Ad Space

তাৎক্ষণিক

  • কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী, বিদায় তামিমদের– বিস্তারিত....
  • নাটোরে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও সাংবাদিক নান্টুর মায়ের ইন্তেকাল– বিস্তারিত....
  • রাজশাহীতে ছাত্রমৈত্রীর প্রতিষ্ঠাবাষির্কী পালিত– বিস্তারিত....
  • রাজশাহীর সংবাদপত্রগুলোতে নিয়োগপত্রের দাবিতে আরইউজে’র স্মারকলিপি– বিস্তারিত....
  • নছিমনের ধাক্কায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত– বিস্তারিত....

পশুপাখির ওষুধ দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিষাক্ত চোলাই মদ!

নভেম্বর ১০, ২০১৬

বিশেষ প্রতিবেদক : চোলাই মদ তৈরিতে ইথাইল অ্যালকোহলের সঙ্গে পিরিডিন জাতীয় জৈব খার, মিথানল, ইউরিয়া, নিশাদল, বাখরবড়ি, এনজেল পাউডার ও গুলের মতো ক্ষতিকর পদার্থের ব্যবহার তো অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। এবার চোলাই মদ তৈরি করতে কারিগররা মেশাচ্ছে মুরগি-পশুপাখির চিকিৎসার কাছে ব্যবহৃত ‘অক্সভেট’ ওষুধ। নেশার মাত্রা বাড়াতে তারা এ ধরনের ওষুধ চোলাই মদে ব্যবহার করছে। এসব খেয়ে অনেকের মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে।

চলতি বছর রাজশাহী জেলায় চোলাই মদ পানে ১২ জনের মৃত্যুর হয়েছে। এর মধ্যে জুলাই মাসে চারঘাট উপজেলায় ৮, অক্টোবরে তানোরে ১ ও গত দুর্গাপুজায় রাজশাহী মহানগরীতে ৬ জন রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের দিকে এ মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিটি গ্রামে এখন চোলাই মদ বিক্রি হচ্ছে।

চোলাই মদ ব্যবসায়ীরা চুলার আগুনে ভাত ফুটায়। রীতিমতো পচা ভাত ফুটানো হয় যে পাতিলে ওই পালিতের উল্টো অংশে আরো একটে পাতিল উল্টোভাবে বসিয়ে সংগ্রহ করা হয় বাষ্প। তা থেকেই তৈরি হয় চোলাই মদ।

বিভিন্ন গ্রামে এমন দৃশ্য প্রায় সময় চোখে পড়ে। মদ এমনিতেই শরীরের পক্ষে মারাত্বক ক্ষতিকর। তার উপরে নেশার মাত্রা বাড়াতে রাসায়নিক দ্রব্য সঙ্গে মেশানো হচ্ছে মুরগি-পশু পাখি ওষুধ। ফলে ক্রমশই বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা। যোগ হচ্ছে মৃত্যুর সংখ্যাও।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, এ সব ক্ষতিকর রাসায়নিক শরীরে ঢুকলে অসুস্থতা স্বাভাবিক। চোখ, যকৃতের অসুখ থেকে ক্যান্সারসহ যে কোনও ভয়ঙ্কর রোগই সহজেই শরীরে অনুপ্রবেশ করতে পারে। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে মৃত্যু হতে পারে। মিথানল চোখের দৃষ্টি নষ্ট করে দেয়। আর মুরগি পশু পাখির ব্যবহত অক্সিভেট টেবলেট মানবশরীরে ঢুকে কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।

জেলার চারঘাট, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাগমারা, পবা, মোহনপুর, তানোর, গোদাগাড়ী উপজেলায় হরহামাশেই পাওয়া যাচ্ছে এসব চোলাই মদ। বিশেষ করে তানোর ও  গোদাগাড়ী উপজেলায় আদিবাসিদের বসবাস হওয়াই চোলাই মদ বেশি তৈরি হয়।

তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার একাধিক চোলাই মদ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,  মদের আকর্ষণ বাড়াতে সম্প্রতি তারা মুরগি-পশুপাখির ব্যবহত অক্সভেট ওষুধ মেশাচ্ছেন। তাতে চোলাই খাওয়ার পর অল্প সময়েই নেশায় বুঁদ হয়ে যাওয়া যাচ্ছে। নেশার বহর বেড়ে যাওয়ায়, বাড়ছে খদ্দের সংখ্যাও।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর উপজেলার পশু চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, অক্সভেট ওষুধ হচ্ছে উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট। গবাদিপশু-পাখি যখন ঝিম ধরে নাজেহাল হয়ে পড়ে ঠিক তখনই তাদের খাওয়ানো হয়ে থাকে। এ ওষুধ শুধু গবাদিপশু শোষণ ক্ষমতা রাখে। এটি মানবশরীরে প্রবেশ করলে কয়েক মাসের মধ্যে কিডনিকে ড্যামেজ করে দিতে পারে।