Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী, বিদায় তামিমদের– বিস্তারিত....
  • নাটোরে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও সাংবাদিক নান্টুর মায়ের ইন্তেকাল– বিস্তারিত....
  • রাজশাহীতে ছাত্রমৈত্রীর প্রতিষ্ঠাবাষির্কী পালিত– বিস্তারিত....
  • রাজশাহীর সংবাদপত্রগুলোতে নিয়োগপত্রের দাবিতে আরইউজে’র স্মারকলিপি– বিস্তারিত....
  • নছিমনের ধাক্কায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত– বিস্তারিত....

দিগরামের আরও তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ‘অশ্লীল’ কথা বলার অভিযোগ

নভেম্বর ১১, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোদাগাড়ী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দিগরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগরিক শহিদুল ইসলাম সম্প্রতি ওই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় আটক হয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শহিদুল ইসলামের নামে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। শহিদুল এখন কারাগারে।

এবার ওই স্কুলের আরও তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ‘অশ্লীল’ কথা বলার অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের শিক্ষার্থীরা ওই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছে। এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয় না বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

অভিযুক্ত তিন শিক্ষক হলেন, সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম ও আবদুর রাকিব এবং শাখা শিক্ষক হুমায়ুন কবীর। এসব শিক্ষক স্কুলের ছাত্রীদের নানাভাবে যৌন হয়রানি করেন বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, এসব শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ‘অশ্লীল’ ও ‘আপত্তিকর’ কথা বলেন। জন্ম নিরোধক সামগ্রী থাকার অজুহাতে তারা ছাত্রীদের ভ্যানেটি ব্যাগও তল্লাশি করেন। এসবের প্রতিবাদ করলে শিক্ষার্থীদের শারিরীক নির্যাতন করা হয়। কখনও কখনও তাদের স্কুল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেখানো হয়। গত বছর এসবের প্রতিবাদ করায় এক ছাত্রকে টিসি দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, এসব বিষয় নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানের কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয় না। অভিযোগ করলে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে না দেয়ার হুমকি দেন। গত ৩ নভেম্বর রাতে গ্রন্থাগরিক শহিদুল ইসলাম জৈটাবটতলা গ্রামে সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রীর ঘরে ঢুকলে বাইরে পাহারায় ছিলেন শাখা শিক্ষক হুমায়ুন কবীর। তবে ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাখা শিক্ষক হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, ‘ঘটনা শুনে সেদিন আমি রাত ১২টার পর ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। অভিযোগটি সত্য নয়। আর ছাত্রীদের অশালীন কথা বলার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয়। আমি কাশের বাইরে কোনো ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলি না।’

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে শুক্রবার বিকেলে অন্য দুই শিক্ষককেও ফোন করা হয়। কিন্তু তারা ফোন না ধরায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণির অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানের শ্যালক শরিফুল ইসলাম। শরিফুল ইসলামের শ্যালক হুমায়ুন কবীর। আর হুমায়ুনের দূর সম্পর্কের মামা ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার গ্রন্থাগরিক শহিদুল ইসলাম। প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানের একটি বইয়ের দোকান রয়েছে। এসব শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের বইয়ের দোকান থেকে নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করেন। তাছাড়া ওই তিন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা থেকে কিছু টাকা ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করে প্রধান শিক্ষককে দেন। এ জন্য প্রধান শিক্ষক ওই তিন শিক্ষকের অপকর্মের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেন না। বাধ্য হয়ে তারা সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সত্য নয়। গ্রন্থাগরিক শহিদুলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কী না তা তিনি জানেন না। শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা কেটে নেয়া এবং গাইড বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন প্রধান শিক্ষক।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবদুল আজিজ বলেন, লিখিত অভিযোগের বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে জানিয়েছেন। তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন। প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল কবীর বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি গ্রন্থাগরিক শহিদুলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র তাকে দেওয়া হয়নি।

তিনি জানান, স্কুলের অন্য তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার কাছে যে লিখিত অভিযোগ হয়েছে, তিনি সেটি তদন্ত করে দেখছেন। প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।