Ad Space

তাৎক্ষণিক

গুদাম সংকট দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে বিজেএমসির

নভেম্বর ১৪, ২০১৬

সাহেব-বাজার ডেস্ক : বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪৬ শতাংশ পাট কিনেছে পণ্যের চাহিদা থাকায় পাটকলগুলোয় দৈনিক উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে। পাট ক্রয় ও উৎপাদনে তুষ্টি থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে গুদাম সংকট। পর্যাপ্ত গুদাম না থাকায় এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ কুইন্টাল কাঁচা পাট মজুদ হয়েছে বিজেএমসির বিভিন্ন কারখানায়।

বিজেএমসির একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাট মজুদ আছে খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলোয়। এ অঞ্চলের নয়টি পাটকলে মজুদের পরিমাণ ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯৩ কুইন্টাল। ঢাকা অঞ্চলে মজুদকৃত পাটের পরিমাণ ২ লাখ ৬০ হাজার ৯৫০ কুইন্টাল। সবচেয়ে বেশি ৭৩ হাজার ৩১৩ কুইন্টাল পাট মজুদ রয়েছে ইউএমসি জুট মিলে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাতটি পাটকলে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৭৭ কুইন্টাল পাট মজুদ আছে। এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি পাট মজুদ রয়েছে হাফিজ জুট মিলস লিমিটেডে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সক্রিয় উদ্যোগ নেয় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। এ আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এরই মধ্যে সারা দেশে কাঁচা পাট, বস্তা বা ব্যাগের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। এ চাহিদা মেটাতে কাঁচা পাট ক্রয় ও পাটজাত পণ্য হেসিয়ান, স্যাকিং ও ইয়ার্নের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়।

আইনটি বাস্তবায়নে বছরে প্রায় ৭০ কোটি পাটের ব্যাগ প্রয়োজন। সে হিসাবে প্রতি মাসে ৫ কোটি ২৫ লাখ ব্যাগ প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে দুই মাসের প্রয়োজনীয় ব্যাগ (প্রতিটির ওজন ৭০০ গ্রাম) মজুদ রাখা হয়েছে। একই পরিমাণ ওজনের ৭০ কোটি ব্যাগ তৈরি করতে বছরে ২০-২২ লাখ বেল কাঁচা পাট প্রয়োজন।

সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরের শুরুতেই ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৩১ কুইন্টাল কাঁচা পাট কেনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এ লক্ষ্য সামনে রেখে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে মোট ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৪ কুইন্টাল পাট কেনা হয়েছে। এ হিসাবে গত চার মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৪৬ শতাংশ পাট কেনা হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মজুদকৃত পাটের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪৯ হাজার ১২০ কুইন্টালে। অর্থবছর শুরুর সময় পাটের মজুদ ছিল ৩৫ হাজার ১২ কুইন্টাল।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিজেএমসির চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘পাট কেনা থেকে শুরু করে উৎপাদন-সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে অতীতের তুলনায় বিজেএমসির বর্তমান অবস্থান বেশ ভালো। আগের বছরগুলোয় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পাট কেনা সম্ভব হতো না। এবারের চিত্রটি বলতে গেলে ব্যতিক্রমই। অর্থবছরের প্রথম চার মাসেই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক পাট কেনা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ বছর পাটের মজুদ বাড়ছে। অবশ্য বাজারে বিজেএমসির পণ্যের বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। তবে সময়মতো পণ্য বিক্রি করতে না পারলে গুদাম-সংকট দেখা দিতে পারে।’

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত অর্থবছরে বিজেএমসির দৈনিক উৎপাদন ছিল ৩৩৬ টন। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ২২টি কারখানায় দৈনিক উৎপাদন হয়েছে ৬৫০ টন। অর্থাত্ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৮৬ শতাংশ।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনের

তথ্যানুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিজেএমসির মোট উৎপাদন ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৫০৬ টন। বিক্রয়ের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ৫২৬ দশমিক ৪৪ টন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লোকসান ছিল ৬১৯ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাটের উৎপাদন ছিল ৯৫ হাজার ৪৭৪ দশমিক ৮৩ টন। বিক্রয়ের পরিমাণ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৪ দশমিক ৭৮ টন। সে অর্থবছর লোকসান হয়েছিল ৬৯৩ দশমিক ৫৬ কোটি টাকা।

১৯ বছর পর ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা লাভ করে বিজেএমসি। পরে ফের লোকসানে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ২০১১-১২ অর্থবছরে ৭৯ কোটি, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩৮৫ কোটি ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৪৫২ কোটি টাকা লোকসান করে বিজেএমসি।