আগস্ট ২০, ২০১৭ ৭:৩১ অপরাহ্ণ
Home / slide / গাইবান্ধায় আদিবাসীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

গাইবান্ধায় আদিবাসীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ বাগদাফার্মে আদিবাসীদের হত্যা, উচ্ছেদ, ঘরবাড়ি ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে আদিবাসী ছাত্র পরিষদ ।

শনিবার সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে রাজশাহী মহানগরীর গনকপাড়া মোড় থেকে শুরু হয়ে  প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিভূতী ভূষণ মাহাতোর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিঠুন কুমার উরাও, সহ-সভাপতি যাকোব এক্কা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সভাপতি হেমন্ত মাহাতো, সাধারণ সম্পাদক নকুল পাহান, রাজশাহী কলেজ শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক দুলাল মাহাতো, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাবিত্রী হেমব্রম প্রমূখ।

সংহতি বক্তব্য রাখেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক দীপেন চাকমা, সহ-সাধারণ সম্পাদক দীপন চাকমা প্রমূখ।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা ০৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের বাগদাফার্মে পুলিশ ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের হামলা চালিয়ে আদিবাসীদের ঘরবাড়ি ভাংচুর, নির্যাতন, ও গুলিকরে হত্যার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, গোবিন্দগঞ্জের বাগদাফার্মে হামলা চালিয়ে আদিবাসী হত্যা, উচ্ছেদ, ঘরবাড়ি ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনের ঘটনায় গৃহহীন আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আদিবাসীদের বাপ-দাদার পৈতিৃক সম্পত্তি ফেরতের দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য যে, তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান সরকার রংপুর (মহিমাগঞ্জ) সুগার মিলের ইক্ষু ফার্ম করার জন্য ১৮৪২.৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। এর ফলে উক্ত মৌজার ১৫ টি আদিবাসী গ্রাম ও পাঁচটি বাঙ্গালি গ্রামের বাসিন্দারা উচ্ছেদ হয়।

উচ্ছেদের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানবেতর জীবন-যাপন করতে বাধ্য হয়। সবচেয়ে বিপদের সম্মূখীন হয় আদিবাসীরা। সম্পত্তিতে ইক্ষু চাষের পরিবর্তে যদি কখনো অন্য ফসল উৎপাদিত হয় তাহলে অধিগ্রহণকৃত ১৮৪২.৩০ একর সম্পত্তি পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন সরকার বরাবর ফেরৎ (সারেন্ডার) প্রদান করবেন।

সরকার সম্পত্তি গ্রহণ করে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবেন। মহিমাগঞ্জ সুগার মিল কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি, অব্যস্থাপনা ও মিলের ক্ষতি সাধন হওয়ায় ৩১ মার্চ ২০০৪ সালে  সুগার মিলটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তুু  চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে সমস্ত সম্পত্তিতে ইক্ষু চাষের পরিবর্তে ধান, গম, ভূট্টা, তামাক, সরিষা আলু, ইত্যাদি ফসল চাষাবাদ করছে এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি ও দালালচক্রের কাছে মহিমাগঞ্জ সুগার মিল কর্তৃপক্ষ উক্ত সম্পত্তি লীজ প্রদান করেছেন।

এমতাবস্থায় ভূমিহারা আদিবাসী ও প্রান্তিক কৃষকগণ অধিগ্রহণকৃত ১৮৪২.৩০ একর সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় সরকারের নিকট আবেদন জানায়।

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড

সাহেব-বাজার ডেস্ক : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ওজনের বোমা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *