Ad Space

তাৎক্ষণিক

১০ টাকার চাল নিয়ে চালবাজি চলছেই

নভেম্বর ৯, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : গরীবের ১০ টাকার চাল নিয়ে চালবাজি চলছেই। রাজশাহীর মোহনপুরে সরকারের খাদ্যবান্ধব (১০ কেজি) চাল বিতরণ না করে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন এক ডিলার। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর নিজেকে বাঁচাতে ওই ডিলার এখন চালের পরিবর্তে টাকা বিতরণ করেছেন। উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুরু থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চাল বিতরণে অভিযোগ উঠেছে। তবে অনিয়মের বেড়াজাল থেকে বেরুতে পারছে না মোহনপুরের ডিলাররা। চাল বিতরণ না করে গোপনে কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠে শুরু থেকেই। এনিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। নড়েচড়ে উঠে প্রশাসন ও ডিলার। ডিলাররা নিজের গা বাঁচাতে ভোক্তাদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে চালের পরিবর্তে টাকা দেয়া শুরু করেছেন।

ধুরইল ইউনিয়নের ডিলার মেসার্স এমএম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান ৬ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকা করে সুবিধাভোগীদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন। এ ইউনিয়নে ৮৮৭, ৯০৫, ৮৯০, ৮৭৫ নম্বর কার্ডপ্রাপ্তদের চালের পরিবর্তে টাকা দিয়েছেন তিনি। নগদ টাকা দিয়ে কার্ডে স্বাক্ষর করেও নিয়েছেন ওই ডিলার। তবে কেউ টাকা নিতে না চাইলে কার্ড বাতিলের হুমকিও দিচ্ছেন ডিলার ও তার লোকজন।

একই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চাল বিতরণের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। সরকার ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রি অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ দিলেও রাজশাহীর মোহনপুরের খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অব্যস্থাপনা, সঠিক সময়ে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগে অনিহা, মনিটরিং এবং পরিদর্শনের অভাবে ডিলাররা তাদের ইচছামতো চাল বিতরণ করছেন।

চালের পরির্বতে টাকা দেওয়ার বিষয়ে ডিলার মিজানুর রহমানের কাছে যোগযোগ করা হলেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে মোহনপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পারভীন জানান, চালের পরিবর্তে যদি কোন ডিলার ভোক্তাদের টাকা দেন তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ প্রেক্ষিতে তদন্ত করে তার প্রতিবেদন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।