Ad Space

তাৎক্ষণিক

ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, রুয়েট বন্ধের ঘোষণা

নভেম্বর ১১, ২০১৬

রাবি প্রতিবেদক : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববদ্যিালয় (রুয়েট) সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় একাডেমেকি কাউন্সিলের জরুরি এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।  একাডেমেকি কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার বেলা ৩টার মধ্যে শিক্ষার্থীদেরকে হল ত্যাগ করতে হবে। আগামী ১৮ নভেম্বর সকাল ৯টায় হলগুলো খুলে দেওয়া হবে।

রুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এন. এইচ. এম কামরুজ্জমান সরকার এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ক্যাম্পাসে হঠাৎ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগের সভাপত্বিতে একাডেমেকি কাউন্সিলের জরুরি সভায় রুয়েট সাত দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

রুয়েট সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রুয়েট ছাত্রলীগ কর্মী তপু ও সাখওয়াত গ্রুপের মধ্যে কয়েকিদন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সম্প্রতি শহীদ আবদুল হামিদ ও শহীদ জিয়াউর রহমান হলে কয়েকটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় ওই দুই গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে শহীদ আবদুল হামিদ হলে দুই গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হলের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

রুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান হিমেল বলেন, রুয়েটে এখনো এমন কিছু ঘটেনি যে ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করতে হবে। আমি শুনেছি গত রাতে বহিরাগত কিছু ছেলে এসে ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এর দায় প্রশাসন না নিয়ে উপরন্তু তারা ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করলো।’

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবীর জানান, ‘রুয়েট শিক্ষার্থীদের মধ্যে গোন্ডগোল হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করছিলাম। এজন্য ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করাও হয়েছিলো।’

এর আগে গত মঙ্গলবার রুয়েটের জিয়া হল থেকে চারটি ল্যাপটপ চুরি হয়। হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার করতে রুয়েটের সহকারী ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা সম্পাদক সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় ওই হলের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালাতে গেলে রুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সাকিল কবীর বাধা দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ শঙ্কর সাকিলকে চড় মারেন। এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই শিক্ষককে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে আটকে রাখেন। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং রুয়েট ছত্রালীগের মধ্যে উত্তেজনা চলছিলো।