Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • নাটোরে হাত পা বেধে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা– বিস্তারিত....
  • রাজশাহীতে তিন কারারক্ষীসহ ১৪ জুয়াড়ি গ্রেফতার– বিস্তারিত....
  • নিয়োগ প্রাপ্তির ১০ বছর পর শিক্ষকের পাঠদান– বিস্তারিত....
  • জাতীয় শিক্ষক দিবস ঘোষণার দাবিতে ছাত্রলীগের মানবন্ধন– বিস্তারিত....
  • আট ছাত্রলীগ নেতার ফাঁসি : শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত– বিস্তারিত....

রাবি শিক্ষক লিলন হত্যাকাণ্ড : দুই বছরেও অগ্রগতি নেই মামলার

নভেম্বর ১৪, ২০১৬

মর্তুজা নুর, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার বিচারিক কার্যক্রমের কোন অগ্রগতি হয়নি।

ওই মামলার প্রধান আসামি জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলসহ বাকি ১০ আসামিই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন। এ অবস্থায় থমকে আছে মামলার অগ্রগতি।

আলোচিত ওই মামলার রাষ্ট্রপরে কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাড. আবদুস সালাম জানান, যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলকে প্রধান আসামি করে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রেজাউস সাদিক।

ওই মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন নাসরিন আখতার রেশমা। আর উজ্জ্বল রাজশাহী মহানগর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মোকসেদা আজগরের কাছে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে উজ্জ্বল-রেশমাসহ প্রত্যেক আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। বর্তমানে এই মামলা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়েছে। এখন মামলা আমলে নিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করবেন আদালত।

অভিযোগপত্রে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আখতার রেশমার সঙ্গে শিক শফিউল ইসলামের দ্বন্দ্বের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এতে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, আব্দুস সামাদ পিন্টু, আরিফুল ইসলাম মানিক, সিরাজুল ইসলাম, সবুজ, আল মামুন, আরিফ, সাগর, জিন্নাত আলী, ইব্রাহিম খলিল ও নাসরিন আখতার রেশমাকে আসামি করা হয়। মামলার পর থেকেই উজ্জ্বল পলাতক ছিলেন।

২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে খুন হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলন। পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে মতিহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক লিলনই প্রথম হত্যাকাণ্ডে শিকার নয়, এর আগে প্রায় একই কায়দায় হত্যা করা হয়েছে আরো চারজন শিক্ষককে। ২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড.এস তাহের আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। এর দুই দিনপর তার বাসার পেছনের সেফটিক ট্যাংক থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে বিভাগের সহকর্মী, শিবির নেতাসহ চারজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলে একই বিভাগের শিক্ষক ড. মিয়া মো. মহিউদ্দিন এবং ড. তাহেরের বাসার তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুদ- বহাল রাখেন উচ্চ আদালত।

২০০৪ সালে ২৪ ডিসেম্বর প্রাত:ভ্রমণে বের হলে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকায় নিজ বাস ভবনের সামনে খুন হন অর্থনীতি বিভাগের আওয়ামীপন্থী অধ্যাপক ড. ইউনুস। ওইদিন তার ভাই ছোট ভাই আব্দুল হালিম বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন। সিআইডি এ মামলার তদন্ত শেষে আট জেএমবি সদস্যকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ২০১০ সালের ২ জানুয়ারি ছয়জনকে বেকসুর খালাস দিয়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল।

আর সর্বশেষ এই বছরের ২৩ এপ্রিল বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে খুন হন ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকী।

একের পর এক শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ওয়ারদাতুল আকমাম বলেন, ‘লিলন স্যার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে প্রায় সাত মাস আগে। কিন্তু এরপরেও মামলার আর কোন অগ্রগতি আমরা জানতে পারিনি। এমন বিচারহীনতায় খুনিরা আরও একটি খুন করার সাহস পাচ্ছে।’

শিক্ষক লিলন হত্যার দুই বছর পার হলেও আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) বেলা ১১টায় সিনেট ভবনের সামনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ এবং রাবি শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।