খানের সঙ্গে ডা. ফয়সালের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তারা সবাই এক সঙ্গে বেশ কিছু দিন জেএমবির আস্তানায় অবস্থান করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হলি আর্টিসানে হামলার পর দেশ্যব্যাপী জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নব্য জেএমবির শক্তি অনেকাংশে দুর্বল হলেও বেশ কয়েকজন জঙ্গি নেতা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। নব্য জেএমবির অন্তত ২১ সদস্য এখনও মাঠে রয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন শূরা সদস্যও রয়েছে।

গোয়েন্দারা বলছেন, জেএমবি চিকিৎসকসহ কিছু সদস্যকে নিয়ে সংগঠনের একটি ‘চিকিৎসা শাখা’ গঠনের উদ্যোগ নেয়। সেখান থেকে সংগঠনের সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। জেএমবির ছক ছিল, ‘আত্মঘাতী’ সদস্য ব্যতীত অন্যরা দেশের কোথাও কোনো অপারেশনে আহত হলে হাসপাতালে না গিয়ে চিকিৎসা নিতে সংগঠনের চিকিৎসা শাখায় যোগাযোগ করবে। এ লক্ষ্যে রাজধানীর কোনো একটি আস্তানায় প্রাথমিকভাবে জেএমবির একটি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনে তারা অনেক দূর এগিয়েছিল। তবে হলি আর্টিসানে হামলার পর দেশব্যাপী জঙ্গিবিরোধী অভিযানে তাদের এমন অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ভাটা পড়ে।