Ad Space

তাৎক্ষণিক

নাটোরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ

নভেম্বর ৯, ২০১৬

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরে বাল্যবিয়ে বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে গিয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও জানিয়েছেন তিনি এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত নন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নাটোর সদর উপজেলার লালমনিপুর গ্রামের মকবুল হোসেন। গত ২ নভেম্বর তার ১৩ বছরের মেয়ে সাথী খাতুনকে দেখতে আসে ছেলে পক্ষের লোকজন। সংবাদ পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান ঘটনাস্থলে হাজির হন। আটক করেন মকবুল হোসেন এবং ছেলের অভিভাবক আশরাফুল ইসলামকে। পরে একই ইউপির চেয়ারম্যান ওসমান গণি ভূঁইয়া মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসেন। বিষয়টি ২০ হাজার টাকায় রফাদফা হয় বলে অভিযোগ তার। কিন্তু ফেসবুকে দুই হাজার টাকা জড়িমানার উল্লেখ করে বিষয়টি সদর উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে আপলোড করা হয়। পরবর্তীতে ফেসবুক পেজে দুই হাজার টাকা জড়িমানার উল্লেখ দেখে অবাক হন প্রতিবেশীরা। মকবুল হোসেনের প্রতিবেশী সেন্টু জানান, মকবুল ভাইকে দশ হাজার টাকা এবং ছেলে পক্ষের লোকজনকে দশ হাজার মোট বিশ হাজার টাকা জড়িমানা করা হলেও ফেসবুকে পেজে দুই হাজার টাকা দেখে অবাক হই। বাকি আঠারো হাজার টাকা কোথায় গেল। এমন কাজ অহরহ হচ্ছে।
শুধু মকবুল হোসেন নয়, এমন অভিযোগ শহরের কানাইখালি এলাকার হারুন মন্ডলের স্বজনদেরও। ভাগিনার বাল্যবিয়েতে সহযোগিতার অপরাধে হারুন মন্ডলকে আটক করে আদায় করা হয় দশ হাজার টাকা। এটাও যথারীতি ফেসবুক পেজে এক হাজার টাকার উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গেলে বড়হরিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওসমান গণি ভুঁইয়া জানান, তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারককে জেল জরিমানা না করে অর্থদণ্ড করার অনুরোধ করেছিলেন। টাকা আদান প্রদানের বিষয়ে তিনি অবগত নয়। যদি ২০ হাজার বা দশ হাজার টাকা নিয়ে এক দুই হাজার টাকা উল্লেখ করা হয় তবে তা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এমন ঘটনা বন্ধে প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করবেন বলে জানান তিনি ।
জেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা এমন দুর্নীতির মাঝে জড়িয়ে আছে। ভাল মানুষের আড়ালে এ নোংরামিটা কখনই সহনীয় নয়। তবে দোষী যেই হোক যথাযথ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অপরদিকে, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, চলতি বছরে তিনি শতাধিক বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন। কেউ ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যা অভিযোগ করতে পারে। তার অফিসের কেউ ঘুষ গ্রহণের সাথে জড়িত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অবগত হয়ে সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছেন। ঐ কর্মকর্তা ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি অনুসন্ধান করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে তিনি খেয়াল রাখবেন।